ঢাকায় সবার বোনাস লাইফ !
বেঁচে থাকাই আলহামদুলিল্লাহ,
সুস্থ থাকা সুবহানআল্লাহ,
এভাবেই কেটে যাবে ইনশাহ্আল্লাহ্ !
লেখার শুরুতেই শুদ্ধস্বর ডটকম পত্রিকার সহকারী সম্পাদকের মন্তব্যেটি দিয়েই শুরু করলাম – আইরিন পাড়ভিন
লিখতে চেয়েছিলাম অষ্ট্রিয়ায় করোনা ভাইরাস, এর বর্তমান অবস্থা এবং সরকারের ব্যবস্থা গ্রহণের সার্বিক বিষয়াদি নিয়ে । একটি উন্নত রাষ্ট্র কোনো দুর্যোগে কিভাবে ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করে, সেটা বলার জন্য । জানি, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি কেবল মুখেই সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড বা মালয়েশীয়া হয়ে আছে, তারপরেও যদি ইউরোপের ব্যবস্থাপনা থেকে কিছু গ্রহণ করতে পারে, সেটাই লেখার মূল উদ্দেশ্য মাত্র । গ্রহণ করতেই হবে এমনটি অবশ্যই নয়, কেননা প্রত্যেকটি রাষ্ট্রের নিজস্ব সমস্যা ও পরিধি ভিন্ন থাকে এবং সেই অনুযায়ীই অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নিতে হয়। তারপরেও শোনা বা জানা থাকলে সুবিধেই হয় নিশ্চয়ই ।
তবে আইরিনের মন্তব্য বা ভাষ্যেটিই আমাকে লেখার মোড় ঘুরিয়ে দিচ্ছে বারবার। তাই ছোট্ট করে অষ্ট্রিয়ার কিছুটা পরিস্থিতি বলে, আইরিনের ভাষ্যে নিয়ে কিছু বলার থাকবে, দেশের পরিস্থিতি নিয়ে ।

ভৌগলিক ভাবে অষ্ট্রিয়া ইউরোপের হার্ট, কেননা এ দেশটি ইউরোপের মধ্যেস্থানে অবস্থিত। অনেকগুলো দেশের সাথে বর্ডারের মধ্যে ইতালির সাথে বর্ডার আছে। সে কারণেই অষ্ট্রিয়ায় করোনা ছড়িয়ে যাবার একটা সমূহ সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে । যেহেতু ইউরো দেশগুলোর বর্তমানে কোনো বর্ডার নেই ( মানে সব খোলা ) সেইহেতু করোনা ভাইরাসটি অষ্ট্রিয়াতেও একটি মহা সংক্রমণ হয়ে আসার সম্ভাবনা বেশ মাত্রায় থেকেই যায় । সরকার সেই বিষয়টিকে মাথায় রেখেই দ্রুত সমগ্র দেশকে একটি নিরবচ্ছিন্ন নিশ্চয়তার গন্ডির ভিতরে আনার প্রচেষ্টায় আছে এবং খুব দ্রুত গতিতে সাধারণ জনমানুষকে আতঙ্কিত না করে, সকলকে সাথে নিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সরকার যে বাণীটি বারবার দিচ্ছে, ” আমরা একে অপরের সাথে সম্মিলিতভাবে এই মহা সমস্যা থেকে দেশ ও সকল নাগরিকদের সুস্বাস্থ্য, নিরাপদ জীবন ব্যবস্থা, নিশ্চিত রাখতে সাধ্য হব ” ।

লেখায় দেখার চেষ্টা করবো একটি স্থিতিশীল ও পরিকল্পিত গোছানো দেশ কিভাবে জনগণ ও সকল রাজনৈতিক দলগুলোকে সাথে নিয়ে নির্দিষ্ট ছক অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। সংক্ষিপ্তভাবে বলি, বর্তমানে অষ্ট্রিয়ার যেকোনো বর্ডার দিয়েই দেশের বা প্রবাসের কেউ প্রবেশ করছে, তাদেরকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর মুখোমুখি হতে হচ্ছে । ইউরো জোনের কারণে সাধারণত বর্ডারে কোনো টহল নেই, তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় বর্ডার, হাইওয়ে কিংবা সর্বত্রই পুলিশের দেখা মিলছে। যারাই বর্ডার দিয়ে প্রবেশ করছে, সকলেরই একটি নির্দিষ্ট টেস্ট হচ্ছে, প্রাথমিক ভাবে। তারপর, অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

