সময় এসেছে শিক্ষার চারিত্রিক রূপটা কি সে বিষয়ে সবারই সচেতনতা অর্জন করা। কথায়, ব্যবহারে, আচার আচরণে, স্বল্প বা দীর্ঘ মেয়াদি কর্মের গুণগত মানে যার প্রকাশ।
ধরে নেওয়া যাক হঠাৎ কেউ যেখানে সেখানে থুথু ফেললো, এতে যা প্রকাশ পেলো তা হচ্ছে তার পরিবেশ ও সুস্থ বাঁচতে যে নিয়ম গুলো মেনে চলা উচিৎ সে সম্পর্কে ধারণা নেই অর্থাৎ জীববিদ্যা সম্পর্কে সে অশিক্ষিত। রাস্তায় কেউ ময়লা ফেললো, সে ময়লা বা ছিলকার পচনশীলতায় সৃষ্টি হলো রোগ, ছড়ালো ব্যাকটেরিয়া এতে ক্ষতি গ্রস্ত সবাই যা অশিক্ষিতর আচরণ বহন করে।
হাচ্ছি, কাসি দিতে অসতর্কতায় কারো উপর এর প্রতিফলন ঘটানো যা আচরণ বিধি লঙ্ঘন এও অশিক্ষার আচরণ। সে নিজের রোগ জীবানু অন্যদের প্রতি ছড়াচ্ছে।
অতিরিক্ত সাউন্ড দিয়ে কেউ গান শুনছে, জোরে কথা বলছে, অপ্রয়োজনে গাড়িতে হর্ণ দিচ্ছে, এতে স্বার্থপরতায় অন্যের লেখাপড়া বা চিন্তা ভাবনার ব্যাঘাত ঘটাছে, যা কারও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করছে এও এক ধরণের অশিক্ষা।
কথায় কাউকে অসম্মানিত করছে, রুট ব্যাবহার করছে এতে সে ম্যানারলেস এও তার আচরণ বিধি লঙ্ঘন, অশিক্ষা। এভাবেই আমরা শিক্ষার মান নির্ণয় করতে পারি। এ ভাবে সার্বিক বিষয় গুলো বিবেচনায় বাংলাদেশের শিক্ষিত লোকগুলো আমরা যদি গোনায় নিয়ে আসি তার অংকে কি দ্বারায় তা নাই বললাম।
তাই কাউকে ঠকানো, কারও সাথে ধোঁকাবাজি করা, প্রতারণা করা, মিথ্যা বলা, ঘুস নেওয়া, বিপদে ফেলে অতিরিক্ত জিনিস পত্রের দাম নেওয়া এমনটা অশিক্ষার চরম পর্যায় যা মেনে নেয়া যায় না শিক্ষিত সমাজে। তাই এ সকল আচরণ বিধির একটা সুরাহ আসতে সবারই প্রয়োজন শিক্ষার আলোতে আসা উচিৎ বলে আমি মনে করি।
সবাই উন্নয়নশীল দেশ বল মুখে ফেনা তুলে ফেলে কিন্তু এই সামাজিক অবক্ষয় হতে আমরা কতোটুকু উন্নয়ন সাধন করতে পেরেছি সেই বিষয়টা ক’জন কি ভাবে ভেবে দেখেছেন? সেই প্রশ্ন সকলের কাছে।
যে উন্নয়ন মুলক কাজ করতে গিয়ে অর্থ চুরিতে নিম্নমানের কাজ করছে, নির্মাণ স্থায়িত্বে গ্যারান্টি দিতে পারছে না, তার ডিগ্রি থাকতে পারে কিন্তুু সে যে একটা চোর, বাটপার, ধোকাবাজ তাতে কেউ কেনো কিছু বলছি না? কারণ আমরা এতে তাকে চুরি করতে সহায়তা করছি, এমনটাও আমাদের অশিক্ষা। যেখানে সে খানে ধুমপান, প্রস্রাব পায়খা, সব কিছুই গোল পাকিয়ে যাচ্ছে একটা সুস্থ শিক্ষিত সমাজ বলতে যা বুঝায়। কিন্তু কেনো? এর কি কোনই প্রতিকার নেই? হ্যা আছে। দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। শিক্ষা কারো কপালে লেখা থাকে না, তাই পরিবর্তন প্রয়োজন আচরণের, কর্মের। আজ আমরা একটা এমারজেন্সি প্রিয়োট অতিক্রম করছি। সবাই ঘরে বসে। একটু ভাবুনতো আমাদের ভুল গুলো কোথায় কোথায় ? আমরা কি এর কোনো পরিবর্তন আনতে পারি না? বলতে পারি না আমরা শিক্ষিত? আমরা শিক্ষায় উন্নত?
মায়েদুল ইসলাম তালুকদার, জার্মান প্রবাসী কবি এবং লেখক ।

