নগ্ন ছবি ভাইরালের হুমকি স্বামীর, লজ্জায় স্ত্রীর আত্মহত্যা

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে এক গৃহবধূকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নগ্ন ছবি ভাইরাল করে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন তার স্বামী মনু মিয়া। এ ঘটনায় লোক লজ্জার ভয়ে আত্মহত্যা করেছেন ওই গৃহবধূ রোজিনা আক্তার। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার মৌকরা ইউপির ময়ুরা মাধ্যম পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

রেজিনা উপজেলার মৌকরা ইউনিয়নের ময়ুরা মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের মেয়ে।

মনু মিয়া-রোজিনা আক্তার দম্পতির একটি মেয়ে রয়েছে। তার নাম মারিয়া আক্তার (৭)।

এ দিকে রোজিনা আক্তারের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে প্রথম স্বামীর সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ হয় রোজিনা আক্তারের। দেড় বছর আছে উপজেলার রায়কোট দক্ষিণ ইউনিয়নের বেতাগাঁও গ্রামের প্রবাসী মনু মিয়ার সাথে দ্বিতীয় বিয়ে হয় রোজিনার। কয়েক মাস রোজিনার স্বামী মনু মিয়া দুবাই চলে যান। মনু মিয়া দুবাই যাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝগড়া শুরু হয় রোজিনার। এ নিয়ে মনু মিয়া রোজিনার ছোট ভাইকে তার নগ্ন ছবি পাঠাতে চায়। এ ছাড়া ওই নগ্ন ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করার হুমকি দিয়ে আসেন মনু মিয়া।

রোজিনার ছোট ভাই রাকিব হাসান বলেন, আপুর আগে একটি বিয়ে হয়েছে। ওই ঘরে মারিয়া আক্তার নামে একটি মেয়ে রয়েছে। মঙ্গলবার রাতে মা, আপু ও মারিয়া খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে যায়। একই ঘরের একটি কক্ষে আমি থাকি। অন্য কক্ষে আপু ও তার মেয়ে থাকেন। রাত আনুমানিক ৩টার পর আপুর মেয়ে মারিয়া এসে বলেন, মামা আমি বাইরে যাবো। আমি তাকে তার আম্মুকে বলতে বলি। এ সময় তার কক্ষে গিয়ে দেখি আপুকে ঘরের আড়ার সাথে ওড়না দিয়ে ফাঁস দেয়া অবস্থায় ঝুলছে। ওড়না খুলতেই লাশ মাটিতে পড়ে যায়। এর আগে আপু আর দুলাভাই মোবাইলে ঝগড়া করছিলেন। বিভিন্ন সময় দুলাভাই আমার মোবাইলে আপুর নগ্ন ছবি পাঠাতেন।

রোজিনা আক্তারের মা মোমেনা বেগম বলেন, আমার মেয়ের জামাই তার নগ্ন ছবি বিভিন্ন লোকের কাছে পাঠাতো। এ ছাড়া সে আপন ছোট ভাইয়ের (শালার) ফোনেও পাঠাত। সে তাদের স্বামী-স্ত্রীর নগ্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ভাইরাল করার হুমকি দিয়ে আসছে। এতে লোক লজ্জার ভয়ে আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে।

এ ব্যাপারে নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ স ম আব্দুর নুর বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.