COVID 19 এর আক্রমণে শরীরের ভিতরের বিভিন্ন অংশের স্বাভাবিক কার্যক্রমের ব্যাঘাত হচ্ছে। এর মধ্যে বিশেষ করে ডায়বিটিস, পেসার, কলস্টোরলের অতিমাত্রায় উঠানামা। ফুসফুস বিশেষজ্ঞ এবং Speech Therapy জন্য বিশেষজ্ঞর শরনাপন্নও হয়েছি। এর জন্য কমপক্ষে তিন মাসের কোর্স নিতে হবে। কিন্তু ডাক্তার বললেন, সব চেয়ে নিজে নিজের কঠোর অনুশাসন মেনে চলতে হবে। যেমন কথা না বলে থাকা, ব্যায়াম, বিশ্রাম, ঔষধ ও খাদ্যাবাস পরিবর্তন করা ইত্যাদি।
কিন্তু আমাদের পুরনো অভ্যাস কি সহজে পরিবর্তন হয়? যার কারণে মাসুল দিতে হচ্ছে অনেক। এদিকে দিন দিন আমেরিকার অবস্থাও মনে হয় বেকে বসছে। নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, কানেকটিকাট ছাড়া আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অক্রান্ত, মৃত্যুর সংখ্যা রেকর্ড পরিমাণ বাড়ছে। ইতিমধ্যেই নিউইয়র্কের গভর্নর ঘোষণা দিয়েছেন সংক্রমিত রাজ্য থেকে কেউ নিউইয়র্কে আসলে দুই সপ্তাহ কোয়ারেন্টানে থাকতে হবে, অন্যথায় দুই হাজার ডলার জরিমানা গুনতে হবে। যেটা এপ্রিল মাসে নিউইয়র্কের ক্ষেত্রে বিভিন্ন রাজ্য এ ধরনের ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু ঘোষণা আর আইন দিয়ে কতোটুকু টেকানো যাবে। এখন নিউইয়র্কবাসীও উৎকন্ঠার মধ্যে দিয়ে দিন অতিবাহিত করছেন। করোনা ভাইরাসের সাথে সম্পর্কিত মাল্টিসিমেটম ইনফ্লেসেটরি সিনড্রোম নামে নতুন রোগেরও সন্ধান মিলেছে। এপ্রিল মাসে প্রথম বৃটেন এবং আমেরিকার কিছু শিশুদের মধ্যে ধরা পড়ে এবং চিকিৎসকদের মতে এ রোগ শিশুদেরকেই মূলত আক্রমণ করে। বিবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই রোগে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যেও করোনার সংক্রমন রয়েছে। গত ১৫ এবং ২৭ মে বাংলাদেশের শিশুদের মধ্যেও এই রোগের উপস্থিতি পাওয়া যায়। আগে জানাছিল করোনা ভাইরাস বাতাসে বেশিক্ষণ থাকে না। কিন্তু বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে জেনেছেন বাতাসের মধ্যেও এর অস্তিত্ব বিদ্যমান থাকে। এদিকে আমেরিকার সামরিক বাহিনীর উদ্বেগের বিষয় হলো, গত কিছুদিন আগে ও করোনা সংক্রমণের সংখ্যা ছিল সাত /আট হাজার। বর্তমানে এ সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে ১৫৯৮৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এ সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। গত ১১ জুলাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প Washington এর ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টারে COVID 19 ও যোদ্ধাহত রোগীদের সেবা দেখতে যান। সেখানে এই প্রথমবারের মতো তিনি মাস্ক পরিধান করেন। কারণ এছাড়া তার উপায় ছিল না। কিছু দিন আগে কোর্টের আদেশ সবাইকে মাস্ক পরতে হবে সুতরাং প্রেসিডেন্ট আইনের উর্ধ্বে নন এবং সেই হাসপাতালেরও বিধি ছিল মাস্ক বাধ্যতামূলক। এ নিয়ে বিশ্ব মিডিয়ায় রীতিমত হৈচৈ শুরু হয়ে যায়। কারণ তিনি শুরু থেকেই করোনা টেস্টিংসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পক্ষে নয়। এ নিয়ে বিশেষজ্ঞ এবং রাজ্য সরকারের গভর্নরদের সাথে অযাচিত দেন দরবারে লিপ্ত হন। তার পাটির গভর্নররা কথা শুনায় আজ দ্বিতীয় ধাপে সেই সব রাজ্যেগুলো আক্রান্ত হয়ে মানুষ মৃত্যুর প্রহর গুনছে এবং আমেরিকা আবার সেই অদৃশ্য শত্রুর কালো থাবার হুমকির সম্মুখীন।
এই অবস্থার মধ্যে মনে হচ্ছে সহসা পৃথিবীর মানবজাতি এ থেকে মুক্তি পাচ্ছে না। কারণ এর প্রতিশেধক আবিস্কারের বিশ্বের ১২১ টি দেশের দৌঁড়ে, চায়না, বৃটেন, আমেরিকাসহ কয়েকটি দেশ আবিস্কারের তৃতীয় ধাপে রয়েছে, আরও ধাপ বাকি। সুতরাং যত দিন না প্রতিশেধক বাজারে না আসছে, ততদিন নিজে সচেতনভাবে সাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোন বিকল্প নেই। কারণ মনে রাখতে হবে এই অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই আমাদের নিত্যসঙ্গী। এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের মতামত হলো যদি কেউ মাস্ক ব্যবহার করেন তখন ৬৫/৭০% সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। তারপর ঘন ঘন সাবান দিয়ে হাত ধোঁয়া, গ্লাভস, নাক মুখে হাত না দেওয়া এবং ছয় ফুট দূরত্ব বজায় রেখে চলা। করোনা থেকে রক্ষার জন্য আপাতত তা মেনে চলার কোন বিকল্প নেই। এর প্রমাণ নিউইয়র্কবাসীকে দুই/তিন মাস আগেও মৃত্যুপুরী বলা হতো। কিন্তু আজ আমেরিকার বহু জায়গায় প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা ১৫/১৬ হাজার হলেও নিউইয়র্কে মাত্র ৬৫০ জন।
