ঢাকার কাগজে দেখলাম খবরটা দায়সারাগোছের ছাপা হয়েছে। সেটাই স্বাভাবিক। কারন এ খবর সরকারের জন্য স্বস্তিদায়ক না বা তা তাদের পক্ষে যায় নাই। কিন্তু বিষয়টা কি অতটাই হালকা যতটা নির্বাচন কমিশন বা সরকারের লোকজন বলে বেড়াচ্ছে! পর্যবেক্ষক পাঠাবে না ইউরোপীয় ইউনিয়ন, এই পর্যায়ে এসে নি:সন্দেহে এটা একটা কঠিন বার্তা। যুক্তি দেখিয়েছে, নির্বাচনী পরিবেশ সহিংস থাকবে। এই বাক্যটার অর্থ অনেক। এক. তারা ধরে নিয়েছে যে নির্বাচন হবে তাতে সকল দল অংশ নিচ্ছে না। তার অর্থ- দুই. সরকার একতরফা বা নিজেদের মত একটা নির্বাচনের মকশো করে নিজেদেরকে বিজয়ী ঘোষনা করবে। তিন. বিরোধী দল এই একতরফা নির্বাচন ঠেকাতে সহিংসতার পথ ধরবে। চার. সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যপক ধরপাকর বা কঠিন এ্যাকশনে যাবে। এবং পাঁচ. যে লাউ সেই কদুই, অর্থাৎ বর্তমানের পরিস্থিতিই থেকে যাবে। বিরোধী দল জেলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়!
তো যে নির্বাচনের ফলাফল আগে থেকেই জানা বা নির্দ্ধারিত সে নির্বাচন দেখতে কোন পাগলও আসবে না! মাত্র ক’দিন আগেই বাংলাদেশ প্রশ্নে বেশ কিছু কঠিন প্রস্তাব গ্রহন করেছে তারা। সন্দেহ নাই, এ অবস্থায় বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে এই হতাশা পরিস্থিতিকে আরও জটীল করে তুললো। বলেছে ঘটনাপ্রবাহের ওপর নজর রাখবে এবং তারপরও একটা সুষ্ঠু নির্বাচনে সহযোগীতা অব্যাহত রাখবে। এটা একটা কথার কথা। তবে বলার অপেক্ষা রাখে না এত আগে এমন একটা কঠিন সিদ্ধান্ত আরও অনেক কিছুরই ইঙ্গিতবহ।
যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য এখনও হতাশ না। তারা সব জেনে এবং বুঝেও সরকারী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখার আশায় দিন গুনে চলেছে, অনেকটা সেই ‘দেখি চোরায় কি করে’র মত! তবে তারাও যদি কোন পর্যায়ে এসে হতাশ হয়ে পড়ে, তখন! কেউ আসুক না আসুক, নির্বাচন তো হয়ে যাবে। তারা তো বন্দুক কামান সৈন্য পাঠিয়ে ঠেকাতে আসবে না! তার অর্থ আওয়ামী লীগই সরকারে। তাহলে এই দেড়দুই বছর ধরে সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচন, গনতন্ত্র মানবাধিকার আইনের শাষন সুশাষন নিয়ে যে এত দৌড়ঝাপ, তার কি হবে! চৌদ্দ আঠারোর মত সবাই বসে বসে আঙুল চুষবেন!
হয়তো না। কিছু ব্যবস্থা নেবে। আমেরিকা ভিসা নীতি ঘোষনা করে রেখেছে। একতরফা নির্বাচন করানোর দায়ে হয়তো ইলেকশন কমিশন ওসি ডিসিজাতীয় কয়েক শ’ লোকের নামে ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিলো। ইইউ কিছু বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা বা সুযোগসুবিধা কমিয়ে দিলো। এসবের সাথে সরকারের ক্ষমতায় থাকা না থাকার সম্পর্ক খুবই ক্ষীণ। পৃথিবীর অনেক দেশের ওপর আমেরিকার এমন শতশত ভিসানীতি স্যাংশন দেওয়া আছে যেখানে স্বৈরাচাররা দোর্দন্ড প্রতাপে সরকার চালাচ্ছে। বাস্তবতা হচ্ছে, যে কোন অবস্থায় যে কোন কিছুর বিনিময়ে হলেও এদেরকে ক্ষমতা ধরে রাখতে হবে, কারন স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছেড়ে চলে যাওয়ার কোন পথ তারা খোলা রাখে নাই।
পাদটীকা: যদি তাই হয়, তেমন অবস্থায় বিরোধী দলগুলোর কি হবে সেটাই ভাবছি! সরকারের লোকেরা বলে পিটার হাস নাকি বিএনপির অঘোষিত চেয়ারম্যানের ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। ’১৮তে তো একবার ড: কামাল হোসেনকে গুরু ধরে নিজেরা কাঁচকলা খেয়েছে, এবারও কি শেষ পর্যন্ত তাদের ভালে তেমনই কিছু অপেক্ষা করছে !
সাঈদ তারেক , লেখক এবং সাংবাদিক ।

