বুধবার (১৬ নভেম্বর) নগরীর মাসদাইরের বাসভবন থেকে সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভা করেন তিনি।
সভায় তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, ‘আমি কখনো বহুরূপী হইনি। বহুরূপী দল করিনি। এখন বাকিটা দলের ইচ্ছা। দল কী করবে তাদের ইচ্ছা। ইহকাল ও পরকালে আমার একমাত্র মালিক আল্লাহ। কর্মীদের সঙ্গে আমার রক্তের সম্পর্ক। আমার কোনো চাহিদা নেই। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার ও দেশের মানুষের মুক্তির জন্য আসুন সবাই মিলে ১০ ডিসেম্বর মহাসমাবেশ সফল করি।
এ সময় তৈমূর আলম খন্দকার অতীতের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘ইতিপূর্বে বিএনপির সমাবেশে ঢাকার আশপাশের সব জেলার চেয়ে সবচেয়ে বেশি লোক নিয়ে গিয়েছি আমরা। আমার বই উদ্বোধনের দিন মহাসচিব নিজে স্বীকার করেছিল ঢাকার সমাবেশে সবচেয়ে বড় মিছিল নিয়ে আসে তৈমূর আলম খন্দকার। এবার আমি বহিষ্কৃত, তবে তাতে কিছু আসে-যায় না। আপনাদের তৈমূরের নেতৃত্বেই ঢাকায় সবচেয়ে বড় মিছিলটি হবে।
চলতি বছর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সর্বশেষ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করায় প্রথমে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এবং পরে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয় তৈমূর আলম খন্দকারকে। সে সময় তিনি বলেছিলেন ‘আমার পদ লাগে না, চেহারাই বিএনপি’।
সিটি নির্বাচনে পরাজয়ের পর কিছুদিন চুপচাপ থাকলেও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে শহর ও বন্দরের অর্ধশতাধিক স্পটে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রাখেন তিনি। দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে অংশ নিয়ে খাবার বিতরণও করেছেন।
এ প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, ‘আমরা তো মানুষের দল, মানুষের জন্য কাজ করি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন স্বাধীনতার মূর্ত প্রতীক। তার লড়াই ছিল দেশ ও দেশের মানুষের জন্য। তার আদর্শকে বুকে ধারণ করে আজ আমরা দেশের এই দুঃশাসন মুক্ত করার স্বপ্ন দেখছি’।
বিগত সিটি নির্বাচনে তৈমূর আলম খন্দকার প্রার্থী হলে প্রতীক বরাদ্দের আগেই তাকে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত একাই লড়াই করেছেন। ৬৬ হাজার ভোটে পরাজিত হয়েছেন। নির্বাচনের দুদিন পর ১৮ জানুয়ারি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত চিঠিতে তৈমুর আলম খন্দকারকে বহিষ্কার করা হয়। চিঠিতে বলা হয়, ‘দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির গঠনতন্ত্র মোতাবেক দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো’। চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি বহুল আলোচিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সরকারদলীয় মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী নৌকা প্রতীকে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তৈমূর আলম খন্দকার হাতি প্রতীকে পান ৯২ হাজার ৫৬২ ভোট।