দেশের সকল নাগরিকদের , যারা বাহিরের দেশে আছে সম্ভব হলে দ্রুত আজ মধ্যে রাতের মধ্যেই দেশে ফেরার জন্য আদেশ দেওয়া হয়েছে। কেননা আজ থেকে বর্ডারে আরো কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্ডার দিয়ে যত পাবলিকগাড়ি বা মালবাহীগাড়ি চলছে, সেখানে পাবলিকগাড়িগুলোকে চলাচলের জন্য অনুৎসাহীত করা হচ্ছে এবং রাস্তাও সীমিত করা হয়েছে। মালবাহী গাড়িগুলোকে ননস্টপ চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ কোথাও না থেমে পাড় হবার ব্যবস্থা করা হচ্ছে । বর্ডারের প্রতিটি স্থলে গাড়িগুলোকে অ্যন্টিসেপটিক দ্বারা হাইজিনের ব্যবস্থা করে ছাড়া হচ্ছে।

প্রতিনিয়ত দেশের গণমাধ্যমে টিভি/রেডিওতে সব নিউজ প্রচার করা হচ্ছে । কোথায়, কতজন বা কি পরিস্থিতি বর্তমানে আছে, তা প্রচার করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের সাথে নিয়মিত আলোচনা চলছে এবং সঠিক করণীয় কি, সেটা বুঝিয়ে বলার প্রচেষ্টা সত্যি প্রশংসনীয় । নিয়মিত সকল ড্যাটা আপডেট করে জানানো হচ্ছে ।

গতকালকের একটি পরিসংখ্যান ( ১৩/০৩/২০ , ০৮: ০০ এ এম ): এই অব্দি মোট ৬, ৫৮২ জনকে পরীক্ষা করা হয়েছে। তার মধ্যে বিকেল ০৩:০০ পি এম, সময়ে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, মোট ৫০৪ টি কেস করোনা আক্রান্ত হবার সম্ভাবনায় রয়েছে । সর্বশেষ খবর অনুযায়ী মোট ১০৪ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছে । কোথায়,কোন শহরে বা কোন অঙ্গ রাজ্যে, তা বিস্তারিত দেওয়া আছে। আমার বসবাসের অঙ্গ রাজ্যে ওভার অষ্ট্রিয়ায় আছে মোট ৮৪ জন করোনা আক্রান্ত হবার সম্ভাবনার লিস্টে । মৃত্যুর সংখ্যা কেবলমাত্র ভিয়েনা রাজধানী শহরে একজন। তবে সেই রোগীর নানান ধরনের রোগ সংযুক্ত ছিলো পূর্ব থেকেই। এতটাই বিস্তারিত ড্যাটা প্রকাশ করে যাচ্ছে । যেন সাধারণ জনগণ ড্যাটা দেখে কিছুটা স্বস্তি ফিরে পায় এবং কোনো প্যানিক সৃষ্টি না করে।

এটা খুবই স্বাভাবিক যে, প্রতিটি কর্মক্ষেত্রের সাথে ভিন্নটির একটি যোগসূত্র থাকে । সকল কর্মক্ষেত্রই একই বৃত্তের মধ্যে বাঁধা । এক জায়গা পুরোপুরি বন্ধ হলে অন্য জায়গায় তার রেশ পরবেই। সরকার সেই সকল বিষয়গুলো মাথায় রেখেই কর্ম পরিচালনা করে যাচ্ছে । আজ থেকে আগামী প্রায় তিন সপ্তাহ সকল স্কুল/কলেজ/ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্ডারগার্টেন ও প্রাইমারি স্কুলগুলো বন্ধ করা নিয়ে সরকারকে বেশ বেগ পেতে হয়েছিলো। কেননা লক্ষ চাকুরিজীবী আছেন, যাদের শিশুদের নিয়ে একটা বড় সমস্যা । তবে সেই সমস্যা কাঁটিয়ে উঠতে নানাবিধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে । অল্টারনেটিভ ব্যবস্থার কারণে কাউকেই বাচ্চাদের নিয়ে তেমন বেশি বেগ পেতে হবে না । হসপিটালগুলোতে সাধারণ রোগীদের কেউ একান্তই জরুরি ছাড়া, আপাতত দেখা করতে যেতে পারবে না। দেখা করতে হলেও কর্তৃপক্ষের বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষেই হতে হবে। বৃদ্ধাশ্রমেও একই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মোট কথা আপতত মানুষের সাথে মানুষের যেন কোনো প্রয়োজন ছাড়া সংযোগস্থাপন কম হয় এবং সবাই চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছে।

