৬০ দশকের শেষের দিকে শেখ মুজিবর রহমান যখন জেলে তখম আমি স্কুল বালক , সেই সময়ে স্কুলে নবম এবং দশম শ্রেণীর ছাত্ররা মাঝেই মাঝেই স্ট্রাইক করে ক্লাস থেকে বের হয়ে মিছিল করে শ্লোগান দিত , জেলের তালা ভাঙ্গতে হবে শেখ মুজিবকে আনতে হবে । আমি তখন ষষ্ঠ শ্রেণীতে উঠেছি মাত্র । সেই সময়ে শেখ মুজিবের মুক্তির আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে । পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের পদত্যাগের দাবীতে ঢাকা তখন মিছিলে মিছিলে উত্তাল আমিও সেই মিছিলে যোগ দিয়ে তাদের সাথে শ্লোগান দিতাম শেখ মুজিবের মুক্তির জন্য । তিনি তখন বঙ্গবন্ধু উপাধি পান নি , তার নামের আগে বলা হতো এশিয়ার লৌহ মানব, বাংলার নয়ন মনি , বঙ্গ শার্দূল , সেই কিশোর বয়সেই আমার রাজনীতি শুরু , আমার বড় মামা ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা , তার সংস্পর্শে রাজনীতিতে আমার অভিষেক । তারপর অনেক কাহিনী । তা এখানে আর উল্লেখ করছি না ।
আমি বঙ্গবন্ধুকে প্রথম দেখি ১৯৭০ সালে তিনি আমাদের এলাকায় বন্যা পরিদর্শনে এসেছিলেন । তার জন্য আমাদের মাঠের কাছে একটি বৈঠক খানার বারান্দায় তার বসার ব্যবস্থা করা হয়েছিলো , তিনি যেখানে বসেছিলেন তার চেয়ারের পাশেই আমি দাড়িয়ে ছিলাম । উনাকে খুব কাছে থেকে এটাই আমার প্রথম দেখা । তারপর পুরান ঢাকার আরমানিটোলা মাঠে জনসভা এবং ৭ ই মার্চ রেসকোর্সে জনসভা ১৯৭১ সালে , মার্চ মাসে পল্টন ময়দানে ছাত্রলীগের জনসভায় , তার প্রত্যাবর্তনের দিন ১৯৭২ সালের ১০ ই জানুয়ারি , সেই সময় আমি স্কুল বালক । সময় ও সম্পর্কের যে দূরত্ব রচিত হলে কাউকে শ্রদ্ধার এবং নিরেপেক্ষতার সাথে দেখা যায় সেই দূরত্ব এখনও আমাদের বোধ বুদ্ধিতে তৈরি হয়নি, তাই তাকে এখনও সর্বজনীন করে তোলার সংগ্রামে আমরা সফলতার দ্বার প্রান্তে পৌঁছতে পারিনি ।তার মর্মান্তিক মৃত্যু আমাদের জন্য খুব বেদনাদায়ক, মানুষ স্বাভাবিকভাবেই মরণশীল কিন্তু তার সৃষ্টি অমর, বঙ্গবন্ধু যে বাংলাদেশ সৃষ্টি করে গেছেন তা কখনও মরবে না, তা অমর, আর বাংলাদেশের মধ্যেই বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকবেন , বঙ্গবন্ধুও অমর । আজ তার মৃত্যু দিনে তাকে স্মরণ করছি গভীর শ্রদ্ধার সাথে ।
হাবিব বাবুল, প্রধান সম্পাদক, শুদ্ধস্বর ডটকম ।

