বাংলাদেশের সমৃদ্ধি, সুপ্রশাসন ও গণতন্ত্রঃ —-স্বাধীনতার ৫০তম বছরে জাতির প্রত্যাশা

পূর্বের বাংলাদেশাঞ্চলঃ সুলতানামলে নবসৃষ্ট বঙ্গদেশ (১৩৫২-১৫৭৬) বিশ্বে সম্মৃদ্ধিশীল রাষ্ট্রে পরিণত হয়। পরে মুঘোল সম্রাজ্যভুক্ত হলেও বঙ্গপ্রদেশ (১৬০৮-১৭০৩) উচ্চতর সম্মৃদ্ধিশীল থাকে। তবে বিহার-উড়িষ্যাসহ সুবেবঙ্গ (১৭০৪-৭১) গঠিত হলে অবনতিশীল ছিল। গ্রেটবৃটেনের আদলে পুনর্গঠণের পরে তা বেঙ্গল-প্রেসিডেন্সী নামে (১৭৭২-১৯১১) আবার উচ্চতর সম্মৃদ্ধিশীল হয়। বিহার-উড়িষ্যা বাদে আবার বঙ্গপ্রদেশ (১৯১২-৪৭)গঠিত হলে স্বল্প সম্মৃদ্ধিশীল হয়।

 

ঔপনিবেশিক-সাম্প্রদায়িক-সামন্তিক রাষ্ট্রনীতিতে বৃটিশামলে সংখ্যাগড়িষ্ঠ হিন্দুবাঙালীরা সুবিধাপ্রাপ্ত ও কর্তৃত্বশালী এবং বঞ্চিত-শোষিত মুসলমান বাঙালীরা প্রধানতঃ নিম্নমধ্য-নিম্ন আয়ভুক্ত গ্রামীণজীবনে আবদ্ধ হয়। গণতান্ত্রিক স্থানীয় ও প্রদেশিক সরকারব্যবস্থা গড়ে উঠার সাথে সাথে স্ব-সাম্প্রদায়ের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা, রক্ষা বা বঞ্চনামুক্তির জন্যে রাজনীতি বাড়ন্ত সাম্প্রদায়িক ও সংঘর্ষিক হয়। ফলসূতীতে ১৯৪৭-এ বৃটিশ-ভারত বিভক্তিসহ স্বাধীন পাকিস্তান ও ভারত রাষ্ট্র।

 

স্বাধীনতোত্তর স্থপতি-নেতারা ১৪দফা-লাহোর-দিল্লী প্রস্তাবনার ভিত্তিতে পাকিস্তানকে সফলরাষ্ট্র হিসেবে গড়ে ব্যর্থ হয়। তবে ব্যক্তিস্বার্থে গণ-অঙ্গীকার ভঙ্গ করেনি। তাই ১৯৪৭-এর বিশাল প্রধান বিজয়গুলো হলোঃ ১) বৃটিশের ঔপনিবেসিক-সামন্তিক-সাম্প্রদায়িক শাসনের অবসান; ২) বাড়ন্ত সাম্প্রদায়িক ও সংঘর্ষিক রাজনীতির অবসান; ৩) গণতান্ত্রিক ভূমিসংস্কার ও প্রজাজীবনের মুক্তি; এবং ৪) স্বকীয় জাতিসত্ত্বা ও গণতান্ত্রিক গণজীবন বিকাশের ভিত্তি।

 

স্বাধীনতোত্তর স্থানীয় রাজ্যগুলো সমন্বয় করা ছাড়া ভারতের রাষ্ট্রব্যবস্থার বিষয়ে মৌলিক পুনর্গঠণের প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু পাকিস্তানের ক্ষেত্রে তা অপরিহার্য ছিল। প্রধাননেতা মোহম্মদ আলী জিন্নার অবর্তমানে অন্যান্য স্থপতি-নেতারা লাহোর-দিল্লী প্রস্তাবনার ভিত্তিতে পাকিস্তানকে গড়তে ব্যর্থ হন। ২য় পর্যায়ে পূর্বাঞ্চলের ক্ষমতাসীন নেতৃত্বদ্বয় হক-সোরওয়ার্দীর বিশ্বাসঘাকতার জন্যে পশ্চাৎপদ বাংলাপ্রদেশ ১৯৫৫ উত্তর সবক্ষেত্রে অগ্রসরীয় পঃপাকিস্তানের অধীনস্ত হয়।