স্কুলের ছাত্রদের জন্য অনলাইন পদ্ধতিতে পড়াশোনা নিয়মিত চলবে। বড় / ছোটো দোকান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর সময় সীমা কমিয়ে আনা হয়েছে। বার/ রেস্টুরেন্ট কিংবা ছোটো কিউস ( খাদ্যের দোকান) গুলোর সময়ও কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে। উদ্দেশ্যে যেন কেউ বীনা কারণে এক জায়গায় জড়ো না হয়। সকলের প্রতি বিশেষভাবে সরকারীভাবে অনুরোধ করা হয়েছে, কোথাও বেশি মানুষের মেলামেশা না করার জন্য । সকল প্রকার অনুষ্ঠানকে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে পরবর্তী আদেশ পর্যন্ত । গতকাল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এর সাথে লিন্জ লাস্ক ফুটবল দলের সাথে খেলা দর্শক শূন্য হয়েছে।

বিমানবন্দর/ রেলস্টেশনগুলোতেও কড়াকড়ি করা হয়েছে। তবে এখন অব্দি মানুষের চলাচলে কোনো সময় সীমা নির্ধারণ করা হয়নি । আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ( পুলিশ সদস্যদের ) সকল প্রকার ছুটির অপশন বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের প্রয়োজনেই সর্বত্রই পুলিশ বেশি করে দায়িত্ব পালনে মনো নিবেশ করেছে। কেননা ইউরোপের পুলিশই যেকোনো প্রয়োজনে সবার আগে থাকে এবং সত্যি এই পুলিশরা সৎ ও মারাত্মক কর্মঠ বাহিনী । এদের দায়িত্ব পালনে কোথাও কোনো কমতি থাকে না ।আইন কানুন এরা শতভাগ প্রয়োগ করে জনকল্যাণেই সর্বদা কাজ করে যায়। পুলিশ জনগণের বন্ধু, এরা সাহায্যের হাত যেভাবে জনগণের প্রতি বাড়িয়ে দেয়, সত্যি সেটা প্রশংসনীয় এবং মর্যাদাপূর্ণ ।

বিশ্বের এমন কোনো দেশ নাই যেখানে রাজনীতিকরা গালাগালি না পায়। যত দোষ নন্দ ঘোষ । সব দোষতো সেই রাজনীতিকদের। তবে রাজনীতিকরা যে কতটা দেশ প্রেমিক হয়, সেটার উদাহরণ ইউরোপে শত শত আছে। গতকালকের অষ্ট্রিয়ার উদাহরণ দেই। সরকারি দলের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সংসদের বিরোধীদলের সকল সদস্য জাতীয় এই সংকটকালে একত্রিত কাজ করে যাচ্ছে। আজকে দেশের প্রেসিডেনট ” প্রফেসর ফান দা ভেলেন ” জাতীর উদ্দেশ্যে কথা বলেছেন। উনার কথার মূলে ছিলো, ” কেউ যেন ভীত সম্ভার না হয় ‘। উনার কথায় বেশ স্পষ্ট করে বলা করণীয় কি ? প্রেসিডেনট বারবার বর্তমান পরিস্থিতিতে, দেশের সার্থে সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতার কথা বলেন। তিনি বিশেষ করে বিরোধী দলকে সুস্পষ্ট ভাষায় তাদের দায়িত্ব পালনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং শিশুবাচ্চা থেকে শুরু করে সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। প্রেসিডেনটের এই ক্ষুদ্র ভাসন থেকেই স্পষ্ট হয়, কতটা কমপ্যাক্ট হয়ে সরকার ও বিরোধী দল একসাথে জাতীর কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে ।

বর্তমানে যে করোনার ঢেউ চলছে, সেটা অষ্ট্রিয়া গভর্নমেন্ট সঠিক কর্ম পদ্ধতি দিয়ে ভালোভাবেই পাড় করতে পারবে বলেই মনে হচ্ছে। তবে এটার আগামী এফেক্ট হবে বড় চিন্তার বিষয় । সরকার সেই আগামীর জন্যেই সঠিক প্ল্যান প্রগরামে আগানোর জন্য দৃঢ় প্রত্যয়ের সাথেই কর্ম করে যাচ্ছে । এখন দেখার বিষয় ভবিষ্যতে কি হয়।

