ভারতের গণ্ডি পেরিয়ে লন্ডনেও ছড়াল বিক্ষোভ

দিল্লির পর লন্ডনেও শুরু বিক্ষোভ। বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত আন্দোলনকারীদের পাশাপাশি সরকারপন্থী দলের সমর্থকেরাও। শুক্রবার লন্ডনে এমনই নজিরবিহীন ঘটনা দেখা গিয়েছে। ভারতীয় হাই কমিশনের (ইণ্ডিয়া হাউস) সামনে আন্দোলনে মুখোমুখি শামিল হন আন্দোলনকারী পড়ুয়া ও সরকার সমর্থকদের দুটি দল।

 

সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, স্টুডেন্টস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (এসএফআই), ইউকে-র আহ্বানে ‘স্ট্যান্ড ইন সলিডারিটি’ ব্যানারে একটি বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। যেখানে ভারতের ভোট প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।

চলতি সপ্তাহের শুরুতেও দিকে এমনই একটি জরুরি প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করেছিল এসএফআই, ইউকে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই শুক্রবারও একটি কর্মসূচির ডাক দেয় বামপন্থী ছাত্র সংগঠন। ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) একাধিক দাবি— মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া বাতিল করার দাবিকে বিদেশের মাটিতেও তুলে ধরা ছিল বিক্ষোভের মূল উদ্দেশ্য।

কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা এড়াতে মেট্রোপলিটন পুলিশ সতর্কতা অবলম্বন করে অবস্থান নিয়ে সিড়ি দিয়ে আন্দোলন সমর্থনকারী এবং ভারতের কেন্দ্র সরকারপন্থী সমর্থকদের আলাদা করে রাখেন। উভয় পক্ষই দেশের জাতীয় পতাকা হাতে বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত ছিল। এসএফআই সদস্যরা এর পাশাপাশি ‘আজাদী’ ও ‘সারে জাঁহা সে আচ্ছা’ স্লোগানও দেন। অন্যদিকে, সরকারের সমর্থকেরা ‘ভারত মাতা কী জয়’ ও ‘মোদী, মোদী’ স্লোগান তুলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি বিশাল পোস্টারও প্রদর্শন করেন।

এসএফআই ইউকে-র তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “আমরা ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া আমরা কোনওমতেই মেনে নেব না। পুলিশি হিংসাও বরদাস্ত করব না। আমরা ভারতীয় গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থেই লড়াই করছি।” ছাত্রদের তরফে ‘জয় ভীম’ স্লোগান দেওয়া হলে পাল্টা সরকারের সমর্থকেরাও লাউডস্পিকারে স্লোগান তোলে। তাতেই এলাকার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

সরকার সমর্থক বিক্ষোভকারীদের তরফে প্রবাসী ব্যবসায়ী রাহুল কালে জানান, মোদী সরকারের অধীনে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নত হয়েছে। বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ায় ভারত নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। তাই দেশে এই ধরনের অযৌক্তিক প্রতিবাদ বিদেশে বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট করছে। অন্যদিকে, ‘ইন্ডিয়ান ডায়াসপোরা ইন দ্য ইউকে’-র পরিচালক হৃদেশ গুপ্তও প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের উপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেন। পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবারের ঘটনার পর আগামী দিনেও লন্ডনে এ ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Discover more from শুদ্ধস্বর ডটকম

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading