তেরঙ্গা মিছিলের আগে অভিজিৎ দীপকের বাড়িতে দিল্লি পুলিশ

 তেরঙ্গা মিছিল ঘিরে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে দিল্লিতে। শুক্রবার ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের বাড়িতে পৌঁছল দিল্লি পুলিশ। দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে সিজেপি-র ‘লেহরা দো তেরঙ্গা’ কর্মসূচির কয়েক ঘণ্টা আগেই হাজির হন পুলিশ আধিকারিকরা। দীপকের হাতে তাঁরা একটি আইনি নোটিস তুলে দেন। সেখানে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমায়েত বা মিছিল না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

শুক্রবার বিকেল ৫টায় সেন্ট্রাল পার্কে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ডাক দিয়েছিলেন দীপক। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে এই কর্মসূচির ডাক দিয়েছিস সিজেপি। তাদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে। সেই প্রতিবাদের অংশ হিসেবেই জাতীয় পতাকা হাতে জমায়েতের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

 

তবে কনট প্লেস এলাকায় জমায়েতের অনুমতি দেয়নি পুলিশ। প্রশাসনের তরফে নিষেধাজ্ঞার কথা জানানো হয়েছে। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস)-র ১৬৩ ধারা অনুযায়ী জারি করা বিধিনিষেধের পাশাপাশি সেন্ট্রাল পার্ক দু’দিন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি পুরসভা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং এলাকার ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে সম্ভাব্য প্রভাবের কথা মাথায় রেখেই এই পদক্ষেপ বলে জানানো হয়েছে।

পুলিশের সঙ্গে কথোপকথনের একটি ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, জাতীয় পতাকা কাঁধে নিয়ে নোটিসের বিষয়বস্তু পড়ছেন দীপক। পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে সমাজমাধ্যমে সাধারণ মানুষকে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে বলে নোটিস পড়ে দাবি করেন তিনি। পাল্টা প্রশ্ন তুলে দীপক বলেন, কোন ভিডিয়োয় তিনি হিংসায় উস্কানি দিয়েছেন, তা পুলিশ দেখাক। তাঁর বক্তব্য, জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কর্মসূচিকে অপরাধ হিসেবে দেখা হচ্ছে কেন, সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে প্রশাসনকে।

এর আগেই গ্রেপ্তারির আশঙ্কাও প্রকাশ করেছিলেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা। বৃহস্পতিবার রাতে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানিয়েছিলেন, জাতীয় পতাকা উত্তোলনের জন্য জেলে যেতে হলেও তিনি প্রস্তুত। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। দলের দুই সদস্য সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা আগের বিক্ষোভের ঘটনায় বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন বলেও জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

সিজেপির দাবি, তাদের আন্দোলনের লক্ষ্য সরকার পরিবর্তন নয়, বরং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরিয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন কমিশনার নিয়োগ করা। অন্যদিকে, প্রশাসনের জানিয়েছে অনুমতি ছাড়া জমায়েত বা মিছিল করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ফলে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শুক্রবার দিল্লির রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Discover more from শুদ্ধস্বর ডটকম

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading