রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের একটি রকেটের আঘাতে বিশ্বের সবচেয়ে নিঃসঙ্গ নারীর বাসাটি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগাফ্যা লাইকোভা সাইবেরিয়ার প্রত্যন্ত রাশিয়ান অঞ্চলে বাস করেন। ৭৮ বছর-বয়সী এই সন্ন্যাসী পূর্ব সাইবেরিয়ার তাইগা নামে একটি এলাকায় বাস করেন এবং তিনি সেখানে বসবাসকারী একমাত্র ব্যক্তি। সম্প্রতি তার জীবন ওলটপালট হয়ে গেছে যখন একটি স্যাটেলাইট বহনকারী পোর্টন-এম রকেট থেকে তার জমিতে ভেঙে পড়ে। রাশিয়ান নিউজ আউটলেট নভোস্তি গর্নোগো আলতায়া অনুসারে, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পুতিনের যুদ্ধে লুচ-৫ এক্স স্যাটেলাইটের সামরিক কোনো কার্যকলাপ আছে কিনা তা স্পষ্ট নয়। আগাফ্যা হল তাঁর পরিবারের একমাত্র জীবিত ব্যক্তি যিনি ১৯৩৬ সালে স্ট্যালিনের অধীনে ধর্মীয় নিপীড়ন এবং মৃত্যু এড়াতে প্রত্যন্ত অঞ্চলে পালিয়ে যান। তাঁরা ছিলেন ধর্মপ্রাণ ‘ওল্ড বিলিভার্স’ সম্প্রদায়। ধর্মীয় সংস্কারের বিরোধিতা করে ১৬৬৬ সালে রুশ অর্থোডক্স চার্চ থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছিলেন ‘ওল্ড বিলিভার্স’রা। রাশিয়ান কর্তৃপক্ষ আগাফ্যাকে জীবন নির্ধারণ করতে সাহায্য করেছে এবং দুই বছর আগে তাকে একটি নতুন কাঠের কুটির তৈরী করে দেওয়া হয়েছিল। খাকাস্কি নেচার রিজার্ভের আধিকারিকরা এই সপ্তাহের শুরুতে প্রত্যাশিত রকেট লঞ্চ সম্পর্কে তাকে সতর্ক করার জন্য হেলিকপ্টারে উড়ে এসেছিলেন।
তবে তিনি সাময়িকভাবে কোথাও সরে যেতে অস্বীকার করেন। পশ্চিম সায়ান পর্বতমালায় তার জমিতে গভীর তুষারপাতের মধ্যে বাতাস থেকে একটি রকেটের ধ্বংসাবশেষ দেখা গেছে। রাশিয়ান মহাকাশ কর্মকর্তারা রকেটের ভেঙে পড়া টুকরোটি ভূখণ্ড থেকে সরিয়ে ফেলা শুরু করেছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে থাকলেও আগাফ্যার বাসায় বিদ্যুতের জন্য একটি সোলার প্যানেল এবং জরুরী পরিস্থিতিতে ব্যবহার করার জন্য একটি স্যাটেলাইট ফোন রয়েছে। শীতকালে এই অঞ্চলে তাপমাত্রা নেমে যায় মাইনাস ৫০ ডিগ্রিতে! এই ভয়ঙ্কর পরিবেশেই সম্পূর্ণ একা একা থাকেন ৭৮ বছরের সন্ন্যাসিনী।
সূত্র : dailystar.co.uk

