Covid -১৯ নামক করোনার মহামারী শুরুর পর থেকে সারা বিশ্ব অধীর আগ্রহে একটি ভ্যাকসিনের জন্য অপেক্ষা করছিল, এখন সেই অপেক্ষা বাস্তবে রূপ ধারণ করছে। বিওনটেক এবং ফাইজারের সক্রিয় উপাদান কোভিড -১৯ এর বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে টিকা দেওয়ার আশা বাড়িয়ে তুলছে। শিগগিরই একটি সিরাম “অনুমোদিত – নির্মাতা” „বিওনটেক“ এবং „ফাইজার“ র মতে – টিকা দেওয়া ১০০ জনের মধ্যে ৯০ জনের সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে সক্ষম হবে।করোনার বিরুদ্ধে প্রথম ভ্যাকসিনের “ডোজ” এর উৎপাদন শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে। এগুলি সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করাহবে তা নির্ভর করছে নৈতিক মানদণ্ডের উপর ।
জার্মান ফেডারেল এবং রাজ্য সরকারগুলি তাই বৃহত্তর আকারে গণটিকা দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন I করোন ভাইরাসের বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ জার্মানকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যে আগামী ডিসেম্বরে থেকে সারা দেশব্যাপী কয়েকশ টিকাদান কেন্দ্র তৈরি করা হবে। এটি ফেডারেল রাজ্যগুলির ১৬ টি স্বাস্থ্য মন্ত্রালয়ের বৈঠক সমীক্ষার ফলাফল বলে জানান জার্মানের পত্রিকা “Welt am Sonntag“ . তদনুসারে, জরিপ করা বেশিরভাগ ফেডারেল রাজ্যগুলি প্রশাসনিক জেলাতে প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে; একটি বিভাগ, দুটি জেলা এবং উপজেলাগুলিতে একটি করে টিকা কেন্দ্র স্থাপন করার পরিকল্পনা করছে । এছাড়াও, মোবাইল ভ্যাকসিনেশন দলগঠন করে সেগুলোও ব্যবহার করতে হবে । জার্মানিতে মোট ২৯৪ টি গ্রামীণ জেলা এবং ১০০ টিরও বেশি মেট্রোপলিটন শহর রয়েছে। বড় বড় মেট্রোপলিটন শহর এবং রাজ্যগুলিতে বেশ কয়েকটি টিকা কেন্দ্র রয়েছে। রাজধানী বার্লিন প্রাথমিকভাবে এই জাতীয় ছয়টি টিকা কেন্দ্র করার পরিকল্পনা করছে। প্রদর্শনী হলগুলি (জার্মান ভাষায় “মেসে হালে” বলা হয় ) টিকা কেন্দ্রগুলিতে পরিণত হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। প্রদর্শনী হলগুলি স্পষ্টতই গণ টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে । এই পরিকল্পনার প্রথম নিশ্চিত অবস্থানটি হচ্ছে ব্রেমেন। সারব্রুকেন শহরেও পূর্বের প্রদর্শনী কেন্দ্রটি বর্তমানে গণ টিকা দেওয়ার স্থান হিসাবে আলোচিত হচ্ছে। তবে কোনও ফেডারেল রাজ্যে পরিকল্পিত কেন্দ্রগুলির জন্য এখনও কোনো পরিপূর্ণ সর্বহারের পরিক্ল্পনা করা হয় নাই। ধারণা কর হচ্ছে, “বিওনটেক” ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে ৫০ মিলিয়ন এবং এপ্রিল মাসের শেষের দিকে ১০০ মিলিয়ন ভ্যাকসিন সরবরাহ করতে সক্ষম হবে। মূল প্রশ্ন হল: সর্বপ্রথমে টিকা কাদেরকে দেয়া হবে ?সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা উচিত কি না ? এটা বয়স, পেশা বা জনগণের আয়ের ভিত্তিতে নির্ণয় করা উচিত কি না ? এটি এখনও সঠিকভাবে জানা যায় নি যে টিকাটি বিভিন্ন বয়সের গ্রুপগুলিতে এবং পূর্ববর্তী অসুস্থতার সাথে কীভাবে কাজ করে, এর সুরক্ষা কত দিন স্থায়ী হয় এবং ভ্যাকসিনযুক্ত লোকেরা কি ভাইরাস সংক্রমণ করতে পারে কিনা তবে এটি বিতরণের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ যে মানুষ ভাল এবং বোধগম্য কারণগুলোকে ন্যায্য বলে বিবেচনা করে। তাহলে সবার আগে কাদের টিকা পাওয়া উচিত?