অর্থাৎ প্রতিদিন ৬০/৭০ হাজার টেস্টিং করলে আক্রান্ত ১.০৮%. এটা শুধু আমেরিকা নয়, পৃথীবির যে কোন দেশের তুলনায় কম। বিভিন্ন রাজ্য হু হু করে বাড়লেও নিউইয়র্ক এখনো মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে। এর একমাত্র প্রশংসার দাবি রাখেন গভর্নর, মেয়র এবং সাধারণ মানুষ। এখানে রাজনীতিকে প্রাধান্য না দিয়ে জনগণকে কিভাবে বাঁচানো যায় সংক্রামক বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে সাস্থ্যবিধি মেনে চলে সুচিন্তিত পদক্ষেপ নেওয়া। নতুবা মার্চ, এপ্রিলের দিকে যেভাবে শুরু হয়েছিল এত ঘন বসতিপূর্ণ বিশ্বের রাজধানী বলে খ্যাত নিউইয়র্ককে রক্ষা করা কঠিন হয়ে যেত।
প্রিয়জনের শুভেচ্ছা ভালোবাসায় এবার আমার দীর্ঘদিনের পুরনো রাজপথের সাথী ফেসবুকযোদ্ধা যার লেখনীতে প্রতিনিয়ত নিজেকে শানিত করি, আদর্শিক বন্ধন যার সাথে এখনো অটুট তিনি বুলবুল তালুকদার। ৩০ মার্চ সুদুর অস্টিয়া থেকে লিখেন, শাহাব উদ্দীন ভাই কোভিড ১৯ আক্রান্ত, মুকুল ভাই ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন, জেনে চিন্তিত। বার বার চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি, জানি তিনি হসপাতালে ভর্তি। তাকে সেই আশির দশক থেকেই চিনি, ছাত্রলীগ এবং গণতন্ত্রের সংগ্রাম গড়ে তোলার লক্ষ্যে সারা দেশ চষে বেডিয়েছেন। লড়াকু, দৃঢচেতা, সাহসী, এই ভাইটি আমার বিশ্বাস, সুস্থ হয়ে আবার ফিরে আসবেন।
একি আদলে জার্মান থেকে হাবিব বাবুল ভাই এবং জামাল লিখেন। ইতালি থেকে মোহাম্মদ শামসুল হক, এবং পায়েলও একইভাবে অনুভূতি প্রকাশ করেন। নিউইয়র্কের পরিচিতমুখ ¯েœহভাজন শেখ আতিক ৩০ মার্চ তার ফেসবুকে লিখেন, ছাত্র জীবনে প্রথম যার সান্নিধ্যে এসে ছাত্র রাজনীতিতে সর্ম্পৃক্ত হয়েছিলাম সেই শ্রদ্ধেয় বড় ভাই শাহাব উদ্দীন, আজ সমস্ত পৃথিবীর পটপরিবর্তনের অদৃশ্য শত্রু করোনা আক্রান্ত হয়ে নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সকলের কাছে অনুরোধ আসুন আমরা সবাই মিলে মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে সৎ, পরোপকারী এই ভাইয়ের জন্য দোয়া করি তিনি যেন সুস্থ হয়ে আবার ফিরে আসেন।
পারিবারিক স্বজনরা খুবই উতকন্ঠার মধ্যে দিয়ে দিন কাটান। এরিই মধ্যে হাসপাতালের বেডে শুয়ে শুয়ে হটাৎ দেখি একটি ছবিসহ চমৎকার লেখা। ডাক্তার মোহাম্মদ তাওহীদ জামান (তায়েফ) লিখেন, শাহাব উদ্দীন দুলা ভাই আমার খুব কাছের বন্ধু এবং অভিভাবক। তার অসুস্থতার খবরে আমরা উদ্বিগ্ন। সেই ১৯৯৩ থেকে ২০২০ সাল এই দীর্ঘ পথচলায় বিভিন্ন সময় উপদেশ, পরামর্শ দিয়ে পাশে থেকেছেন। আমরা পারিবারিকভাবে কায়েমনাবাক্যে প্রার্থনা করি আমাদের প্রিয় সুন্দর মনের মানুষকে যেন আল্লাহ সুস্থ করে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেন। তার সাথে একইভাবে পরিবারের ফ্রন্টলাইনযোদ্ধা বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থায় আমিও তাদের জন্য উদ্বিগ্ন থাকি। মি. এবং মিসেস ডা. খসরুজ্জামান রনি, ডা. নুরিয়াজামান ইমি, মি. এবং মিসেস তায়েফ, অধ্যাপিকা ফারহানা জামান মিলি, ডা. কান্তা নাহিদ, ডা. রাজিব, সজীব, সুমি, সোহেল, রাজু, রেশমা খোকন এবং তার স্ত্রী ফাল্গুনীর হাতের আট, দশ পদের রান্না ছিল করোনা কালের বাড়তি পাওনা। চলবে….।

লেখক: স্বৈরচার বিরোধী আন্দোলনের তুখোড় ছাত্রনেতা ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি।

