দুর্নীতি, মিথ্যাচার, অমানবিকতা, ক্রমবর্ধমান দূষণ, বাড়তে থাকা হিংসা, সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়। দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে উদ্দেশ্য করে ১৮ পাতার দীর্ঘ চিঠিতে সবকিছুই ছুঁয়ে ছুঁয়ে গিয়েছিল সে। ক্রমশ ভয়াবহতার দিকে এগিয়ে চলা দেশকে নিয়ে উদ্বেগ ঘিরে ধরেছিল মাত্র ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে। তবে এমন সিদ্ধান্ত যে সে নিয়ে ফেলতে পারে তা ভাবতে পারেনি কেউ।
বীভৎস আগামীর কথা চিন্তা করে মোদীকে চিঠি লিখে আত্মঘাতী হল ভীত, আতঙ্কিত এক কিশোরীর। গত ১৪ আগস্ট নিজের মাথায় গুলি চালিয়ে আত্মঘাতী হয় উত্তরপ্রদেশের এই কিশোরী। নিজের সুইসাইড নোটে মোদীর সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে ওই ষোড়শী।
ভারতের উত্তর প্রদেশের সম্বল জেলার বাসিন্দা এই কিশোরী বাবরালার এক বেসরকারি স্কুলে পড়াশোনা করত। অত্যন্ত ভাবুক স্বভাবের এই নাবালিকা ভীষণ উদ্বিগ্ন থাকতো সমাজের খারাপ দিক গুলি নিয়ে। দুর্নীতি, দূষণ, দেশের সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের মত বিষয়গুলি তাকে মানসিকভাবে আঘাত করতো। ব্যাপক বৃক্ষচ্ছেদন, পিতামাতাকে বৃদ্ধাশ্রমের রেখে আসা বা অবহেলিত মানুষের কথা সংবাদমাধ্যমে পড়ে ও শুনে হৃদয় কাঁদত তার।
চিঠিতে ওই নাবালিকা প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছে দীপাবলিতে বাজি পোড়ানো ও হোলিতে রাসায়নিক রংয়ের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার। দিনে দিনে ক্রমবর্ধমান এই বিষয়গুলির পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সাক্ষাতের ইচ্ছের কথা জানা গিয়েছে ১৮ পাতার ওই চিঠির মাধ্যমে। পুলিশের অনুমান, সমাজ তথা দেশের এই খারাপ দিক গুলি ঠিক না হওয়ার হতাশা ক্রমশ অবসাদের দিকে ঠেলে দেয় তাকে। যার জেরেই হয়ত সে আত্মহত্যা করেছে।
পুলিশের তরফে জানা গিয়েছে ভারতের স্বাধীনতা দিবসের আগের দিন গত ১৪ আগস্ট নিজের মাথায় গুলি করে আত্মঘাতী হয় ওই কিশোরী। ঘটনাস্থল থেকে একটি রিভলবার উদ্ধার করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই মৃতদেহ ময়না তদন্তে পাঠানোর পাশাপাশি গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। কোথা থেকে ওই নাবালিকা রিভলবার পেল তা জানার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি দীর্ঘ ওই সুইসাইড নোট পড়ে জানার চেষ্টা চলছে তার মানসিক অবস্থা কেমন ছিল।

