বুক উঁচিয়ে নিজেকে গ্রেপ্তারের দাবি জানালেন ডা. জাফরুল্লাহ, সঙ্গে ছিলেন নুর

কারাগারে বন্দি ছাত্রদের মুক্তি না দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী। গত মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আগমনবিরোধী বিক্ষোভ থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর পুলিশের দায়ের করা সংঘাতের মামলায় যেসব শিক্ষার্থী কারাগারে বন্দি রয়েছেন তাদের মুক্তি দাবি করেছেন তিনি। অন্যথায় তাকেই গ্রেপ্তার করতে সরকারের কাছে বুক উঁচিয়ে দাবি জানান এই মুক্তিযোদ্ধা।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী সরকারে কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘যে সব ছাত্রনেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের অপরাধটা কী? কাউকে খুন করেছে? কাউকে বলাৎকার করেছে? কারও কাছ থেকে টাকা ছিনতাই করেছে?’

নিজেকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ওই ছাত্ররা শুধু মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলেছে। এটা যদি অপরাধ হয়ে থাকে, তাহলে আমিও এই একই অপরাধে অপরাধী। আমাকেও গ্রেপ্তার করুন।’

বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের গ্রেপ্তার নেতাদের মুক্তির দাবিতে আজ সোমবার (৩ মে) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘উদ্বিগ্ন অভিভাবক সমাজ’ ব্যানারে অবস্থান কর্মসূচিতে একথা বলেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এই অবস্থান কর্মসূচিতে গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্য ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ওই সব মামলায় ছাত্র পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি, ডা্কসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেনসহ ৫৬ জন ছাত্রনেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে কর্মসূচিতে জানান সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর।

এসব ছাত্রদের মুক্তির বিষয়ে সার্বিক ব্যবস্থা নিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে আহ্বান জানান জাফরুল্লাহ।

কর্মসূচিতে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক, ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘একটি সরকার কতটা দুর্বল হলে ৩৫ জন ছাত্রের ভয়ে কাঁপতে থাকে। সরকার তাদের গ্রেপ্তার তো করেছেই, এরপর নির্যাতন করেছে, তাদের রিমান্ডে নিয়েছে। ছাত্রনেতারা এমন কী করেছে যে তারা জামিন পাবে না? তাদের জামিন দেওয়া হবে না কেন?’

ঢাকসুর সাবেক ভিপি নুর বলেন, ‘ছাত্রনেতাদের গ্রেপ্তার করেই সরকার বিষয়টি সমাপ্ত করেনি। বরং যারা বাইরে আছে, তাদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করারও চেষ্টা করেছে।’

গ্রেপ্তারকৃত ছাত্রনেতাদের ঈদের আগে মুক্তি দেওয়া না হলে রাজপথে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন নুরুল হক নুর

কর্মসূচিতে সংহতি জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, গণসংহতি আন্দোলনের আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব রফিকুল ইসলাম বাবলু, মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর প্রমুখ।

 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.