করোনা সংকট—আতংক নয়, সচেতনতা

 আপনারা যারা নিজেদের সচেতন মনে করেন, তারা অন্যদের সচেতন করুন। প্লিজ! প্রতিদিন করুন। প্রতিনিয়ত করুন। মানুষ মাত্রই ভুলে যায়, ভুল করে, আলসেমি করে, অবহেলা করে—সচেতন হলেও করে। তাই সচেতনতা ছড়ান যতো সম্ভব। পরিবারের সদস্যদের শেখান—প্রতিদিন! এই ক্রান্তিকাল সবার জন্য। সকল জাতির জন্য। এখানে সতকর্তা, সচেতনতার মাধ্যমেই এই মহামারি মোকাবেলা করতে হবে, যতটুকু সম্ভব। ইতালির মতো উন্নত দেশ দিশেহারা আজ। আমেরিকার মতো দেশে হৈ-চৈ পড়ে গেছে। কারণ, রোগীর সংখ্যাটা যখন অনেক বেড়ে যায়, তখন সামাল দেয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই পূর্বপ্রস্তুতি ও আগাম সচেতনতার কোন বিকল্প নেই। আজ যে সংখ্যাটা দশে আছে, সেটা আগামী কয়েক সপ্তাহে, কয়েক সহস্র ছাড়িয়ে যেতে পারে। ০১. জনসমাগম এড়িয়ে চলুন। প্লিজ! Please! No Argument! মিছিল, মিটিং, জনসভা, মাহফিল, কনসার্ট, উৎসব—যেকোন ধরনের জনসমাগম। কারণ আপনি জানেন না কে সুস্থ, কে অসুস্থ। মানুষ কিন্তু অসুস্থতার লক্ষণ ছাড়াও ভাইরাস বহন করে—যেটাকে বলা হয় asymptomatc! ক্রান্তিকালে, বিপদের সময়, দুর্যোগের সময় উপাসনালয়ে না গিয়ে ঘরে উপাসনা করারও ধর্মীয় বিধান আছে। সে অনুযায়ী পালন করুন। ০২. অফিসের কোন কলিগ অসুস্থ হলে, বন্ধুদের কেউ অসুস্থ হলে তাকে বাসায় থাকতে বাধ্য করুন। এই সময়ে, যে কোন প্রকারের অসুস্থতা নিয়ে কাজ বন্ধ রাখুন। একটা মহামারির সময় নিজেকে যে কোন রোগ থেকে মুক্ত রাখার জন্য জোর দেয়া হয়। কারণ আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immune symstem) যেনো পুরোদমে ফাইট করার জন্য প্রস্তুত থাকে। মনে করুন আপনার সর্দি বা জ্বর হয়েছে। এবং এই জ্বরের সাথে করোনার কোন সম্পর্ক নেই। কিন্তু আপনার শরীর (Immune system) যথারীতি জ্বরের সাথে ফাইট করছে। ঠিক এই সময়ে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হলে আপনার শরীরকে দুটো রোগের সাথে ফাইট করতে হবে! আর পরিবারের বয়ষ্কদের প্রতি যত্নবান হোন। যাদের শরীরে যথারীতি বিভিন্ন রোগ আছে, তাদেরকে সাবধান রাখা, যত্নবান রাখা খুবই জরুরি। ০৩. হাত ধুতে হবে। সাবান দিয়ে। বারবার। চোখে, মুখে কিংবা নাকে হাত দেয়ার আগে ভাবুন, হাতটা পরিষ্কার কিনা। পরিষ্কার না থাকলে হাত দিবেন না। ০৪. হাঁচি, কাশি দেয়ার সময় হাতের কণুইর অংশ দিয়ে মুখ ঢাকুন। হাতের তালুকে জীবাণুমুক্ত রাখুন। নাকের শ্লেষা যত্রতত্র ফেলবেন না। থুতু যত্রতত্র ফেলবেন না। আপনি অন্যদের অসুস্থতার জন্য দায়ী হচ্ছেন তাহলে। এটা শুধু অন্যায় নয়, পাপও বটে! ০৫. বন্ধু, সহকর্মী, অপরিচিত মানুষ কিংবা পরিবারেরও সদস্যদের সাথে কথা বলার সময় একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখুন। সাধারণত বলা হয় কয়েক ফুট। যেন কথা বলার সময় ছড়িয়ে পড়া থুতুর ড্রপলেট, আমাদের নিঃশ্বাসের মাধ্যমে একের শরীর থেকে অন্যের শরীরে প্রবেশ না করে। ০৬. আমাদের দেশ জনবহুল দেশ। পাবলিক বাসে চড়তে হয়। বাজারে যেতে হয়। যে স্থানগুলো কোনভাবেই এড়াতে পারবেন না, সেগুলোও সাবধানতা ও সতর্কতার সাথে করতে হবে। মানুষকে অযথা সন্দেহ বা ঘৃণা বশত নয়। বরং পরস্পরের ভালোর জন্যই একে অন্যের সাথে দূরত্ব বজায় চলতে হবে। ০৭. ঘরের বা অফিসের যে স্থানটুকুতে (টেবিল, চেয়ার ইত্যাদি) বেশি সময় কাটান, হাত দিয় স্পর্শ করেন বারবার, সে স্থানটুকু পরিষ্কার রাখুন। জীবাণু মুক্ত রাখুন। ০৮. ফোন, কম্পিউটার ইত্যাদি জীবাণুমুক্ত রাখুন। ফোনের স্ক্রিনে অসংখ্য জীবাণু থাকে! ০৯. অসুস্থ্য বোধ করলে, বিলম্ব না করে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন। নিজেকে যথাসমভব আইসোলেশনে রাখুন। ১০. করোনা সেরে যায় এমন দাবিতে কোন আজগুবে ওষুধ, পানি পড়া, স্বপ্নে পাওয়া ওষুধ, হোমিওপ্যাথি, কবিরাজি, গাছের লতা-পাতা ইত্যাদি নিয়ে পোস্ট চোখে পড়লে আইনের আশ্রয় নিন। ভুল কিছুতে পা দিবেন না, ভুল কিছু ছড়াবেন না। করোনার ওষুধ বা ভেকসিন যদি পুরোপুরো মানুষকে দেয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে, তাহলে সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রচার মাধ্যমের সূত্রেই জানতে পারবেন। ১১. ধূমপানের অভ্যাস থাকলে ছাড়ুন। এখনই! এই মূহুর্তে—কোন অজুহাত ছাড়া। ফুসফুসকে বাঁচান। করোনা এবং এই গোত্রীয় ভবিষ্যত ভাইরাস থেকে নিজেকে রক্ষা করতে সাহায্য করুন।
রউফুল আলম, নিউজার্সি, যুক্তরাষ্ট্র

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.