অ্যাডভোকেট আনসার খান :আমাজন বনাঞ্চলকে ‘ভূমন্ডলের ফুসফুস’ বলে অভিহিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই আমাজন বনাঞ্চলের জন্য ক্ষতিকর, এমন যেকোনো ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন বিশ্ব সম্প্রদায়।
আবারও বিশ্ববাসী উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন আমাজনে সংঘটিত প্রচন্ড অগ্নিকান্ডের ঘটনায়। নতুন বছরের পুরোটা সময় জুড়ে জ্বলছে-‘সবুজ মহাসাগর’ খ্যাত আমাজন বনাঞ্চল। ব্রাজিলের অংশের আমাজন জঙ্গলে সংঘটিত অগ্নিকান্ডের জন্য ব্রাজিলকে দায়ি করছেন বিশ্বনেতৃবৃন্দ। আসন্ন জি-৭ সম্মেলনে বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। তাই এটা বেশ স্পষ্ট যে, আমাজনের অগ্নিকান্ডের ঘটনাটি বৈশ্বিক রাজনীতিতে ঝড় তুলতে পারে।
উল্লেখ্য যে, আমাজন বনাঞ্চলে প্রতি বছরই কমবেশি অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে থাকে। কিন্তু চলতি সনের শুরু থেকে আমাজনের ব্রাজিলীয় অংশে অগ্নিকান্ডের ঘটনা অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র আই.এন.পিই এর প্রতিবেদন অনুযায়ী চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭৩০০০ হাজার অগ্নিকান্ডের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে-যা ২০১৮ সালের একই সময়ের তুলনায় শতকরা ৮৩% শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
আমাজন রেইন ফরেস্ট বিশ্বের বৃহত্তম বনাঞ্চল, যার মোট আয়তন ইউরোপীয় ইউনিয়নের মোট আয়তনের চেয়েও বেশি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মোট আয়তন ৪.৫ বর্গ কিলোমিটার; পক্ষান্তরে আমাজন বনাঞ্চলের মোট আয়তন ৫.৫ বর্গকিলোমিটার। আমাজন এই ভূমন্ডলের অবশিষ্ট রেইন ফরেস্টের অর্ধেকেরও বেশি আয়তন জুড়ে বিস্তৃত। আমাজন বনের উত্তরে প্রবাহিত হয়েছে আমাজন নদী। ৮৪০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট এই নদী বহু শতাধিক নৌরুটের একটি নেটওয়ার্ক। বেশির ভাগ বৈজ্ঞানিক একমত পোষণ করেন যে, নীল নদের পরে আমাজন নদী পৃথিবীর দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী।
আমাজন বনাঞ্চলের অববাহিকায় রয়েছে মোট নয়টি রাষ্ট্র। রাষ্ট্রগুলো হলো-ব্রাজিল, পেরু, কলম্বিয়া, ভেনেজুয়েলা, ইকুয়েডর, বলিভিয়া, গায়ানা, সুরিনাম, ফ্রান্স (ফরাসী-গায়ানা)। বিজ্ঞানী রবার্ট জে.মর্লির তথ্য মতে, কমপক্ষে ৫৫ মিলিয়ন বছর ধরে আমাজন বনের অস্তিত্ব বিদ্যমান। কাভারনা দা পেদ্রো পিন্টাদায় খননকৃত প্রতœতাত্ত্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে মানব বাসিন্দারা কমপক্ষে ১১২০০ বছর পূর্বে প্রথম আমাজন অঞ্চলে বসতি স্থাপন করেছিলেন বলে অনুমান করা হয়।
অপরিসীম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমাজন বনাঞ্চলকে বিশ্বের পরিবেশগত সেবার ভান্ডার ও পৃথিবীর ফুসফুস-হিসেবে বর্ণনা করা হয় এ কারণে যে, এটি আকারে ও জীববৈচিত্র্যের দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম রেইন ফরেস্ট এবং প্রতি বছর উচ্চ পরিমাণে বৃষ্টিপাত হয়। বৃষ্টির বনের জলবায়ু খুব উষ্ণ ও আর্দ্র থাকে। আর এ বনটি লক্ষ লক্ষ গাছপালায় সমৃদ্ধ। এই গাছপালা বাতাস থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিয়ে যায় এবং অক্সিজেন ফিরিয়ে দেয়। বাস্তবে-বিশ্বের অক্সিজেনের ২০% শতাংশের ও বেশি আমাজন তৈরি করে। বিশ্বের মোট আয়তনের মাত্র শতকরা ২% শতাংশ জুড়ে আমাজনের অবস্থান হলেও পৃথিবীর ৫০% শতাংশ জীবজন্তু, উদ্ভিদ ও গাছপালা ইত্যাদি রয়েছে এই বনাঞ্চলে। ক্যানোপির ঘনত্বের কারণে (গাছপালার শীর্ষ শাখা এবং পাতা) আমাজনের মেঝে স্থায়ী অন্ধকারে রয়েছে। এই ঘনত্বের কারণেই বৃষ্টি হলে বৃষ্টির পানি মাটিতে পৌঁছাতে দশ মিনিট সময় লাগে।