 

-২-

বাংলাদেশের উদ্ভুদয়ঃ পশ্চিমাঞ্চল বেশী সম্মৃদ্ধিশীল হওয়ায় পাকিস্তানের উভয়াঞ্চলের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়ন্ত হয়। পূর্বাঞ্চলে ক্ষোভও বাড়তে থাকে। ৬ দফা আন্দোলন, গণম্যান্ডেট ও ৭ই মার্চ ভাষণোত্তর অসহযোগ আন্দোলনকালে বর্বর আঘাতোত্তর গণবিদ্রোহ, স্বাধীনতার স্লোগান-ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১-এ বাংলাদেশের উদ্ভুত হয়। তাই মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার হলো, সাম্য. মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারসহ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা (স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র)।

 

“বেঈমান”কে জ্যান্ত-কবর দেওয়ার শপথ নেওয়া দুই-তিনদশক গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতাগণ স্বাধীনতো্ত্তর ৬ দফা, গণম্যান্ডেট ও মুক্তিযুদ্ধে অঙ্গীকারের সাথে “বেঈমানী” করেন। বেঈমানী মুখবন্ধসহ জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা ভিত্তিক রাষ্ট্রপরিচালনার নীতিমালার সংবিধান প্রথমে চালু করেন। অতঃপর ১৯৭৫-এ বিনা-নির্বাচনে রাষ্ট্রপতি হয়ে মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার বিরোধী একদলীয় স্বৈরতন্ত্র চালু করে জাতীয় নেতাগণ জাতির ১২টা বাজান।

 

বাল্যকালে ১৯৬৪তে ২১ ফেব্রুয়ারীকে দিবসকে ছুটিঘোষণা এবং ১৯৬৯তে ৬ দফা ও মুজিবমুক্তি দাবীর মিছিলে পুলিশের কাঁদুনীগ্যাস, লাঠিপেটা ও ধাক্কায় কাঁটাতাঁরে আহত; এবং কিশোরকালে ১৯৭০-এ ৬ দফার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা, ১৯৭১-এ অসহযোগ আন্দোলন ও স্বাধীনতাযুদ্ধে যোগ দেওয়ায় নিবন্ধকার স্বৈর-হত্যার রাজনীতির বিরুদ্ধে। তাই মুক্তিযুদ্ধে অঙ্গীকারের আলোকে ১৯৮২ থেকে “উচ্চতর সম্মৃদ্ধিশীল গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ” গড়ার চেষ্টা করছেন।

 

 

-৩-

অর্থনৈতিক উন্নয়নঃ ৯টি বিভাগ ভিত্তিক রাষ্ট্র-অবকাঠামো হওয়ার পরে শহরায়নসহ জ্ঞান-বিজ্ঞান-প্রযুক্তি-শিল্প বিপ্লবসহ এককরাষ্ট্র গ্রেটবৃটেন (১৭০৭) উচ্চতর সমৃদ্ধিশীল হয়। ৮/৯টি বিভাগ ভিত্তিক হওয়ায় জাপান-দঃকোরিয়ার প্রবৃদ্ধির হারও ৮-৯.০% এবং ১০/৯টি সংলগ্ন-প্রদেশ ভিত্তিক হওয়ায় পঃজার্মানী-মালয়েশিয়া প্রবৃদ্ধির হার ৭.৫% উপরে উঠে। ১৯৫৫ সালে ১২টি বিভাগ ভিত্তিক হওয়ায় পঃপাকিস্তানেরও জনপ্রতি জিডিপির প্রবৃদ্ধির হারও বেড়ে ৩.৪% (=৬.৬-৩.২) উপরে উঠে।

