জুসের সঙ্গে নেশাদ্রব্য খাইয়ে ছাত্রীকে রাতভর ধর্ষণ ৭ বখাটের

কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক মাদরাসা ছাত্রীকে সাত বখাটে মিলে রাতভর ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গেলো ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে উপজেলার জয়পুর গ্রামে জুসের সঙ্গে নেশাদ্রব্য খাইয়ে ওই শিক্ষার্থীকে গণধর্ষণ করেছে তারা।
এ ঘটনায় আসামিদের হুমকির মুখে ওই ধর্ষিতাকে এলাকায় চিকিৎসা করাতে পারেনি পরিবার। ঘটনার আট দিন পর আজ শনিবার ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে সাতজনকে আসামি করে হোমনা থানায় মামলা করেছেন।

আসামিরা হলেন, জয়পুর গ্রামের মো. জয়নাল আবেদীনের ছেলে জুয়েল রানা (২২), মনির হোসেনের ছেলে আল-আমিন (১৯), বাবর আলীর ছেলে পারভেজ মিয়া (১৯), জহিরুল ইসলামের ছেলে জিয়া (১৭), শাহ আলমের ছেলে জালাল উদ্দিন (১৭), কবির মিয়ার ছেলে সাকিব (১৭) ও মো. শাহিন মিয়ার ছেলে শাহপরান (১৭)।

এদিকে ঘটনার পর আসামিরা এলাকায় বহাল তবিয়তে থাকলেও মামলার দায়েরের পর তারা গা ঢাকা দিয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ কোনও আসামিকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

অভিযোগে জানা যায়, নির্যাতনের শিকার ছাত্রী অনন্তপুর দড়িকান্দি হাজী মাজেদুল ইসলাম দাখিল মাদরাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। মাদরাসায় আসা- যাওয়ার পথে একই গ্রামের জয়নালের ছেলে জুয়েল রানা বিভিন্ন সময় তাকে উত্যক্ত করতো এবং কুপ্রস্তাব দিত। এতে সাড়া না দেয়ায় অপহরণের হুমকিও দেয়া হয়েছে তাকে। নির্যাতনের শিকার ছাত্রী গেল ২২ ফেব্রুয়ারি পাশের বাড়িতে ওরশ দেখতে গেলে বখাটে জুয়েল রানা ও আল-আমিন কথা আছে বলে ডেকে নিয়ে তাকে জুস খাইয়ে দেয়। জুস খাওয়ার পর সে অচেতন হয়ে যায়। পরে সাত বখাটে মিলে গ্রামের মাহফুজ মাস্টারের পুকুর পাড়ে নিয়ে তাকে রাতভর পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ধর্ষিতা রাতে বাড়ি না আসায় তাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেন পরিবারের লোকজন। সকালে গ্রামের মাহফুজ মাস্টারের পুকুর পাড়ে তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাকে তিতাস উপজেলার বাতিকান্দি বাজারের এক ফার্মেসিতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আসামিদের হুমকির মুখে ধর্ষিতাকে ঢাকায় চিকিৎসা করা হয়।

হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কায়েস আকন্দ বলেন, খবর পেয়ে আমি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি এবং ভিকটিমের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভিকটিমকে উদ্ধার করি। মেয়েটির মা বাদী হয়ে সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.