ধর্মের কুতুব এবং বিজ্ঞান

ধর্ম নিয়ে কিছু লেখা মানেই অযাচিত প্রশ্নের সম্মুখীন হওয়া । মাঝে মাঝে ধর্ম নিয়ে লিখতাম । ধর্ম নিয়ে মানে, ধর্মের বয়ান বা প্রচারের ব্যাক্তিটি কে , কি বলছেন তার তাৎপর্য , বিচ্ছিরিভাবে ফালাফালির জিকির, কিংবা  তাফসিরের খবর নাই শুধুই ভয় দেখানো বা হুমকি/ ধামকি ইত্যাদি বেখাপ্পা কিছু চোখে পড়লেই, বিরক্তিকর সেই বিষয়ে  লিখেছি। চাক্ষুষ ভিডিও প্রমাণ থাকা স্বত্বেও এমন সব প্রশ্নের সম্মুখীন হতাম, যার সাথে আমার লেখার কোনো যোগসূত্র থাকতো না বা প্রাসঙ্গিকতা থাকতো না। বুঝতাম সব প্রশ্নগুলোই থাকতো ভক্ত মনের আবেগি প্রশ্ন । এমনটি হতেই পারে, আমি তার বিরোধিতাও করছি না, কেননা ভক্ত বিষয়টির সেন্সেটিভিটি আমি কিছুটা হলেও অনুমান করতে সক্ষম। ভক্তি মনের বিশ্বাস, অন্ধবিশ্বাস , না জেনে, না বুঝে, বুঝে বা দেখে বিশ্বাস? সেটা প্রত্যেক ভক্তের নিশ্চয়ই নিজস্ব ব্যাখ্যা থাকে। আমি সেই দিকে যাচ্ছি না।

কিন্তু ধর্মের ক্ষেত্রে অন্ধবিশ্বাসই থাকতে হবে, কেননা জানা যাবে, বুঝা যাবে কিন্তু দেখা যাবে না এবং প্রমাণও পাওয়া যাবে না , এটাই সত্য । ভিন্নভাবে বলা যায়, ধর্মবিশ্বাসে ক্ষীণ পরিমাণও কিন্তু রাখা সঠিক নয়। কেননা ধর্মবিশ্বাসের ক্ষেত্রে নিজের সাথে বা মনের সাথে কোনো প্রশ্ন থাকলে আর ধর্মবিশ্বাস থাকে কিনা, সেটাও একটা বড় প্রশ্ন বটে। সেটাও আমার আলোচনার বিষয়বস্তু নয় ।

যা বলতে চাচ্ছি, সেটা নিচের ছবিটির বিষয়ে । নিচের ছবিটি লক্ষ্য করুণ এবং এই সব ধার্মিক কুতুবদের বলার বিষয়ে লক্ষ্য করুণ । নিচের ছবিটি দুইটি ধর্মের তিনজন ধার্মিক কুতুবদের সমন্বয় করা হয়েছে। তিনটি ভিন্ন ছবিকে একত্রিত করেছি মাত্র । দুই ধর্মের ছবি দেবার কারণটি প্রথমে বলি। ব্যক্তিগতভাবে আমার নিজের ধর্ম নিয়ে যখন অধিকার বলে সমালোচনা বা বিভিন্ন প্রশ্ন ছুঁড়ে দেই ( অবশ্যই সেগুলোর বেশিরভাগই কটূক্তি বা বিরক্তিকর বিষয়ে থাকে, ব্যাখ্যা বুঝবার কারণে ), তখন আমার অনেক ভিন্ন ধর্মাবলম্বীর ( যেমন বিশেষ করে  হিন্দু বন্ধুরা ) ফেইসবুকের বন্ধুরা প্রায়শই হাসির ইমু বা হাসির রিয়েক্ট করে বেশ আনন্দ পান এবং সাথে আমার সাথে মিলিত যুক্তির সঙ্গও দিয়ে থাকেন কমেন্টসের মাধ্যমে, বেশ এবং ভালো ।

তবে অনধিকার হবে বলে তাদের ধর্ম নিয়ে কখনোই লিখি না এবং কম জানি বলে আরো লিখি না । এখানে স্পষ্ট করে বলা ভালো যে, আমি এখানে যা লিখছি তা আমার ব্যক্তিগত কমন সেন্স থেকে লিখছি । কোনো ধর্মীয় জ্ঞাণ থেকে লিখছি না । তবে আমি কখনোই আমার সেই সব বন্ধুদের নিজেদের ধর্ম সম্পর্কে কিছু লিখতে বা বলতে দেখি না  ( হতে পারে আমার দেখায় কমতি আছে, তবে সম্ভাবনা কম )। তাদের ধর্মের কর্মেও কত প্রকার কটূক্তি, কি সব অবাস্তবীক ভাষ্য বাজারে বা পত্রিকায় প্রতিনিয়তই আসছে, অথচ তারা তখন মুখে কলুপ এঁটে বসে থাকেন ! অথচ আমার সেই সব বন্ধুদের লেখালেখি বা কমেন্টস দেখলে বেশ বিজ্ঞাণ মনস্ক ও আধুনিক মনা মনে হয়। তবে নিজেদের ধর্মের ক্ষেত্রে বিজ্ঞান ও আধুনিকতার ছোঁয়া বেশ কমই দেখি। হতে পারে এটা ধর্মের নামে অন্ধ বিশ্বাস । তবে আমি যুক্তি ও বিজ্ঞাণের বাহিরে যেতে ব্যক্তিগতভাবে মোটেও রাজি নই।