 

১৯৪৭ উত্তর পূঃপাকিস্তান ৪টি বিভাগ ভিত্তিক স্বৈরমূখী রাষ্ট্র-অবকাঠামো হলে বাজারকাঠমোও কম-প্রতিযোগী হয়। গণতান্ত্রিক ভুমি-সংস্কারোত্তর (১৯৫০) জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার বাড়লেও একারণে ১.৯% (=৪.৪-২.৫) সীমিত থাকে। ১৯৭১ উত্তর এককরাষ্ট্র হলে রাষ্ট্র-অবকাঠামোর স্বৈরমূখী প্রভাব বাাড়ে এবং বাজার-কাঠমো আরও কম-প্রতিযোগী হয়। ১.০% কমে জনপ্রতি জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ১৯৭০ দশকে ০.৯%-এ দাঁড়ায়। জাতির দারিদ্রতার হার বাড়তে থাকে।

 

জাতির গণতান্ত্রিক চেতনা-প্রতিষ্ঠানসহ উৎপাদন ও সেবাখাত বাড়ন্ত হলে দেশ উচ্চতর সমৃদ্ধিশীল থাকে। বিশ্বেব অভিজ্ঞতায় ৯/১০টি বিভাগ ভিত্তিক হলে এককরাষ্ট্র (পরবর্তীতে প্রদেশভিত্তিক) বাংলাদেশের রাষ্ট্র-অবকাঠামো সুষম-গণতন্ত্রমুখী এবং বাজারকাঠমো সুষম-প্রতিযোগী হবে। নিরুষ্কুশ জনতা জীবন-দর্শন ও মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার বিরোধী নিম্নপ্রজ্ঞা, মিথ্যাচারী, দূর্ণীতি ও স্বৈরমুখী রাজনীতি থেকে মুক্তি পাবে এবং “কয়েক শতাব্দী” উচ্চতর সম্মৃদ্ধিশীল থাকবে।

 

বৃহত্তর রাষ্ট্রব্যবস্থায় প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে সুষম/সম মানবাধিকার বেড়ে উঠার সাথে সাথে বাংলাদেশও জনবলসহ সরকারের প্রশাসন, জনসেবা, নিরাপত্তা-প্রতিরক্ষা ও বিচারসহ বহুমুখী সেবার সংস্থাসমূহ বেড়ে উঠেছে। এটা সমাজতান্ত্রিক নয়, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার বহুমুখী সেবার ব্যবস্থা। এর প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ অর্থনৈতিক প্রভাবও রয়েছে। এসব সেবাসংস্থার দক্ষতা-দায়িত্বশীলতা বাড়ন্ত হলে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির গড়হারও বাড়ন্ত হয়।

 

১৯৩০ দশক থেকে বিশ্বের দরিদ্রতর দেশে “সমাজতন্ত্র” রাজনীতির প্রভাব বাড়ে। এর প্রভাবে রাষ্ট্রনীতি হিসেবে বিভিন্ন দেশে উচ্চতর স্কেলের বেতন কমিয়ে জাতীয় বেতন স্কেলের সর্বোচ্চ-সর্বনিম্ন অনুপাত ও বাবধান হ্রাস করা হয়। এতে দরিদ্রতর বিশ্বে সরকারী সংস্থাসমূহের দক্ষতা-দায়িত্বশীলতাসহ অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হ্রাসমাননসহ দূর্ণীতিও বাড়ন্ত হয়। ১৯৯০-এ পূঃইউরোপের সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও পতনের পরে বিশ্বব্যাপী সমাজতন্ত্র চেতনা হ্রাস পায়।

 

