Khalida Jarrar, Palestine

দুই বছর কারাবাসের পর মুক্তি পেলেন ফিলিস্তিনি এমপি খালেদা জারার

দুই বছর কারাবাসের পর ফিলিস্তিনি রাজনীতিবিদ ও প্যালেস্টিনিয়ান লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সগস্য খালেদা জারারকে মুক্তি দিয়েছে ইসরাইল।

রোববার বিকেলে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড পশ্চিম তীরের জেনিন শহরের কাছে সালেম চেক পয়েন্টে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ।

এর আগে ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর পশ্চিম তীরের রামাল্লা শহরের নিজ বাড়ি থেকে ফিলিস্তিনি বামধারার রাজনৈতিক দল পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইন (পিএফএলপি) দলীয় এই রাজনীতিবিদকে গ্রেফতার করে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। এর মাত্র আট মাস আগেই ইসরাইলি কারাগারে প্রশাসনিক আটকাদেশের অধীনে ২০ মাস বন্দী থাকার পর মুক্তি পেয়েছিলেন তিনি।

চলতি বছরের জুলাইয়ে খালেদা জারারের মেয়ে সুহা জারার রামাল্লায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ৩১ বছর বয়সী মেয়ের মৃত্যুতে খালেদা জারারকে সাময়িক মুক্তি দেয়ার আবেদন করা হলেও তা প্রত্যাখ্যান করে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ।

রোববার মুক্তির পরপরই রামাল্লা কবরস্তানে মেয়ের কবর জেয়ারতে যান খালেদা।

এই সময় খালেদা জারারের পরিবার, পিএফএলপি নেতৃবৃন্দ, রামাল্লার গভর্নর লায়লা গনিম ও সাংবাদিকসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

কবরস্তানে সাংবাদিকদের খালেদা বলেন, ‘তারা আমাকে আমার প্রিয় মেয়ের জানাজায় অংশ গ্রহণে বাধা দিয়েছে এবং শেষবারের মতো আমার মেয়ের কপালে চুমু দিতে বঞ্চিত করেছে।’

কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, ‘তাকে শেষবারের মতো বিদায় দিতে আমাকে তারা ফিরিয়ে রেখেছে। ২০১৯ সালে আমাকে গ্রেফতারের রাতে শেষবার আমি সুহাকে জড়িয়ে ধরেছিলাম।’

উপস্থিত এক জ্যেষ্ঠ পিএফএলপি নেতা বলেন, ‘এটি প্রকৃতপক্ষেই মর্মান্তিক মুহূর্ত এবং গভীর এই দুঃখকে কোনো শব্দ দিয়ে প্রকাশ করা যায় না। আমরা আনন্দিত যে জারার দখলদারদের কারাগার থেকে মুক্ত।’

এই বছরের মার্চ পর্যন্ত প্রশাসনিক আটকাদেশের পর খালেদা জারারের বিরুদ্ধে ইসরাইলি সামরিক আদালত ‘বেআইনি সংগঠনের সদস্য হওয়ার’ অভিযোগ আনে।

ফিলিস্তিনি সকল রাজনৈতিক দলসহ মোট চার শ’র বেশি সংগঠনকে ইসরাইল সন্ত্রাসের অভিযোগে বেআইনি সংগঠন হিসেবে ঘোষণা দিয়ে রেখেছে।

ফিলিস্তিনিদের রাজনৈতিক সংযোগ বা যেকোনো প্রকার শান্তিপূ্র্ণ তৎপরতার জন্য প্রায়ই তাদের বিরুদ্ধে ইসরাইলি বিচার বিভাগ ‘বেআইনি সংগঠনের সদস্য হওয়া’ বা ‘বেআইনি সংগঠনকে সহায়তার’ অভিযোগে দণ্ডিত করে আসছে।

খালেদা জারার তার রাজনৈতিক তৎপরতা ও প্রতিবাদী প্রকৃতির জন্য দীর্ঘদিন থেকেই ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের লক্ষ্যবস্তু হয়ে আছেন।

৫৮ বছর বয়সী খালেদা জারার গত ছয় বছর ধরে ইসরাইলি কারাগারে যাওয়া-আসার মধ্যেই রয়েছেন। ১৯৮৮ সাল থেকেই চিকিৎসার জন্য তিন সপ্তাহের জন্য জর্দানের রাজধানী আম্মান সফর ছাড়া আর সব ধরনের বিদেশ সফরে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে ইসরাইল।

২০০৬ সালে সর্বশেষ প্যালেস্টিনিয়ান লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের নির্বাচনে খালেদা জারার পিএফএলপি থেকে সদস্য নির্বাচিত হন।

সূত্র : আলজাজিরা

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.