প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে এই গুজব ও মিথ্যার সয়লাব প্রায় অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে দিন দিন। অনেকের মধ্যে নিজের বিশ্বাস প্রচারের প্রবণতা দেখা যায়, যারা প্রচারিত কোনো সংবাদ নিজের মত, মতবাদ ও দৃষ্টিভঙ্গির অনুকূলে হলে তা যাচাইয়ের প্রয়োজন বোধ করে না। পাওয়ামাত্রই প্রচার শুরু করে। ফেইসবুক হয়ে উঠছে গুজব এর হাতিয়ার। কথাগুলো বলার কারণ – কিছু দিন ধরে ফেসবুকে দেখছি যে, ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও মেম্বার পদপ্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করে জারিকৃত গেজেটে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্বাক্ষর করেছেন। এই গুজব ছড়িয়েছে সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে। আর তা নিয়ে গত কিছুদিন ধরে আমাদের দেশে ভীষণ হৈচৈ। সত্যতা যাচাইয়ের বিন্দু মাত্র চেষ্টা আমরা করি না। একারণে আজ গুজবটা আমাদের সৃষ্ট গজবে পরিণত হয়েছে। চিলে কান নিয়ে গেছে ভেবে চিলের পেছন ছোটার আগে কানে অন্তত হাতটা দিন। প্লিজ! ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও মেম্বার পদপ্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট ও তথ্যের ব্যাপারে গতকাল শনিবার দেশবাসিকে সতর্ক থাকতে অনুরোধ জানিয়েছে সরকার। মোটামুটি শিক্ষিত ব্যক্তিরাই একটু বেশি ফেইসবুক ব্যবহার করেন।এই শিক্ষিত মানুষের যদি এই অবস্থা হয় তাহলে সাধারণ মানুষের কি হবে। সাধারণ মানুষ যাচাই বাচাই না করে বানিয়ে বলা গল্পকে অনেক সময় বিশ্বাস করে। বুঝে না বুঝে অনেকেই এটা প্রচার করছেন। এভাবে যে আমরা সকলে মিলে একটা মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করছি সেদিকে কারোর খেয়াল নেই। একটিবার এর সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা করছি না। কোনও ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়া বিভিন্ন ইস্যুতে ফেসবুকে গুজব ও অপপ্রচার চালানোর ফলে ফেইসবুক এখন একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গুজব হল মিথ্যা খবর প্রচার করা, উসকানিমূলক তথ্য প্রচার, সম্মানিত ব্যক্তিদের সম্পর্কে অশ্লীল-মানহানিকর মন্তব্য ও ছবির বিকৃতি করা। ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে কেউ যেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর মতো কাজে জড়িয়ে না পড়েন, সেদিকে সবার নজর রাখা বিশেষ জরুরি। গুজবের এই ভয়াবহতা থেকে জাতিকে রক্ষা করতে হলে প্রয়োজন কঠোর আইন, নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতা। বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী সংস্থাগুলো ফেইসবুকের গুজব ও মিথ্যা খবর ধর-পাকড়ের মাধ্যমে প্রতিকার করার চেষ্টা করছে। কিন্তু ফেইসবুক যার মাধ্যমে এই ক্ষতিকর, জনস্বার্থ বিরোধী কাজগুলো হচ্ছে, সেই ফেইসবুকের শাস্তি হচ্ছে না। ফেইসবুক একটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম । যেকোনো যোগাযোগ মাধ্যমেই বিদ্বেষমূলক, সন্ত্রাসী ও দেশদ্রোহী খবর ছড়ালে তার দায়িত্ব তাদের আছে। ফেইসবুকের এইসব ক্ষতিকারক খবর ছড়ালে, তার প্রতিকার করার দায়িত্ব তাদেরই। এ দায়িত্ব শুধু বাংলাদেশের পুলিশের নয়। পরিশেষে কবি শামসুর রাহমানের ভাষায়: “এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে, চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে। কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে, আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে। দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা গেল উড়ে, কান না পেলে চার দেয়ালে মরব মাথা খুঁড়ে। কান গেলে আর মুখের পাড়ায় থাকল কি-হে বল?”

আবু জাফর শিহাব