জাতীয় আয়-বন্টণ ও জনপ্রতি আয়ের সামঞ্জসে জাতীয় বেতন স্কেল হলে সরকারী সংস্থাসমূহ দায়িত্ব-কর্মশীলতা বাড়ে, দূণীতিও কমবে। সেইমতো ভারত-পাকিস্তানের জাতীয় বেতন স্কেলের সর্বোচ্চ-সর্বনিম্ন বেতন অনুপাত ১৮ঃ১-এর বেশী (ইন্টারনেট দেখুন)। বাংলাদেশে এ অনুপাত ২০ঃ১ সুষম হলেও ৯.৫ঃ১ চালু থাকায় দূর্ণীতি বাড়ন্ত। এ সুষম অনুপাত ভিত্তিক “অন্তর্বর্তীকালীন সুষম জাতীয় বেতন স্কেল” চালু হলে প্রবৃদ্ধির হার আরও ২.৫% বাড়বে, দূণীতিও কমবে।

 

নিবন্ধকারের সাথে মত-বিনিময়ের পরে প্রধানমন্ত্রী হাসিনা ১৯৮৫ থেকে বিষয়গুলো জ্ঞাত। তাগিদের পরেও ১৯৯৭-এ বাংলাদেশকে ৯/১০টি বিভাগে বিভক্ত এবং সুষমমুখী জাতীয় বেতন স্কেল চালু করলেন না। এ দু’পদক্ষেপে প্রবৃদ্ধির হার এখন আরও ৩.৮% (=১.৩+২.৫) বাড়বে। এতে রাস্তা, সেতু, বিদ্যুৎ, চিকিৎসা-শিক্ষায় ব্যয়ের সক্ষমতাও বাড়বে। ১৫ আগষ্ঠের ক্ষোভে জ্ঞাত হয়েও তিনি জিডিপি, রাজস্ব, রিমিটন্স ও বাণিজ্য আয় বাড়ানো থেকে জাতিকে বঞ্চিত রেখেছেন।

 

 

-৪-

সুশাসন ও গণতন্ত্রঃ রাষ্ট্রব্যবস্থা হলো রাষ্ট্র-অবকাঠামো ভিত্তিক প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা যা কর্মতান্ত্রিকভাবে জাতীয় সমন্বিত। এককরাষ্ট্র বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থার মূলে রয়েছে পাঁচস্তর ভিত্তিক (কেন্দ্র, বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও শহর/পল্লী) যা ভারত-পাকিস্তান থেকে দুইস্তর কম। এর উপরকাঠামোতে থাকে জাতীয় সরকারব্যবস্থা। আর ভিতরকাঠামোতে বহুমুখী সেবার প্রশাসন, নিরাপত্তা, বিচার ও প্রতিরক্ষা পেশাজীবি কর্ম-প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং স্থানীয় সরকারব্যবস্থা।

 

দু’স্তরের আদালত ছাড়া উচ্চ-আদালতের বিচারব্যবস্থা যেমন নিরপেক্ষমুখী হয় না। তেমনি দু’স্তরের সংসদব্যবস্থা ছাড়া আইন ও নির্বাহী সরকারব্যবস্থা গণতান্ত্রিক হয় না। অন্যদিকে গণতন্ত্রমুখী রাষ্ট্র-অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা-কাঠামো ছাড়া প্রশাসন, নিরাপত্তা, বিচার ও প্রতিরক্ষা পেশাজীবি কর্ম-প্রতিষ্ঠানসমূহ গণতন্ত্রমুখী হয় না। প্রত্যক্ষ জনসম্পর্ক কম থাকায় কাঠামো-প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা ছাড়া বিশাল জনতার বৃহত্তর রাষ্ট্রে সুপ্রশাসন, মানবাধিকার ও গণতন্ত্র হয় ও থাকে না।

