৭ই নভেম্বর সিপাহী বিপ্লব বেহাত হয়ে যাওয়ার পর জেনারেল জিয়ার বিরুদ্ধে আরেকটি অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করেছিল জাসদ , শামসুদ্দিন পেয়রার বই আমি সিরাজুল আলম খান বইতে সিরাজুল আলম খান উল্লেখ করেন , ৯ই নভেম্বর ১৯৭৫ রব-জলিল মুক্তি লাভ করেন , এর পর আমরা সিধান্ত গ্রহনের জন্য আলোচনায় বসি । আলোচনার গতি দেখে আমি বুঝলাম অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দুটি স্পষ্ট ভাগ , একটি ভাগের মত হোল দু চার দিনের মধ্যেই ৭ই নভেম্বরের মতো করে সিপাহী জনতার অভ্যুত্থান ঘটানো । দ্বিতীয় মতটি হোল জিয়াউর রহমানকে ক্ষমতা সংহত করার সুযোগ দিয়ে আরও সংগঠিতভাবে অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টা করা । দুটি ভিন্ন মতামতের কারনে আমি ক্ষুদ্রাকারে একটি অ্যাকশন কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিলাম । অবস্থা বুঝে এই অ্যাকশন কমিটি জাসদ ও বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার হাই কমান্ডের কাছে রিপোর্ট করবে তার আলোকে বাস্তবতার নিরিখে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে, নভেম্বরের ১৫ বা ১৬ তারিখে এ সিধান্ত নেয়া হয় ।
২৩ শে নভেম্বর হঠাৎ আমার কাছে খবর এলো রব, জলিল , কর্নেল তাহের কে গ্রেফতার করা হবে , ওই দিনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এস এম হলের হাউজ টিউটরের বাসা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয় । এদের গ্রেফতারে আমি বিস্মিত হলাম । গ্রেফতার হওয়ার মতো ঘটনা তো ঘটেনি ।
এই ঘটনার ত্রিশ বছর পর আমি জানতে পারি ২০০৫ সালে আমি জানতে পারলাম , আমার অনুপস্থিতিতে আমাকে না জানিয়ে বা আমার মতামত না নিয়ে মাত্র কয়েজন মিলে সিধান্ত নিয়েছিল যে আবারও কয়েক দিনের মধ্যে অভুত্থান ঘটানো হবে । সেই প্রস্তাবের উত্থাপক ছিলেন মেজর জলিল এবং কর্নেল তাহের । বলা বাহুল্য জিয়াউর রহমানকে ক্ষমতাচ্যুত করতেই এই অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করা হয়েছিল ।
ক্ষুদ্রাকারে সেই অ্যাকশন কমিটিতে ছিলেন মেজর জলিল , আসম আব্দুর রব, কর্নেল তাহের ,হসানুল হক ইনু , আমার অনুরোধে অন্তর্ভুক্ত করা শরীফ নুরল আম্বিয়া ।
আমাকে না জানিয়ে দ্বিতীয় অভুত্থানের পরিকল্পনাটি আমি জানতে পারলাম শরীফ নুরল আম্বিয়ার কাছ থেকেই জানতে পারি । সুত্র , আমি সিরাজুল আলম খান , লেখক শামসুদ্দিন পেয়ারা , পৃষ্ঠা ১৭৮ ।
হাবিব বাবুল / শুদ্ধস্বর ডটকম

