মওদুদের মৃত্যুতে কাদের মির্জার তিনদিনের শোক ঘোষণা

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের মৃত্যুতে তিনদিনের শোক ঘোষণা করেছেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জা।

বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনদিনের শোক ঘোষণা করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বিষয়টি জানান তিনি। একই সাথে বিষয়টি মেয়র কাদের মির্জাও নিশ্চিত করেছেন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, কোম্পানীগঞ্জের কৃতিসন্তান ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। উনার মৃত্যুতে তিনদিনের শোক ঘোষণা করা হইল। আগামীকাল বৃহস্পতিবার, শুক্র ও শনিবার বসুরহাট বাজারের সব ব্যবসায়ীকে কালো পতাকা উত্তোলন করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।

মেয়র কাদের মির্জা বলেন, আমরা কোম্পানীগঞ্জবাসী কাকে হারিয়েছি; তা কেবল আমরাই জানি। মওদুদ আহমদের হাত ধরে কোম্পানীগঞ্জের সব কিছু শুরু হয়েছিল। তিনি আমাদের সব উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার পথপ্রদর্শক। মওদুদ আহমদ দলমত নির্বিশেষে কোম্পানীগঞ্জবাসীর জন্য কাজ করেছেন।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে এক শোকবার্তায় মেয়র কাদের মির্জা বলেন, কোম্পানীগঞ্জের কৃতীসন্তান মওদুদ আহমদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছি। উনার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি ও শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি। মহান আল্লাহ উনাকে জান্নাতবাসী করুক।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি ১৯৪০ সালের ২৪ মে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মাওলানা মমতাজ উদ্দিন আহমেদ এবং মায়ের নাম বেগম আম্বিয়া খাতুন। ছয় ভাইবোনের মধ্যে মওদুদ আহমদ ছিলেন চতুর্থ।

বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর মওদুদ আহমদকে ঢাকায় এভার কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি সেখানে ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের অধীনে চিকিৎসা নেন। তার হার্টে ব্লক ধরা পড়ায় তার হৃদযন্ত্রে স্থায়ী পেসমেকার বসানো হয়।

চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি সিসিইউ থেকে তাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। ২০ জানুয়ারি হাসপাতাল থেকে বাসায় নেয়া হয়। এরপর আবার ২১ জানুয়ারি তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টায় সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তিনি দেশ ছাড়েন। সেখানে দীর্ঘদিন আইসোলেশনে থেকে পরে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি।

এই প্রবীণ রাজনীতিকের মরদেহ সিঙ্গাপুর থেকে আগামী বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসার কথা রয়েছে। মরদেহ দেশে আসার পর রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে।

এরপর শুক্রবার (১৯ মার্চ) সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রথম জানাজা হওয়ার কথা রয়েছে। হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা, নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে তৃতীয় জানাজা শেষে নোয়াখালীতে নেওয়া হবে। কোম্পানীগঞ্জ কলেজ মাঠে সর্বশেষ জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের পাশে দাফন সম্পন্ন করা হবে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.