করোনা নিয়ে সারা বিশ্বেই চলছে নানান জল্পনা কল্পনা । কথা হচ্ছে চারিদিক থেকেই। চলছে অনেক গুজব ও আজগুবি কথাবার্তা । এই সব থেকে এবং কিছু বিশ্বাসযোগ্য বার্তা থেকে একটি বিষয় নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এই ভাইরাসটি এক থেকে দেরমিটারের মধ্যেই ছড়াতে পারে। করোনা এমন কোনো ফ্লু নয় যা কিনা বাতাসে উড়ে বেড়ায় । এটা এমন ভাইরাস যা কিনা মাটির দিকে নিম্নগামী হয় এবং দ্রুত প্রতিস্থাপনের পরে তার নিজস্ব চরিত্র বদলায় । এই চরিত্র বদলানোর বিষয়টি বিজ্ঞানীদের বেশি ভাবিয়ে তুলছে। কেননা এটার স্থিতিশীলতা না থাকলে নিয়ামক করাও হবে অসাধ্য বিষয় । আমাদের সবার জানা আছে যে, একটি ভাইরাসকে অন্য ভাইরাস দিয়েই নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। আমরা একটি কথা বলি, ” কুইনিন জ্বর সারাবে কিন্তু কুইনিন সারাবে কে ? ” করোনা ভাইরাসের যদি চরিত্রের স্থিতিশীলতায় না আসে , তাহলে সত্যিই বিষয়টি বিপজ্জনক হবার সম্ভাবনাই বেশি।

সাধারণত প্রাকৃতিকভাবে যে কোনো ফ্লু দ্রুত বাতাসে ভাসে এবং ছড়িয়ে পরে । তবে করোনার সেই ক্ষমতা নেই, যা কিনা ভাইরাসের একেবারেই নতুন অধ্যায় । এই ভাইরাস ছড়াতে সরাসরি বাহন লাগে। এই বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিয়ে কোরান্টাইনকে গুরুত্বপূর্ণ ভাবা হচ্ছে । এই ভাইরাসের একান্তই নতুন চরিত্রের কারণেই অনেক মাধ্যম থেকে আভাস পাওয়া যাচ্ছে ( নির্দিষ্ট সূত্র নাই ) এটা কোন ন্যাচারাল ভাইরাস নয় । করোনা মানুষ তৈরি ভাইরাস ! আগামীতে এর উত্তর নিশ্চয়ই মিলবে।

লেখার শেষে আমাদের পত্রিকার সহকর্মী আইরিন পাড়ভিনের ভাষ্যেটির বিষয়টি বলেই শেষ করবো। আইরিনের ভাষ্যেটি হাল্কা বা হাসির মনে হলেও বিষয়টির মারাত্মক গভীরতা রয়েছে। বিষয়টি অনুধাবনের বিষয়, বুঝার বিষয়, শত প্রশ্নের বিষয় এবং সর্বোপরি গোপন কস্টের বিষয় । লক্ষণীয় যে আমরাই বিশ্বে একমাত্র দেশ, যেখানে এই করোনার মতন ভয়ানক ভাইরাস নিয়েও তৈলমর্দনে ব্যস্ত আছি, রাজনীতি করণে ব্যস্ত আছি এবং কাদা ছোড়াছুড়িতে ব্যস্ত আছি ! ঘণ জনবসতির দেশ বাংলাদেশ । তার রাজধানী শহর তো আরো বেশি জনবসতির শহর। করোনার চরিত্র অনুযায়ী এটার বিস্তার লাভ করা আমাদের দেশে দ্রুত সম্ভব বলেই মনে হচ্ছে। সরকার তার সাধ্যের মধ্যে চেষ্টা করে যাচ্ছে বলেই শুনতে পাচ্ছি। সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলেও দেখতে পাচ্ছি, যা সঠিক। আমাদের সরকারের ক্ষমতা ও দক্ষতায় কর্ম পদ্ধতিতে কমতি থাকবে, সেটাও অনুমোদিত । কেননা আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থায় ঘাটতি আছে, এটা স্বীকার্য সত্য । তবে সরকারের কর্ম পদ্ধতির প্রয়োগদাতারা যদি নিজেদের অবহেলা বা সামান্য সার্থের কাছে নিজেদের বিকিয়ে দেয়, তাহলে দেশকে ভবিষ্যতে বিরাট চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবেই।

