অঙ্কেল হো’র ১৩১ তম জন্মদিন আজ

 ভিয়েতনামের স্বাধীনতা সংগ্রামের পুরোধা হো চি মিন। সেদেশের জনগন তাঁকে আংকেল হো বলে ডাকে। ১৯শে মে ১৮৯০ সালে কমরেড হো চি মিন-এর জন্ম, আজ তাঁর ১৩১ তম জন্ম বার্ষিকীতে বিপ্লবী শ্রদ্ধা, লাল সালাম। বিশ্ব ইতিহাসে যে কয়জন ব্যক্তি একটি জাতির জন্য স্বাধীনতার দূত হয়ে এসেছিলেন হো চি মিন তাদের মধ্যে অন্যতম। একজন সাধারণ মানুষ কীভাবে একটি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা হয়ে উঠতে পারেন তারই বড় প্রমাণ হো চি মিন। এই আধুনিক বিশ্বেও তার কীর্তি সবার জন্য অনুপ্রেরণাদায়ী। বিপ্লবী হো চি মিন ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব ভিয়েতনামের প্রতিষ্ঠাতা। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় আমৃত্যু ভিয়েত কং-এর নেতৃত্ব দান করেন তিনি। হো চি মিন ভিয়েতনামের স্বাধীনতা সংগ্রামের পুরোধা ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
১৯৪১ সাল থেকে হো চি মিন, ভিয়েট মিনের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন এবং ১৯৪৫ সালে কমিউনিস্ট-শাসিত গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র (উত্তর ভিয়েতনাম) প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৯৫৪ সালে দিয়ান বিয়ান ফির যুদ্ধে ফরাসী ঔপনিবেশিক ইউনিয়নকে পরাজিত করেন এবং প্রথম ইন্দোচিনা যুদ্ধের অবসান ঘটে। তিনি ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় পিপলস আর্মি এবং ভিয়েট কংয়ের মূল ব্যক্তিত্ব ছিলেন, যা ১৯৫৫ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ছিল। উত্তর ভিয়েতনাম বিজয়ী হয়েছিল এবং ১৯৭৬ সালে রিপাবলিক অব ভিয়েতনামের (দক্ষিণ ভিয়েতনাম) সাথে পুনরায় মিলিত হয়েছিল। সাইগন, যা এখন হো চি মিন সিটি, তার সম্মানে দক্ষিণ ভিয়েতনামের রাজধানী, নামকরণ করা হয়েছিল। স্বাস্থ্য সমস্যাজনিত কারণে হো ১৯৬৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা থেকে পদত্যাগ করেছিলেন এবং ১৯৬৯ সালে তিনি মারা যান।
এখন আধুনিক সময়ে মাধ্যমে তিনি শতাব্দীর শতাধিক বরেণ্য ব্যক্তির একজন। স্বপ্ন দেখেছেন নতুন ভিয়েতনামের, এক স্বাধীন রাষ্ট্রের। স্বপ্ন দেখেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত লড়াই করেছেন ফরাসি ও আমেরিকানদের বিরুদ্ধে। ছিনিয়ে এনেছেন স্বাধীনতা, সাধারণ জনগণের জন্য। পড়াশোনা শেষ করেই জড়িয়ে পড়েন ফরাসি শাসকদের বিরুদ্ধে। তার সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেন তার বাবা নগুয়েন সাক। পরিণতি হিসেবে শাসকগোষ্ঠী অন্যান্য আন্দোলনকারীর সঙ্গে তাকেও গ্রেফতার করে। পরে ফরাসি শাসকগোষ্ঠী সিন সাককে আটকে রাখে পৌলো বন্দর কারাদ্ব্বীপে। বাবা গ্রেফতার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়ে গেল হো চি মিনের ছাত্রজীবন এবং শুরু হলো প্রত্যক্ষ সংগ্রামী জীবন। এ সময় তিনি হুয়েং শহর ত্যাগ করে ফ্যান থিয়েট শহরে চলে যান। সেখানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন। সময়টা ছিল ১৯০৭ থেকে ১৯১১ পর্যন্ত। ইতিহাসবিদরা এটি তার আন্দোলনের পর্যায় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ভিয়েতনামে ক্ষমতায় আসার আগে হো চি মিনের জীবন অস্পষ্ট ছিল। তিনি ৫০ থেকে ২০০ ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন বলে জানা যায়। তাঁর জন্ম একাডেমিক বিতর্কের বিষয়। নাম, তারিখ, স্থান এবং অন্যান্য তথ্যগুলিতে কমপক্ষে বিদ্যমান চারটি সরকারী জীবনীতে পার্থক্য দেখা যায় এবং অনানুষ্ঠানিক জীবনীগুলি আরও ব্যাপকভাবে পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভিয়েতনামের গেরিলাযুদ্ধ আমাদেরকে আন্দোলিত করেছিলো অনুপ্রাণিত করেছিলো, ভারতের ট্রেনিং ক্যাম্পে আমাদের প্রশিক্ষক ভারতিয় এক ইয়োং লেফটেন্যান্ট ডোগড়া আমাদেরকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের কথা বার বার স্মরণ করে দিয়ে, আমাদেরকে ‘এম্বুশ’ করার পদ্ধতি শিখিয়েছিলেন। পরবর্তিতে আমি নিজে ১৯৯৭ সালে ৩ সপ্তাহ গ্রীষ্মের ছুটিতে পুরো ভিয়েতনামে কাটিয়েছি সায়গনের গভীর জঙ্গলে মার্কিনীদের সাথে ভিয়েতকং যোদ্ধাদের সুড়ঙ্গপথ দেখেছি, সেই সুড়ঙ্গপথে হেঁটেছি ।
মীর মোনাজ হক , কলামিস্ট এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.