20200305_144242.jpg

এবার ছোট্ট করে তিনটি ছবির কথা বলেই লেখা শেষ করবো। ছবিগুলোর প্রথম ছবিটিতে সৌদি গ্র্যান্ড মুফতি যে ভাষ্য এখানে দিয়েছেন , এটা যদি ধর্মের সঠিক ব্যাখ্যা হয়, তাহলে হাসি ছাড়া আর কি বা লিখতে পারি। স্বরণ করিয়ে দেবার জন্য বলছি, এই গ্র্যান্ড মুফতি ( জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় পড়েছি এবং আমি সেই সময়েই ধিক্কার দিয়ে লিখেছিলাম) একবার ওয়াজ বা নসিহৎ করেছিলেন, ” প্রয়োজনে পুরুষেরা নারীর  মাংস খাবার অধিকার রাখে ” , ধিক্ক ।

দ্বিতীয়জনের ভাষ্য শুনে  শুধু হাসিই পায় না, বেক্কলও হতে হয়। কি বিজ্ঞান ! কি অংক ! কি রাজনীতি ! কি কৌশল ! ইনি ভারতে বিখ্যাত মাওলানা । এই ভারতেই এক সময় মুঘলদের রাজত্ব ছিলো, মুসলমানদের সিংহাসন ছিলো ! এখন কেন নাই ? এই সব কুতুবদের জ্ঞাণের আলোর সামান্য একটু বিশ্লষণ করলেই যথেষ্ট হবে, আর আগে যাওয়া লাগবে না ।

তৃতীয়জন আবার আমার সেই সব প্রাণ প্রিয় বন্ধুদের ধর্মের কুতুব। ” টি – পার্টির অনুকরণে গোমূত্র পার্টি ” – হিন্দু মহাসভা করতে যাচ্ছে।  তাও আবার করোনার হাত থেকে বাঁচাতে ! কি বলবো ? আমার হাসি, কান্না, ও অট্টহাসি এক সাথে হচ্ছে । কেননা বিজ্ঞাণকে এতটাই হেয় প্রতিপন্ন করা ! বিজ্ঞাণ বলছে এই বিষাক্ত ভাইরাস হতে কতটুকু পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অবলম্বন করতে। বিজ্ঞাণ রাত দিন এক করে ফেলেছে গবেষণায়, যেন প্রতিষেধক তৈরি করতে পারে। আর হিন্দু মহাসভার দাবী, ” করোনা রুখতে একমাত্র মহৌষধি গোমূত্র ও গোবর ” ! আমার দুঃখ হয় যখন আমার ভিন্ন ধর্মাবলম্বী আধুনিক মনা বন্ধুরা এই সব আজগুবি বিষয়ে নিরব থাকেন। এটাও সম্ভব !

লেখার একেবারেই শেষে বলি, বিজ্ঞাণ বিহীন জীবন কল্পনা করা আর বোকার স্বর্গে বসবাস করা সমান। ধর্মের কুতুবদের আজগুবি অংক, হিসেব আর অমানবিক কথার কোনো মূল্যে বিজ্ঞানে নেই। যার যার ধর্ম পালন করা অবশ্যই সঠিক, আমার ভাষ্য সেটা নিয়ে মোটেও না । তবে ধর্মের নামে আজগুবি ব্যাখ্যা, ধর্মের নামে উদ্ভট প্রতিকার, ধর্মের নামে বিকৃত মস্তিষ্কের কুতুবদের অপ্রত্যাশিত বাচনকে ( সেটা যে ধর্মেই হোক ) ঘৃণা ভরে প্রত্যাখ্যান করাই ধর্মের প্রথম আমল হতে পারে। মনে রাখা ভালো, আমরা সবাই বিজ্ঞাণের উপর নির্ভর করেই জীবন যাপন করছি । কেউ বিজ্ঞানের বাহিরে নয়।

20190210_195317

বুলবুল তালুকদার 

সহকারী সম্পাদক, শুদ্ধস্বর  ভটকম

 

 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.