ভূমধ্যসাগরে ভয়াবহ নৌকাডুবি, নিহত অন্তত ৪৫

ভূমধ্যসাগরে চলতি বছরের সবচেয়ে ভয়াবহ নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে পাঁচ শিশুসহ অন্তত ৪৫ জন অভিবাসী এবং শরণার্থী প্রাণ হারিয়েছেন। লিবিয়া থেকে অবৈধভাবে সাগর পাড়ি দেওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বুধবার জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এসব তথ্য জানিয়েছে।

ইউএনএইচসিআর এর বরাতে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সোমবার ওই নৌযানটি ৮০ জনেরও বেশি যাত্রী নিয়ে যাওয়ার সময় এর ইঞ্জিন বিষ্ফোরিত হলে তা ডুবে যায়। এতে অন্তত ৪৫ জন প্রাণ হারায়। ৩৭ জনকে স্থানীয় জেলে ও মৎসজীবীরা জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। এখনও নিখোঁজ বেশ কয়েকজন।

ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনার পর বুধবার যৌথ বিবৃতিতে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থা (আইওএম) এমন তথ্য দিয়ে উদ্ধার অভিযান জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থা দুটি বলছে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান ছাড়া ভূমধ্যসাগরে আরও অনেকের প্রাণহানি ঘটবে।

বিবৃতিতে জাতিসংঘের সংস্থা দুটি জানিয়েছে সোমবারের ভয়াবহ ওই নৌকাডুবির যারা প্রাণ হারিয়েছে, তাদের বেশিরভাগই আফ্রিকার দেশে সেনেগাল, মালি, শাদ এবং ঘানার বাসিন্দা।

চলতি বছর লিবিয়া থেকে ইউরোপ যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে তিন শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। ২০১৪ সালে আইওএম হিসাব রাখার শুরুর পর গত কয়েক বছরে এই সংখ্যা ২০ হাজারের বেশি। তবে এই তথ্যের চেয়ে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যাটা আরও অনেক বেশি বলেই জানাচ্ছে বিবিসি।

২০১১ সালে সাবেক লিবিয়ার শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফি ক্ষমতা থেকে উৎখাত হওয়ার পর অভিবাসীদের জন্য একটি প্রধান ট্রানজিট পয়েন্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশটি।

লিবিয়ায় অভিবাসীদের সাংঘাতিক ভীতিকর আচরণ করা হচ্ছে বলে খবর পাওয়া যায়, বিশেষত যদি তারা মিলিশিয়া কিংবা পাচারকারীর হাতে পড়েন, তাহলে নির্যাতন করা ছাড়াও সাথে থাকা অর্থ নিয়ে নেওয়া হয়। খবর বিবিসি।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.