এবং কোন মানদণ্ড অনুসারে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত? প্রথমেই মনে হতে পারে ওই সকল ব্যক্তিকে প্রাধান্য দেয়া উচিত যাদের নিরাপত্তার প্রয়োজন সর্বাগ্রে, যারা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার এবং মারা যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে । এইক্ষেত্রে পূর্ববর্তী অসুস্থতা এবং বয়স্কদের প্রথমে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত (?) যদিও এই গ্রুপে তাৎপর্য্যপূর্ন কিছু পার্থক্য রয়েছে। এদের মধ্যে কেউ কেউ তাদের কর্মজীবনের মাঝামাঝিতে আছেন, অন্যরা কেউ কেউ অবসর গ্রহণ করে বাড়িতে বা নার্সিংহোমে থাকেন, কেউ কেউ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরছেন, কেউ কেউ শয্যাশায়ী, কেউ কেউ প্রতিদিন প্রচুর লোকের সংস্পর্শে আসেন, আবার অনেকে খুব কম মানুষের সঙ্গ পেয়ে থাকেন। এই পার্থক্যগুলি বিতরণের ক্ষেত্রে অবশ্যই বিবেচনায় নেওয়া উচিত।উদাহরণস্বরূপ, নার্সিংহোমে যারা থাকেন তারা সহজে ঘরের বাইরে যান না এবং যাদের সাথে খুব কম লোকের যোগাযোগ আছে, তাদের টিকা দেওয়ার বিষয়ে অগ্রাধিকার না দেওয়াটা বোধগম্য হতে পারে। এটি বিবেচনা করা হয় এর ভিত্তিতে যে যারা ইতিমধ্যেই উপযুক্ত সুবিধা প্রাপ্তির অভাবে অসুবিধায় ভুগছেন। বয়স জনিত বৈষম্যের অভিযোগটি আসলে আনুমানিক। নার্সিংহোমের প্রবেশদ্বারে যোগাযোগ করা ব্যক্তিদের দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে এই অভিযোগ নিষ্পত্তি করা যেতে পারে। এটি বৃদ্ধ বয়সীদের রক্ষা করবে এবং টিকা দেওয়ার পর সম্ভাব্য পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলির ঝুঁকি থেকেও বাঁচাতে পারবে। যাইহোক, এটি স্পষ্ট যে আমাদের টিকা দেওয়ার প্রতি শুধু আমাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ করা উচিত নয়, বরং সব সময় প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থার বিস্তৃত প্রভাব সম্পর্কেও দেখে নেওয়া উচিত। যারা অনেকের সাথে মেলামেশা করেন, এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে : যারা নিজের বা অন্যদের সংক্রামিত হওয়ার বিশেষ ঝুঁকিতে রয়েছে তাদের ভ্যাকসিন দেওয়ার ক্ষেত্রেও অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। কেবলমাত্র স্বাস্থ্য সেবার মতো পেশার সাথে জড়িত ব্যক্তিই নয়, এমন পেশাগুলি যেখানে অন্যদের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতে হয়, যেমন দোকানের সাহায্যকারী কর্মী, এবং সেই সাথে যারা কারাগার বা অনাথাশ্রমে কাজ করছেন এমন লোকেদেরও অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত ।মাংস কারখানার শ্রমিকরা যারা করোনার প্রাদুর্ভাবের মধ্য দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তাদের পক্ষে এটি কঠিন হয়ে পড়ে। এখানের অস্বাস্থ্যকর কর্ম পরিবেশ বাতিল করা উচিত এবং পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে তাদের টিকা প্রদান করে পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা করা উচিত না। আর স্কুলগুলির কী হবে? বর্তমানে প্রায় তিন লক্ষেরও বেশি স্কুল ছাত্র ছাত্রী তাদের বাবা-মা সহ কোয়ারান্টিনে রয়েছেন, যারা এখন তাদের কাজে যেতে পারছেন না। এই কারণেই প্রাথমিক পর্যায়ে টিকা নেওয়া উচিত, কারণ স্কুলগুলির বিশেষ ভাবে সামাজিক গুরুত্ব সম্পন্ন এবং এই ক্ষেত্রে ব্যর্থতা সমাজের বৃহত অংশের বোঝা বাড়িয়ে তোলে। সুতরাং ন্যায্য বিতরণের ক্ষেত্রে কেবল স্বাস্থ্য ঝুঁকি এবং চিকিৎসা সম্পর্কিত বিষয়গুলি বিবেচনা করলে হবে না, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক দিকগুলিও দেখতে হবে।গত কয়েক মাসে দেখা গেছে যে সুবিধাবঞ্চিত লোকেরা প্রায়শই মহামারী দ্বারা আক্রান্ত হন।
