মারা গেলেন বিশিষ্ট সঙ্গীত পরিচালক মহম্মদ জহুর খৈয়াম হাশমি। যাঁকে বলিউড চিনত খৈয়াম নামেই। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। সোমবার রাত ৯.৩০ মিনিট নাগাদ মুম্বইয়ের একটি হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর। শ্বাসকষ্ট আর বয়সজনিত কারণে দীর্ঘদিন ধরেই ভুগছিলেন খৈয়াম। চিকিৎসাও চলছিল তাঁর। দিন কয়েক আগে ফুসফুসে সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানেই সোমবার শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন বিশিষ্ট এই সঙ্গীত পরিচালক বলে জানানো হয়েছে তাঁর পরিবার এবং হাসপাতালের তরফে। শেষসময়ে তাঁর পাশে ছিলেন তাঁর সঙ্গীতশিল্পী স্ত্রী জগজিৎ কওর।
১৯২৭–র ১৮ ফেব্রুয়ারি পাঞ্জাবের নওয়ানশহর জেলার রাহোন শহরে জন্ম খৈয়াম। জন্মের পর তাঁর নামকরণ হয়েছিল সাদাত হুসেন। ছোট থেকেই সঙ্গীতপ্রিয় খৈয়াম বালক বয়সেই দিল্লি পালিয়ে যান সঙ্গীত শিখতে। কিন্তু তাঁর অভিভাবকরা তাঁকে জোর করে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে আসেন পড়াশোনা শেষ করার জন্য। ছোট থেকেই পড়াশোনার বদলে সঙ্গীতের প্রতি, বিশেষত বলিউডি ছবির সঙ্গীতের প্রতি আগ্রহ ছিল খৈয়ামের। বহুবার বাড়ি পালিয়ে সিনেমা দেখতেও গিয়েছিলেন তিনি। পরে আবার পালিয়ে দিল্লি গিয়ে কাকার কাছে ওঠেন। কাকাই সঙ্গীতের প্রতি তাঁর আকর্ষণ দেখে পণ্ডিত অমর নাথের কাছে তাঁকে ভর্তি করে দেন। তিনিই খৈয়ামের প্রথম সঙ্গীতগুরু। তারপর পাঞ্জাবের বিশিষ্ট সঙ্গীত পরিচালক বাবা চিস্তিরও শিষ্য হন। মাত্র ১৭ বছর বয়সে তাঁর সহকারী হিসেবে পাঞ্জাবি ছবিতে কাজ করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কিছুদিন সেনাবাহিনীতেও ছিলেন।
বলিউডে ১৯৪৮ সালে ‘হীর রঞ্ঝা’ ছবিতে শর্মাজি–ভার্মাজি জুটির শর্মাজি নামে প্রথম সঙ্গীত পরিচালনা করেছিলেন খৈয়াম। পাকিস্তান আলাদা হয়ে যাওয়ার পর রহমান ভার্মা সেদেশে চলে গেলে একাই সঙ্গীত পরিচালনা শুরু করেন।
তাঁর প্রথম ব্রেক, মহম্মদ রভির কণ্ঠে ১৯৫০–র ছবি ‘বিবি’–র গান। ১৯৫৩–তে ‘ফুটপাথ’ ছবিতে তালাত মেহমুদের কণ্ঠে তাঁর পরিচালিত গান সারা দেশবাসীর মুখেমুখে ফিরতে থাকে। ছবিটি তাঁকে সারা দেশে পরিচিতি দেয়। এরপর রাজ কাপুর–মালা সিনহা–র ‘ফির সুবহ্ হোগি’ ছবিতে সাহির লুধিয়ানভির লেখা এবং মুকেশ–আশা ভোঁসলের গান তাঁকে বলিউডে চিরতরে প্রতিষ্ঠিত করে দেয়। এরপর ১৯৮০–র দশকের প্রথম দিক পর্যন্ত ‘শোলা অওর শবনম’, ‘আখরি খত্’, ‘শগুন’, ‘কভি কভি’, ‘ত্রিশূল’, ‘নুরি’, ‘বাজার’, ‘বেপনহা’, ‘উমরাও জান’, একাধিক বলিউডি হিট ছবিতে হিট গান পরিচালনা করেছিলেন খৈয়াম।
‘কভি কভি’ এবং ‘উমরাও জান’ ছবির জন্য ফিল্মফেয়ার পুরস্কারে সেরা সঙ্গীত পরিচালক হন। ‘উমরাও জান’–র জন্য সেরা সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পান। ২০০৭ সালে সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমি পুরস্কার, ২০১০–এ ফিল্মফেয়ার লাইফটাইম, ২০১১–য় পদ্মভূষণ এবং ২০১৮–য় হৃদয়নাথ মঙ্গেশকর পুরস্কার পেয়েছেন খৈয়াম।
খৈয়ামের মৃত্যুতে শোকের ছায়া ঘনিয়ে এসেছে বলিউড তথা দেশের সঙ্গীত মহলে। শোকজ্ঞাপন করে টুইট করেছেন নরেন্দ্র মোদি, লতা মঙ্গেশকর, জাভেদ আখতার, অমিতাভ বচ্চন, অনুপম খের, ঋষি কাপুর, মধুর ভান্ডারকর, করণ জোহর, সোনম কাপুর সহ রাজনীতিবিদরা ।
শুদ্ধস্বর/আইপি

