ফ্রাঙ্কফুর্ট বই মেলা শুরু হওয়ার অাগের দিন কলোন থেকে ট্রেনে রাইন নদী দেখতে দেখতে ফ্রাঙ্কফুর্টে অাসি। ফ্রাঙ্কফুর্টে যার বাড়িতে বরাবর থাকি হামিদুলের সঙ্গে অালাপ করি হ্যারি পটারের বিষয়। সেও জানে বইটা সম্পর্কে। ওর স্ত্রী সিলকে বললো দারুণ বই। লাইসেন্সের জন্য চেষ্টা করো। রাতে হাবিবুল্লাহ বাবুলের সাথে কথা বললাম। সে বুদ্ধি দিল লাইসেন্সে হলে যাওয়ার অন্য কোনো এপয়েন্টমেন্ট অামার যদি থাকে তা হলে সেই হলে ঢুকেই অাপনি রোওলিংয়ের এজেন্টের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেন। অামি বললাম তা হয় নাকি। অামার একটা এপয়েন্টমেন্ট পাস অাছে অবশ্য সেখানে যাওয়ার। অারেকটা এজেন্সির সাথে কাজ অাছে তাদেরই পাস। বাবুল হেসে বললো বঙ্গালি ট্রিকস। কাজ হলে হতেও পারে। অামি হাসলাম। অামার দ্বারা এই কাজ কখনই সম্ভব না।
বই মেলার টিকিট থাকলেও ওই টিকিটে সকল স্থানে যাওয়া সম্ভব না। বইয়ের কপি রাইট যে হলে বিক্রি হয় সেটা প্রোটেকটেড এরিয়া। ওখানে ঢুকতে কনফার্ম এপয়েন্টমেন্ট লাগবে। এপয়েন্টমেন্টের ভিত্তিতে ওই দিনে ওই সময়ের জন্য পাস ইস্যু হবে। মার্শ এজেন্সিতে অারেকটা বইয়ের অামার এপয়েন্টমেন্ট ছিল শুক্রবারে। মেলা শেষ হয় রবিবারে। শনি ও রবিবার মেলা সকলের জন্য খোলা। ট্রেডের কাজ শুক্রবার শেষ হয় বড় কর্তারা শেষ দুদিন থাকেন না। অামি মার্সের টেবিলে যাওয়ার পথেই পাই রোওলিংয়ের এজন্ট খ্রিস্টোফার লিটিলয়ের টেবিল। ওখানে একটু দাড়ালাম। তাঁরা ব্যস্ত কথা বলছেন ভিজিটরের সাথে। অামি একটু কাছে গিয়ে দাড়াই। একটু পরেই ভিজিটররা উঠছেন। অার যে মহিলা দাড়িয়ে ওদের বিদায় জানাচ্ছিলেন অামার দিকে তাকিয়ে হেসে বসতে বললেন। ভেবেছিলেন তাদের পরবর্তী এপয়েন্টমেন্ট অামার সাথে।যখন অামার পরিচয় জানালাম তখন বললেন তোমার সাথে তো অামাদের কোনো এপয়েন্টমেন্ট নাই। অামি বললাম অামি তোমাদের অনেক লিখেছি উত্তর দাওনি। অামাকে একটা এপয়েন্টমেন্ট দাও। কথা বলার মাঝেই এক থাই পাবলিশার্স এসে হাজির। ওদের সাথেই এপয়েন্টমেন্ট। অামাকে ভদ্রমহিলা বললেন রোববার এগারটায় একটু খালি অাছি সেদিন এসো। হয়তো ওরা ওদের কাজের জীবনে এরকম পরিস্থিতে কখনো পড়েনি। . . .
চলবে ।