গড়ে ৪টি বিভাগ, ১৮টি জেলা ও ৭১টি মহকুমা ভিত্তিক হওয়ায় ১৯৪৭-৮২ কালে বাংলাপ্রদেশ/দেশের রাষ্ট্র-অবকাঠামো উচ্চতর স্বৈরমুখী ছিল। এককরাষ্ট্র হওয়ার পরে (১৯৭১) রাষ্ট্র-অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা-কাঠামোর স্বৈরমুখীতা বেড়ে উঠে। ১৯৭৫-এ বেসামরিক স্বৈরতন্ত্র এবং ১৯৮২-এ সামরিক স্বৈরতন্ত্র উত্থানের এটা অন্যতম কারন। নিবন্ধকারের উদ্যোগে থানাগুলোকে উপজেলায় এবং মহাকুমাগুলোকে জেলায় উন্নীত করায় রাষ্ট্র-অবকাঠামো বৈপ্লবিক পরিবর্তন হয়।

 

৪টি আঞ্চলিক ক্যান্টনমেন্ট ভিত্তিক হলে হওয়ায় ১৯৭১ উত্তর প্রতিরক্ষা-কাঠামোও স্বৈরমুখী ছিল। নিবন্ধকারের প্রচেষ্টায় ১৯৯০-এ ৮টি আঞ্চলিক ক্যান্টঃভিত্তিক প্রতিরক্ষা-কাঠামো স্বনিয়ন্ত্রিত ও গণতন্ত্রমুখী হয়। সামরিক শাসন স্বনিয়ন্ত্রিত হয়। ৯ম আঞ্চলিক ক্যান্টঃ হলে (২০১৩) প্রতিরক্ষা-কাঠামো আরও স্বনিয়ন্ত্রিত ও গণতন্ত্রমুখী হয়। গণ-অভ্যুত্থান ছাড়া চক্রাকারে সামরিক অভ্যুত্থান ও শাসন কঠিনতর হয়।

 

১৯৮২-৮৪তে উপজেলা-জেলায় এবং ১৯৯০-এ ৮টি আঞ্চলিক ক্যান্টঃভিত্তিক প্রতিরক্ষা-কাঠামো স্বনিয়ন্ত্রিত ও গণতন্ত্রমুখী হওয়ার (১৯৯০) পরে খালেদা-হাসিনা নের্তৃত্ব ক্ষমতাসীন হতে পারেন। তবে বাংলাদেশকে ৯/১০টি বিভাগে বিভক্ত না করায় রাষ্ট্র-অবকাঠামো শীতিল হয়। দেশে বহুমুখী অনৈতিকতা বাড়ন্ত হয়। বাংলাদেশ ৮টি বিভাগে বিভক্ত রাষ্ট্র-অবকাঠামো শীতিলতা হ্রাস পেয়েছে হয়। বাকী বাকী কুমিল্লা-ফরিদপুর বিভাগদ্বয় হলে রাষ্ট্র-অবকাঠামো সুষম হবে।

 

-৫-

স্বাধীনতার ৫০তম বছরে জাতির প্রত্যাশাঃ গণতান্ত্রিক ৬ দফার রাষ্ট্রদর্শনের আলোকে ১৯৮২ থেকে নিবন্ধকার “উচ্চতর সম্মৃদ্ধিশীল গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ” গড়ার চেষ্টা করছে। বাকী কুমিল্লা ও ফরিদপুর বিভাগ, সুষমমুখী জাতীয় বেতন স্কেল, দুইবারের বেশী জাতীয়-স্থানীয় সরকারপ্রধান না হওয়ার বিধান এবং দুইকক্ষ সংসদব্যবস্থা চালু হলে ১ম-পর্ব গড়া শেষ হবে। ২য়-পর্বে ১০টি প্রদেশভিত্তিক হলে বাংলাদেশ “কয়েক শতাব্দী” উচ্চতর সম্মৃদ্ধিশীল থাকবে।

 

