ডুয়েট পরিবারে ছিল তার স্ত্রী,আর বৃদ্ধা মা।অরবিন্দের তিন ভাই কে তাঁরা আনন্দের সাথে গ্রহন করেন দেশে ফেরার সময় অরোর বাবার কড়া নির্দেশ ছিলো তারা যেন কোন ভারতীয়দের সাথে মেলামেশা না করে। অরবিন্দের চৌদ্দ বছর ইংল্যান্ড থাকা কালীন সময়ে পাঁচ বছর ম্যানচেস্টার, ছয় বছর লন্ডন,শেষ তিন বছর অধিকাংশ সময় কেমব্রিজে কেটেছে। সে সময় তিনি স্বদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল।চিঠি, সংবাদ পএ,কয়েকজন পরিচিত লোকের মাধ্যমে স্বদেশে এর খবরা খবর জানতেন।কিন্ত স্বদেশ এর প্রতি তার ভালোবাসা, ছিলো অন্তরের অন্তস্থলে,যা পরবর্তীতে অগ্নি শিখায় রুপান্তরিত হয়।অল্প বয়সে,কাব্য, সাহিত্য, ইতিহাস, শেক্সপিয়ার, শেলী,বাইবেল ইত্যাদি সে পড়েছিলো।যার অধিকাংশ তার বোধগম্য হয়নি।কিন্ত অত্যাচার, অবিচার থেকে মুক্তির স্বপ্ন তাঁকে প্রভাবিত করেছিল।বাল্যকাল থেকে তিনি,নিষ্ঠুরতা,অত্যাচার সয্য করতে পারতেন না।ঐ সময় তিনি কতগুলি কবিতা রচনা করেছিলেন।এগারো বছর বয়সে তিনি অনুধাবন করেছিলেন– পৃথিবীতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সংঘটিত হতে যাচ্ছে।এখানে তাঁর অংশ গ্রহন নিশ্চিত হয়ে আছে।

১৮৮৪ সালের সেপ্টেম্বরে লন্ডনের সেন্ট পলস স্কুলে ভর্তি হন অরবিন্দ এবং ভাই মনমোহন। ইংল্যান্ড বিদ্যালয়ের অভিজ্ঞতা এই প্রথম।এর আগে তাঁদের বিদ্যা অর্জন ছিলো ডুয়েট দম্পওির কাছ থেকে।ম্যানচেস্টারে এক ঘেয়ে জীবন থেকে, এখানে এসে তার দৃষ্টি ভঙ্গি প্রসারিত হয়।সেন্ট পলস তৎকালীন ইংল্যান্ডের শ্রেষ্ঠ স্কুল গুলোর অন্যতম। প্রধান শিক্ষক মিঃ ওয়াকার অরোর অসাধারণ মেধা তক্ষুনি ধরতে পেরেছিলেন।ব্যক্তিগত তত্বাবধানে রেখে গ্রীক ও অন্যান্য বিষয় পড়াশোনায় সাহায্যে করেছিলেন– যাতে তাড়াতাড়ি সে উচ্চতর ক্লাসে পদার্পন করতে পারে।

তাঁর মেধা ও অধ্যবসায় অন্যান্য শিক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলো।তাঁর গুণাবলী দ্রুত বিকশিত হতে থাকে।স্কুলের সাহিত্য সভায় অংশ গ্রহন,ভাল বক্তা হিসাবে পরিচিতি লাভ করে। হটাৎ অরবিন্দ পাঠ্য পুস্তক বিষয় পড়াশোনার উৎসাহ হারিয়ে ফেলে। শিক্ষকরা অবাক এবং হতাশ হয়েছিলেন। পাঠ্য পুস্তক তাঁর কাছে খুব সহজ ছিলো।সে সময় তিনি বিদ্যালয় পাঠ্য বহির্ভূত বই কবিতা,উপন্যাস, ফরাসী সাহিত্য মনোনিবেশ করেন। কতিপয় ইউরোপীয় ভাষা শেখেন।ল্যাটিন ও গ্রীক ভাষায় কবিতা লিখে শিক্ষকদের প্রশংসা কুড়িয়ে ছিলেন।পুরস্কার ও পেয়েছিলেন। পুরস্কার এর মধ্যে আরব্য রজনী বইটিও ছিলো।তিনি বইটি আগ্রহের সঙ্গে পড়েছিলেন। পাঠ্য পুস্তকে অমনোযোগ শিক্ষকদের ভালো লাগছিলো না। কিন্ত স্কুলের ফাইনাল পরীক্ষায় শ্রী অরবিন্দ অসাধারণ ফলাফল করেন। চলবে —

ফেরদৌসি কাজী লিনু হক ।

