লাশের কাফেলায় সোনার কাঠি রুপোর কাঠি উল্টে গেছে!

দেশে সীমিত আকারে লকডাউন খুলছে ! যদিও বলা হচ্ছে সীমিত আকারে, সেটা কতটা সীমিত ?  সামনের দু- একদিনের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে দেশে করোনার এসপাড় ওসপাড় হতে যাচ্ছে। মানে বেশ স্পষ্ট, হয় বাড়বে, না হয় কমবে । তবে কমার কোনো বৈজ্ঞানিক যুক্তিপূর্ণ তথ্যসূত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। চোখ বন্ধ করেই বলা যায় বাড়বে। আর বাড়লে নিশ্চিত দ্বিতীয়বার দেশকে লকডাউনে যেতে হবে। অগ্রিম বলা যায়, এমন কিছু হলে সেটা সেনাবাহিনীর মাধ্যমেই হবে । তখন আর কোনো উপায় থাকবে না । এমনটা না হোক, সে প্রার্থনাই সর্বদা ।

ঘণ জনবসতিপূর্ণ দেশে অপরিকল্পিত লকডাউনের ফলাফল বলতে কেবলমাত্র অর্থনৈতিক ক্ষতিই হয়েছে বলে আপাতত মনে হচ্ছে। লাভের গুর পিঁপড়ে খেয়েছে!  কেননা সমন্বয়হীনতাই একমাত্র কারণ বলে মনে হয় ।  জনসাধারণের সত্যি সত্যি কি লাভ হলো ? সেই প্রশ্ন রয়েই যায়।  আক্রান্তের সংখ্যা বর্তমানে ক্রমবর্ধমান এবং মৃত্যুর সংখ্যাও । 

করোনায় আক্রান্ত আর মৃত্যু নিয়ে একটি বিষয় বেশ স্পষ্ট যে, করোনা কোনো করুনা করছে না । হোক সে গরিব বা ধনী, চাড়াল বা পাসন্ড, আওয়ামী বা বিএনপি কিংবা গণতান্ত্রিক বা অগণতান্ত্রিক । শহরের বস্তি থেকে শুরু করে উপর তলার এয়ারকন্ডিশনের ঘরেও এই করোনার হানা । ইতিপূর্বে কোনো রোগ বালাই উপর তলার ঘরে এমনভাবে হানা দিতে পারেনি, এই করোনার মতন । তাছাড়া আমাদের দেশে উপর তলার লোকজনের সামান্য সর্দি- কাশিতেও চার্টার প্লেনে বসে পরা একটা স্বাভাবিক বিষয়।  কঠিন বিপদ হয়েছে এবার এই মহামারীতে, কেননা উড়োজাহাজগুলোকেউ এই করোনা থমকিয়ে দিয়েছে।

লক্ষণীয় যে, একেতে উড়োজাহাজ চলছে না, তাছাড়া যাবেই বা কোন মুল্লুকে ? সব মল্লুকেই তো করোনা সাদর আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। তারপরেও একথা জোরগলায় বলা যায়, যদি আকাশ পথে স্বাভাবিক চলাচল বজায় থাকতো, তাহলে বর্তমানে দেশের উপর তলার ধনীকশ্রেনীর সুপ্রিম (!) মানুষগুলো তাদের আত্মীয়- স্বজন, আন্ডা- বাচ্চা সহ এই দেশ ত্যাগ করতো । শতভাগ চ্যালেঞ্জ করে বলা যায়, বর্তমান অবস্থায় দেশে ধনী মানুষদের টিক্কিটি পর্যন্ত দেখা মিলত না । করোনায় ভাগ্যের বিড়ম্বনা চলছে । কেননা এই সুপ্রিম মানুষগুলো এই দেশ থেকে ইচ্ছামত লুটরাজ  করতে একটুও কার্পণ্য করে না ! দেশের টাকা বৈদেশে ডলার/ পাউন্ড/ ইউরোতে জমা করে অভ্যস্ত। দেশের প্রতি এদের হৃদয় কখনোই কাঁপে না । হোক সেটা করোনা মহামারী বা ভিন্ন কিছু ।

করোনা এই শ্রেণীকে  সত্যি বাধ্য করেছে এমন মহামারীতে দেশে থাকতে । এবারই প্রথম দেখলাম দেশে গরিবের সাথে ধনীরাও সমান তালে পরকালে চলে যাচ্ছে । কোনো মৃত্যুই কাম্য নয় । তবে আমাদের দেশে গরিবের অকাল মৃত্যু  হবে, সেটা যেন একেবারেই স্বাভাবিক বিষয়। তবে এবার ধনীকশ্রেনীর মৃত্যুর কাফেলা সমাজের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে, এই সমাজের পরিবর্তন অতিব আবশ্যক ।

আপাত দৃষ্টিতে সমাজের বঞ্চিত শ্রেনীর প্রতি মানুষের হৃদয় কোণে কতটুকুন আস্ফালন আছে বলা মুশকিল।  তবে ধনীকশ্রেনীর জন্য একপ্রকার মায়া কান্না সর্বত্রই লক্ষণীয় । সত্য- মিথ্যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঢু মারলেই প্রমাণ মিলে । এখানেই আমাদের জনমনে একটি পার্থক্য লক্ষণীয়।  দেশের পরিবেশ- পরিস্থিতি আর রাজনীতির কল্যাণেই নিজেদেরকেউ আমরা তেমনভাবে মানুষ ভাবতে অভ্যস্ত কিনা ? সেটা একটা বড় প্রশ্ন বটে ।

মৃত্যু বরাবরই বেদনার । তবে করোনার মৃত্যু ঘুণে ধরা সমাজের জন্য একটি শিক্ষা বটে। এখান থেকে ভবিষ্যতে আমরা কতটুকু গ্রহণ করবো, সেটা ভবিষ্যতই বলবে। করোনা এই ঘুণে ধরা সমাজের ঘুম ভাঙিয়েছে  ” সোনার কাঠি রুপোর কাঠি “ উল্টিয়েছে । এই সোনা- রুপার কাঠি চিরতরেই উল্টিয়ে থাকুক।

20190210_195317

বুলবুল তালুকদার 

যুগ্ম সম্পাদক, শুদ্ধস্বর ডটকম ।

 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.