পত্র পত্রিকায় দেখছি, পাঁচশো টাকার বিনিময়ে বিমানবন্দর থেকে সুস্থতার সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে ! কথাটি যদি সত্যি হয়, তাহলে বুঝতে হবে ভবিষ্যতে বড় কোনো বিপদ আসলে সরকার কিন্তু একা দায়ী হবে না । এখানে দুটো বিষয় পরিষ্কার করে বলা প্রয়োজন । এক : যারা টাকার বিনিময়ে এরকম সার্টিফিকেট নিচ্ছেন, তারা নিজেদের পরিবার পরিজনের জন্য ভয়ানক কিছু সাথে নিয়ে যাচ্ছেন এবং পাশাপাশি দেশের ক্ষতি করছেন, যা কিনা আদর্শ নাগরিক হিসেবে করতে পারেন না । প্রবাসে ভালো দেশে থেকেও যদি শিক্ষা গ্রহণ করে তার প্রয়োগে অক্ষম হন, তাহলে সরকারকে দোষারোপ করার পূর্বে নিজেকেই দোষী সাব্যস্ত করুন।
দুই : সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সকল পর্যায়ের কর্তৃপক্ষকে বলবো, সরকার আপনাদের জনগণের টাকায় বেতনভাতা দেয়, সুযোগ সুবিধে দেয়, আর আপনাদের সামান্য সার্থের কল্যাণে যদি এমনটি ঘটে, আপনার ক্ষেত্রেও একই ভাষ্য হবে। ভাববেন না করোনার আয়ত্তে আপনি বা আপনার পরিবার আসবেন না। এটা হবে নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারার মত। এখানে বলা ভালো, যেহেতু আপনার অনুমতি ছাড়া কারোর পক্ষেই প্রবেশ করার সুযোগ নেই, সুতরাং সম্পূর্ণ দায়ভার আপনার হবে। আপনি সরকারের অংশ । সরকার প্রধান তো আর এখানে এসে কাজ করবে না ।

আল্লাহ্ ভরসা, সুবাহানআল্লাহ্, মারশাহ্আল্লাহ্, ইনশাহ্আল্লাহ্ সবই ঠিক আছে। তবে মনে রাখা ভালো যে, কেবল দোয়াদুরত পড়ে করোনা থেকে মুক্তি হবে না ( যা কিনা একপ্রকার মোল্লারা ওয়াজ করছে, ইউ টিউবে ) । মানুষকে বিধাতা জীবের শ্রেষ্ঠ বানিয়েছেন বিবেক বুদ্ধি দিয়ে । সুতরাং জ্ঞাণ- বুদ্ধি দিয়ে চলাই বিধাতার আমল। লক্ষ্য করুন, মক্কা- মদিনায় মসজিদ মিনারকেও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিলো। অনেকেই না বুঝেই সমালোচনায় লিপ্ত ! বিশ্বের অনেক প্রান্তেই মসজিদ/ মন্দির/ গির্জা বা যেকোনো প্রার্থনার জায়গাকে বন্ধ করেছে এই ভাইরাস রুখতেই। এখানে সমালোচনার কিছুই নেই । আগে মানুষকে যেভাবেই হোক এই ভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারলেই না মসজিদ/ মন্দির/গির্জায় প্রার্থনা করতে পারবে।

সর্বশেষে বলছি, আমাদের দেশের বিরোধী দলগুলোকে, দেশের মানুষের জন্যেই তো আপনাদের রাজনীতি, তাই যদি হয় তাহলে এমন অবস্থায় সরকারের দোষত্রুটি না খুঁজে ( যেহেতু আমাদের দেশের সরকারের দক্ষতা, সরঞ্জামির অভাব আছে ) সরকারের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন। আর সরকারকেউ বলবো, দেশের ক্ষমতায় আপনার আছেন, দেশের কল্যাণের কথা ভেবেই বিরোধী দলকে সাথে নিয়ে এগিয়ে চলুন। রাজনীতি যা করার জাতীয় সংকটের পরে করা যাবে। আগে দেশ ও দেশের মানুষকে বাঁচান, তবেই না ধর্ম, কর্ম, রাজনীতি সবই করা যাবে। বিশ্বের সকল দেশ পারলে আমরা কেন নয়? আমরা কেন একে অপরের সাথে হাত মিলিয়ে এগুতে পারবো না। এই দেশতো হাতে হাত মিলিয়েই যুদ্ধ করে জয়ী হয়েছিলো ।

বুলবুল তালুকদার
সহকারী সম্পাদক শুদ্ধস্বর ডটকম