সহায়তা প্যাকেজগুলি, যত বড়ই হোক না কেন, মানুষের ভয় এবং প্রয়োজনীয়তাগুলি পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারে না. এটি কর্মক্ষেত্র, ঘরোয়া সহিংসতা বা মানসিক অসুস্থতা যেমন হতাশা এবং আসক্তি সম্পর্কে উদ্বেগজনক হতে পারে। এবং যদি স্কুল দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ থাকে তবে এটি শিশুদের পুরো জীবনকে প্রভাবিত করতে পারে। শিশু এবং তরুণদের ভবিষ্যত সম্ভাবনাগুলির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য, বর্তমানে কেবল শিক্ষার ক্ষেত্রেই নয়, অবসর সময়ের সুযোগের ক্ষেত্রেও তাদের উপর কঠোরভাবে বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে । এটি কোনো পার্টি করা এবং উদযাপন করার বিষয়ে নয় যা রোগ ছড়িয়ে দিতে পারে, এটি হলো মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করার বিষয়ে যা বেড়ে উঠার জন্য জরুরি যেমন খেলাধুলা, গান বাজনা এবং একসাথে সংগীত তৈরি করা বা একসাথে সময় কাটাবার মতো প্রয়োজনীয়তাগুলো, যা পূরণ হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
অগ্রাধিকার তালিকায় এগুলি কম গুরুত্ব দেয়া উচিত নয়, কারণ শিশু এবং তরুণদের তাদের ভবিষ্যতের জন্য আশ্বাস এবং সুযোগের প্রয়োজন।সংক্ষেপে, আমার মতে, তিনটি মানদণ্ড একটি জাতীয় টিকাদান কৌশলের উপর ভিত্তি করে বিতরণের মানদণ্ড গঠন করা উচিত: ক। রোগের তীব্রতা বা প্রাণ নাশক হওয়ার ঝুঁকির মাত্রা খ। নিজে এবং অধিকসংখক জনগণকে সংক্রমিত করার ঝুঁকি গ। বিশেষ সামাজিক দায়িত্বেওবোধগুলো না এড়ানো এই মানদণ্ডগুলি কি ইউরোপীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রয়োগ করা যেতে পারে?এই সপ্তাহে, EU (ই ইউ) কমিশন এবং বিওনটেক/ফাইজার ৩০০ মিলিয়ন পর্যন্ত ভ্যাকসিন ডোজ সরবরাহের জন্য একটি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। তবে এই টিকাটি কীভাবে ইউরোপে বিতরণ করা উচিত ? EU (ই ইউ) কমিশন ইতিমধ্যে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে; এর মুখপাত্র ইউরোপীয় ইউনিয়নের জনসংখ্যার অনুপাতকে সদস্য দেশগুলিতে বিতরণের একমাত্র ন্যায্য মানদণ্ড হিসাবে বর্ণনা করেছেন। এটি আনুষ্ঠানিকভাবে সুস্পষ্ট হতে পারে, তবে এর পিছনে নৈতিক দাবি প্রত্যেককে সমানভাবে গণনা করে। ইউরোপীয় মান অনুসারে বিতরণতবে মূল্যবোধ সম্পন্ন একটি সম্প্রদায়ে মৌলিক অধিকারকে অগ্রাধিকার দিয়ে যে বিষয়বস্তু গুলোকে মানদণ্ড হিসেবে গণনা করা উচিত যা বিবেচনায় নেওয়া হয় নাই I
ইউরোপীয় নীতিশাস্ত্র পরিষদ এটির ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে এই কাউন্সিল গত সপ্তাহে একদল উচ্চ-স্তরের বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টাগণের সাথে একটি বিবৃতি জমা দিয়েছে। উনারা সুপারিশ করেন যে দুর্লভ পণ্যের বিতরণ সংহতি, সাম্যতা, অ-বৈষম্য এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের উপর গুরুত্ব রেখে ইউরোপীয় মূল্যবোধের ভিত্তিতে বিতরণের প্রয়োজনের মানদণ্ড অনুসরণ করবে। বিশেষত সুবিধাবঞ্চিত গ্রুপ যেমন বৃদ্ধ, দীর্ঘকাল ব্যাপী অসুস্থ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া উচিত। এই সুপারিশটি সম্ভবত বিওনটেক এর CFO (সি.এফ.ও ) Sierk Poetting (সিয়র্ক পোয়েটিং)` পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে, যিনি “স্পষ্টতই চান না যে, „পৃথক অঞ্চলের অধিবাসীদের শ্রেণীগতভাবে একটি অনায্য মূল্যস্ফীতি থাকুক “। এই পন্থাটি সমস্যাযুক্ত হবে যদি পোয়েটিং এই বিষয়ে কোনও অতিরিক্ত ছাড় না দেন। কারণ তিনি কম বয়সী ব্যক্তির চেয়ে বয়স্কদের বেশি ভ্যাকসিন দেওয়াটি ন্যায্য ও নৈতিকভাবে ন্যায়সঙ্গত বলে মনে করেন। । বিয়নটেক এখন ফাইজারের সাথে একত্রিত হয়ে নিজেরাই বিতরণের দায়িত্ব নিতে চান। আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের প্রেক্ষিতে এটা কি সঠিক হতে পারে? বিশ্বব্যাংক সম্প্রতি আশংকা করছে, যে মহামারীটি এই বছর বিশ্বব্যাপী ১৫০ মিলিয়ন মানুষকে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে ডুবিয়ে দেবে এবং তার পরের বছর তাদের অস্তিত্ব চরম সংকটের মধ্যে রয়েছে I যাদের আয় প্রতিদিন ১.