সাকা চৌধুরীর মামলার সাক্ষী প্রফুল্ল রঞ্জন মারা গেছেন

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের যে মামলায় সালাহউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর হয়েছে সেই মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী প্রফুল্ল রঞ্জন সিংহ মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নগরীর বেসরকারি ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

প্রফুল্ল রঞ্জন সিংহের ছেলে রাজীব সিংহ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কিডনিজনিত রোগে ভুগছিলেন তিনি। গত নভেম্বর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তিনি মারা যান। তিনি স্ত্রী ছাড়াও এক ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন। শুক্রবার সকালে রাউজানের গহিরায় পারিবারিক শ্মশানে তার শেষকৃত্য হবে।

রাউজান উপজেলার গহিরা গ্রামে নিজ বাড়িতে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান কুণ্ডেশ্বরী ওষুধালয় গড়ে তুলেছিলেন প্রফুল্ল রঞ্জন সিংহের বাবা নুতন চন্দ্র সিংহ। ১৯৬০ সালে নারী শিক্ষার প্রসারের জন্য দুটি আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। একই এলাকায় কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী তৎকালীন মুসলিম লীগ নেতা ফজলুল কাদের চৌধুরীর বাড়ি। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নতুন সিংহের গড়ে তোলা সেই প্রতিষ্ঠানগুলো পুড়িয়ে দেয়। তাকে গুলি করে নৃশংসভাবে হত্যা করে। পিতৃহত্যার জন্য ফজলুল কাদের চৌধুরীর ছেলে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে দায়ী করেছিলেন প্রফুল্ল। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রফুল্ল রঞ্জন সিংহ তাদের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান কুণ্ডেশ্বরী ওষুধালয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। এছাড়া তিনি বাবার প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনাসহ বিভিন্ন সমাজসেবামুলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.