কানাডা: করোনা ভাইরাস এর ভয়ে বিদ্ধাশ্রম থেকে  নার্সদের  পালিয়ে যাবার কারনে ৩১ জন বৃদ্ধের মৃত্যু

 

 

 

কানাডার একটি বৃদ্ধাশ্রম এ  কয়েক ডজন প্রবীণ নাগরিককে পানিশূন্য ও অপুষ্ট অবস্থায় পাওয়া গেছে।  মারা যান ৩১ জন  সিনিয়র সিটিজেন।

 

মাত্র  কয়েকদিনের  মধ্যে ৩১ জন মারা যান : প্রায় সব নার্স করোনাভাইরাস এ আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে  এই আশ্রম টি  ছেড়ে পালিয়ে চলে যাওয়ার কারণে এই মর্মান্তিক এবং দুঃখজনক ঘটনা ঘটে।  বেশিরভাগ নার্সের কাজ বন্ধ থাকার একদিন পরেই স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ মন্ট্রিলের কাছে ডরভাল নামের  এই বাড়িতে লোকজনদের কে খুঁজে পান।  জীবিত বেশিরভাগ লোক পানিশূন্য ও অপুষ্টিতে ভুগছে বলে তালিকাভুক্ত করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কয়েকটি কক্ষ প্রস্রাবের এবং মলমূত্রের দুর্গন্ধযুক্ত ছিল ।

কিউবিকের প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঙ্কোয়েস লেগাল্ট  এই বেপারে  নার্সদের  সম্পূর্ণ অবহেলার  কারণ খুঁজে বের করার তদন্তের ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁর মতে, সর্বশেষে এই বৃদ্ধ্যাশ্রমে মোট ১৩০ জন বাসিন্দার দেখাশোনা করার মাত্র  ডজন নার্স ছিল।  এই  “ওলড  হোম”  ম্যানেজমেন্ট স্পষ্টতই কর্মীদের অভাবকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেছিল।

সরকারী প্রতিবেদন অনুসারে, কমপক্ষে পাঁচ জন বাসিন্দা করোনভাইরাস দ্বারা সংক্রামিত হয়ে  ফুসফুসের রোগে মারা গিয়েছিলেন। সরকার র এখন অন্যান্য ২৬  জন ব্যক্তির কী কারণে মারা গেছে তা পরীক্ষা করে দেখছেন।

yyডোরভাল বাড়িটি একটি বিলাসবহুল   বৃদ্ধাশ্রম আবাস হিসাবে পরিচিত।   টিভি স্টেশন “গ্লোবাল নিউজ” অনুযায়ী  এখানকার বাসিন্দারা  প্রতি মাসিক ফি হিসাব কয়েক হাজার ডলার পে করতেন।

এই প্রতিষ্ঠানের মালিক,  কাতাসা নামে একটি রিয়েল এস্টেট সংস্থা বলেছিল যে বর্তমানে কঠিন পরিস্থিতিতে তারা  নার্সিং কর্মীদের রক্ষা করতে এবং বাসিন্দাদের সর্বোত্তম সম্ভাব্য যত্ন প্রদানের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন। এই অঞ্চলে আরও ছয়টি  বাড়ির মালিক কাতাসা।

ডরভালের “অবসর হোম” ইতিমধ্যে কানাডিয়ান মিডিয়াতে করোনার সঙ্কটের প্রতীক হয়ে উঠেছে। কানাডায় প্রায় ১,৩০০ করোনার মৃত্যুর মধ্যে  প্রায় অর্ধেক  দীর্ঘমেয়াদী  সিনিয়রদের হোমগুলিতে ঘটেছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি’র  এজেন্ট  মাইরা ডেভিস বলেছেন, তাঁর বাবা  চতুর্থ এপ্রিল এমন  একটি  নার্সিংহোমে  মারা গিয়েছিলেন।  এইসব আবাসিক স্থান  “আমাদের বয়স্কদের যত্নের ক্ষেত্রে কী পরিমান ভুল করে  তার একটি প্রধান উদাহরণ” এইসব । কথিত আছে যে ৪৬ – বছর বয়সী এই যুবক তার মৃত্যুর এক সপ্তাহ আগে করোনার ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন।

হেরোন এর  এটাই  একমাত্র “ওল্ড হোম”  নয় যেখানে  অনেক নার্সের অভাব রয়েছে। কর্তৃপক্ষের মতে, ইলে ডি মন্ট্রিয়ালের পশ্চিমে আরও তিনটি  বৃদ্ধাশ্রমে  এখনো কমপক্ষে ৩ থেকে ৪ জনের কর্মীর ঘাটতি রয়েছে।

মাহাবুবুল হক, শুদ্ধস্বর ডটকমের বিশেষ প্রতিনিধি ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.