৯০ ডলারের কম হবে। শুধু একটি ভ্যাকসিনের দ্বারা এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব না। তবে এর সুষ্ঠু এবং আন্তর্জার্তিক এবং সামাজিক স্বামঞ্জস্য বজায় রেখে বিতরণ করা হলে এই সমস্যার সমাধান প্রচুর পরিমানের হ্রাস করতে সহায়তা করতে পারে। যদি এই দুটি সংস্থা ভাল সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবুও, এই সিদ্ধান্তের ভার বাজারে ছেড়ে দেওয়া উচিত নয় এবং আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ব্যক্তি উদ্যোক্তাদের নৈতিক প্রেরণা দেওয়া উচিত। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন WHO) সম্প্রতি অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে একত্রিত ভাবে “কোভিড -১৯ সরঞ্জাম অ্যাকসিলারেটর” প্রতিষ্ঠা করেছে। সরকার, নাগরিক সমাজ এবং শিল্পের সাথে একত্রিত ভাবে এটি করোনার পরীক্ষা, থেরাপি এবং ভ্যাকসিনগুলির উন্নীত করন , উৎপাদন এবং যথাযথ ভাবে এর প্রাপ্যকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য স্থির করেছে। এই প্রচারণা আন্তর্জাতিকভাবে ভাগ করে নেয়া দায়বদ্ধতার দিকে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে, সরঞ্জামের ভ্যাকসিন সম্পর্কিত অংশ, COVAX এর ওয়েবসাইটে, এটিও লিখা আছে যে জনসংখ্যার আকার অনুসারে অংশগ্রহণকারী দেশগুলিতে সিরাম বিতরণ করতে হবে। আমি মনে করি এটি সমস্যাযুক্ত হতে পারে। বিতরণ বিচারের একটি পরিমাপ রয়েছে যা বিতরণ ব্যবস্থাকে অগ্রবর্তী করে। স্বাস্থ্য, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির দিক থেকে কোন দেশে কতটা জরুরিভাবে ভ্যাকসিনের প্রয়োজন, তা জনসংখ্যার দ্বারা নির্ধারিত হয় না।আমাদের সকলের ক্ষতি এড়ানো নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত। এর মধ্যে রয়েছে আইনী কাঠামো তৈরি করা এবং ভ্যাকসিনগুলির গণ উৎপাদন, তাদের পরিবহন এবং টিকা প্রদান সুনিশ্চিত করা। শিক্ষা এবং স্বচ্ছতা ধরে নেওয়া যাক আমাদের টিকা দেওয়ার মতো যথেষ্ট পরিমাণে উপাদান রয়েছে – কিন্তু কেউ টিকা দিতে যাচ্ছে না। এই ক্ষেত্রে শিক্ষা, স্বচ্ছতা , এবং টিকা দেয়ার অবশকতা সমন্ধে অবগত করা এবং টিকা দেয়ার জন্য ভাল যোগাযোগ বেবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যেন যত বেশি সম্ভব লোক টিকার মাধ্যমে নিজেকে সুরক্ষন করতে সক্ষম হয়। আগ্রহী যে কেউ বৈজ্ঞানিক তথ্য, উপাত্ত এবং টিকা দেয়ার উপকারিতা গুলো বুঝতে পারে এবং যা জনসাধারণের আস্থাকে প্রচার ও সমর্থন প্রদান করে। শুধুমাত্র এই জাতীয় ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে পর্যাপ্ত সংখ্যক লোকেরা তথাকথিত হার্ড ইমিউনিটি অর্জনের জন্য এবং ভাইরাস যাতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে ছড়িয়ে না যেতে পারে তা নিশ্চিত করার জন্য টিকা দেওয়া হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাটি যা ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে তা কিন্তু ব্যাপকভাবে পরিচালিত হওয়া উচিত। ভ্যাকসিন এখনও পাওয়া যায় নি। যখনি এটা পাওয়া যাবে, সেই সময় যখন আসবে তখন আমাদের মানবতা সম্পর্কে আমাদের বুঝা এবং এই বিষয়ে বলার মতো অনেক কিছুই থাকবে। সূত্র: Welt / Spiegel.

মাহবুবুল হক , শুদ্ধস্বর ডটকমের বিশেষ প্রতিনিধি ।

