‘আলহামদুলিল্লাহ। র্যাংকিংয়ে দুই নম্বরে আসতে পেরে খুব ভালো লাগছে। আমি কখনও ভাবিনি ওয়ানডে ক্রিকেটের র্যাংকিংয়ে দুই নম্বরে আসব।’ কথাগুলো বলছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার (আইসিসি) সব শেষ প্রকাশিত তালিকায় দ্বিতীয় নম্বরে উঠে এসেছেন বাংলাদেশের এই স্পিনিং অলরাউন্ডার।
তৃতীয় টাইগার বোলার হিসেবে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থার র্যাংকিংয়ের দ্বিতীয় স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন মিরাজ। ২০০৯ সালে সাকিব আল হাসান ও পরের বছর আব্দুর রাজ্জাক শীর্ষ দুইয়ে উঠে ছিলেন।
র্যাংকিংয়ের পাঁচ নম্বরে থেকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজে মাঠে নেমেছিলেন মিরাজ। প্রথম ম্যাচে ৩০ রানে চারটি ও দ্বিতীয় ম্যাচে ২৮ রান খরচ করে তুলেছেন তিনটি উইকেট।
বুধবার (২৬ মে) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তারকা এই অফস্পিনার বলেন, ‘আমার মনোযোগ ছিল কম রান দেয়ায়। তাহলে আমার দলে থাকার সম্ভাবনা বাড়বে এবং অবস্থা অনুযায়ী যদি উইকেট নিতে পারি, তাহলে আমার জন্যও ভালো হবে।’
২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে হওয়া অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে মিরাজের নেতৃত্বেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ। একই বছর অক্টোবরে জাতীয় দলের জার্সিতে টেস্ট অভিষেক হয় খুলনার জন্ম নেয়া এই ক্রিকেটার।
সাদা পোশাকে মাত্র ২৬ ম্যাচে শতাধিক উইকেট রয়েছে তার নামের সঙ্গে। ওয়ানডেতেও বল হাতে জ্বলে উঠেছেন তিনি।
‘আমি যখন টেস্ট খেলা শুরু করেছিলাম, তখন কিন্তু টেস্ট বোলারই ছিলাম। তবে আমার সব সংস্করণে সফল হওয়ার ইচ্ছা ছিল। ওয়ানডে ক্রিকেট শুরু করার সময় শুধু ভাবতাম, কীভাবে দলের জয়ে অবদান রাখা যায়।’
৫০ ওভারের ক্রিকেটে সাফল্যের পেছনে ২০১৯ বিশ্বকাপ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ৭ ম্যাচে তুলেছিলেন ছয়টি উইকেট। বিশ্বআসরে খেলায় বাড়তি অভিজ্ঞতা হয়েছে তার।
২৩ বছর বয়সী মিরাজ বলেন, ‘বিশ্বকাপ অনেক বড় একটা মঞ্চ ছিল, যেখানে আমার আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়েছে। সেখানে বিশ্বমানের ক্রিকেটাররা খেলেছে। উইকেটও অনেক ভালো থাকে। আমি মানসিকভাবে নিজেকে তৈরি করেছিলাম। উইকেট না পেলেও যেন আমি রান না দিই। সঙ্গে যেন এক–দুইটা উইকেট বের করতে পারি। আমি সেগুলো নিয়েই চিন্তা করেছিলাম।’
এমন অর্জনে জাতীয় দলের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, ‘সবাই অনেক সমর্থন দিয়েছে, সবাই আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছে। অনেক ভালো লাগছে। সতীর্থদের সমর্থন আমার জন্য অনেক বড় একটা পাওয়া।’