সরকার ছাড়া রাষ্ট্রব্যবস্থার পূনর্গঠণে উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ণ করা সম্ভব নয়। রাষ্ট্র-বিশেষজ্ঞ হলেও নিবন্ধকার সরকার নন। এরশাদ-খালেদা-হাসিনা তিনদশক সরকার-প্রধান এবং স্বাধীনতাকালে ছাত্র-যুবনেতা রব-সিরাজও তিনদশক প্রভাবশীল থাকতে পারেন বিবেচনায় নিবন্ধকারের রাষ্ট্রচিন্তা ও কর্মসুচী দিয়ে তাঁদের রাষ্ট্রচেতনায় সমৃদ্ধি এনেছেন। জাসদের বিকল্পবাজেট-১৯৮৭-৮৮ ও আওয়ামী লীগের ৭ দফা (১৯৮৮) কর্মসুচীতে সে মিল ও স্বাক্ষর পাওয়া যাবে।

 

১৫ম সংশোধনীতে (২০১১) মুখবন্ধসহ রাষ্ট্রচালনার নীতিমালা জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা পুনরায় সংবিধানে যুক্ত করা হয়। ১৯৮২ থেকে গড়ে উঠা “উচ্চতর সম্মৃদ্ধিশীল গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ”কে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে তাঁর গড়া তথা রূপকার বলে কয়েক বছর প্রধানমন্ত্রী হাসিনার দাবী করছেন। অন্যদিকে ২য়-পর্বের প্রদেশভিত্তিক “উচ্চতর সম্মৃদ্ধিশীল গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের” রূপকার বলে সম্প্রতিকালে সিরাজুল আলম খান নিজেকে দাবী করাচ্ছেন।

 

“উচ্চতর সম্মৃদ্ধিশীল বাংলাদেশ” বঙ্গবন্ধুর আদর্শে তাঁরগড়া বলে প্রধানমন্ত্রী হাসিনার দাবী করলে করুন। তবে জনগণের প্রত্যাশা হলো, জানুয়ারী, ২০২১ থেকে “অন্তর্বর্তীকালীন সুষমমুখী জাতীয় বেতন স্কেল, জরুরী ভিত্তিতে বাকী কুমিল্লা-ফরিদপুর বিভাগদ্বয়, দুইকক্ষ সংসদ ও দুইবারের বেশী রাষ্ট্র-সরকার প্রধান না হওয়ার বিধান চালু এবং ডিসেম্বর, ২০২১-এ সিনেট (২য়কক্ষ) নির্বাচন চালু করা। এতে সরকার পরিবর্তন হবে না, কিন্তু রাজনৈতিক সংকট দূর হবে।

 

‘১০ম সংসদে বিনাভোটে ৫১% বিজয়ী হওয়ার চেয়েও ১১ম সংসদে রাতের ভোটে বিপুল বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হাসিনা বেশ চমক দেখিয়েছেন। কথিত হয়, ‘১২শ সংসদের ক্ষেত্রে এরচেয়েও চমক দেখাবেন’। কোন অজুহাতে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ-পথে ৪র্থ সংশোধনীর মতো ১১শ সংসদের মেয়াদ ৫ বছর বাড়িয় ১২শ সংসদ “যেন নির্বাচিত হয়েছে” বলে চমক দেখিয়ে আরেকটি ১৫ই আগষ্ঠ না ঘটানোর জন্যে জাতির পক্ষে প্রধানমন্ত্রী হাসিনার কাছে করজোড়ে অনুরোধ রইল।

 

*মোহাম্মদ আহ্সানুল করিমঃ রাষ্ট্র-বিশেষজ্ঞ, মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক বিসিএস কর্মকর্তা। ১৯৮২ থেকে “উচ্চতর সমৃদ্ধিশীল গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ” গঠনের উদ্যোক্তা এবং প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার রূপরেখা (১৯৮৫), প্রগতিশীল গণতন্ত্র(১৯৯১), ও সংবিধান সংশোধনের দিকগুলো (২০১০) নিবন্ধ/বইযের লেখক।

 

 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.