আমাজন বনে ৪০,০০০ হাজার প্রজাতির উদ্ভিদ, ১৩ হাজার প্রজাতির পাখি, ৩,০০০ হাজার প্রকৃতির মাছ, ৪৩০ স্তন্যপায়ী এবং ২.৫ মিলিয়ন বিভিন্ন প্রজাতির পোকামাকড় রয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন। এখানকার গাছগুলো অক্সিজেনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উৎস এবং কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষণের জন্য প্রধান ডোবা হিসেবে কাজ করে আমাজন বন। সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়াটি পৃথিবীর জীবনের জন্য অতি প্রয়োজনীয় এবং আমাজনের সমস্ত গাছ গ্রিণহাউস গ্যাসের বর্ধমান সমস্যার প্রতিরোধকারী। গ্রীষ্মমন্ডলীয় বন এবং বনভূমি বায়ুম-লের সাথে প্রচুর পরিমাণে জল এবং জ্বালানী বিনিময় করে এবং স্থানীয় ও আঞ্চলিক জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে বিজ্ঞানীদের অভিমত। এছাড়া, উদ্ভিদ দ্বারা বাষ্পীয়ভবন থেকে বাষ্পীভবন (বাষ্পীভবন এবং উদ্ভিদ সংক্রমণ) এবং নদীর তীরে সমুদ্রের দিকে জল প্রবাহিত হওয়ায় বিশ্ব জলবায়ু এবং সমুদ্র¯্রােতের প্রবাহকে প্রভাবিত করে থাকে। কাজেই বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যা মোকাবেলা করার ক্ষেত্রে আমাজন রেইন ফরেস্ট বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম প্রাকৃতিক সম্পদ।
ভূমন্ডলের জন্য আমাজনের বনাঞ্চল নানা দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ; আমাজনের পাঁচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলো সারা পৃথিবীর সমস্ত জীবনের জন্য প্রধান ভূমিকা পালন করে থাকে। যেমন টাটকা জলের উৎস। আমাজন জঙ্গলের অববাহিকা দিয়ে প্রবাহিত আমাজন নদী দিয়ে বিশ্বের শতকরা ২০% শতাংশ মিঠা পানির সন্ধান পাওয়া যায়। আমাজন নদী মানুষের জন্য কৃষি, পরিবহন ও খাবারের মতো অসংখ্য পরিষেবা সরবরাহ করে। তবে আমাজন বনভূমি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হুমকির সম্মুখীন হয়েছে।
আমাজন জুড়ে হাজার হাজার উদ্ভিদ প্রজাতি স্থানীয় আদিবাসীরা ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করে। গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলের অন্যতম মারাত্মক রোগ ম্যালেরিয়া একাই ব্রাজিলিয়ান আমাজনের বিভিন্ন প্রজাতির ৪১টিরও অধিক সংখ্যক সমাধান করতে পারে। তবে আমাজনের দ্রুত অদৃশ্য হওয়ার সাথে সাথে ভবিষ্যতের প্রজন্মের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি রয়েছে।
পূর্বেই উল্লেখ করেছি, আমাজন রেইন ফরেস্ট পৃথিবীর অক্সিজেনের প্রায় ২০% শতাংশ উৎপাদন করে। আর জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে বন হলো সেরা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। অথচ, মানব সম্প্রদায়কে রক্ষার জন্য অতিব প্রয়োজনীয় এই বনাঞ্চলকে মানুষই ধ্বংস এবং উজাড় করে চলেছে।
আমাজন বনাঞ্চলের দেশ পেরু বিশ্বের বৃহত্তম সোনা, তামা, টিন, দস্তা ও রৌপ্য উৎপাদক রাষ্ট্র। অন্যদিকে, রেইন ফরেস্টের খাদ্যপণ্যগুলো বিশ্বব্যাপী খাদ্য সরবরাহের নিয়মিত অংশ। মানুষের প্রিয় খাদ্যগুলোর প্রায় ৪০% শতাংশ মূলত কফি, চকোলেট, চাল, টমেটো, কলা, আলু, কালো মরিচ, আনারস এবং কর্ণসহ বৃষ্টিপাত অঞ্চল থেকে আসে। আমাজন বনাঞ্চল হলো বিশ্বের প্রধান বৃষ্টিপাত অঞ্চল, যে কারণে আমাজনকে ‘বৃষ্টিপাত’ বন বলে অভিহিত করা হয়ে থাকে।
আমাজন দীর্ঘকাল ধরে জীববৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক সম্পদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভান্ডার হিসেবে গণ্য ও স্বীকৃত। কেবল স্থানীয় মানুষ ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্যই নয়, সারা বিশ্বের জন্যও। অথচ এই বনাঞ্চল ধ্বংসের জন্য মানুষই দায়ি এবং ভবিষ্যত পৃথিবী ও ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য এই বনাঞ্চল উজাড় হওয়াটা ঝুঁকি ও হুমকি সৃষ্টি করে চলেছে।
এরই প্রেক্ষাপটে আমাজন বনাঞ্চলে ব্যাপক অগ্নিকান্ডের ঘটনায় বিশ্ববাসী সচেতন ও প্রতিবাদী হয়ে ওঠেছেন এবং বন ধ্বংসের প্রবণতাকে বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রে নিয়ে এসে বনাঞ্চল রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে তৎপর হয়েছেন বিশ্ব নেতৃবৃন্দ। ব্রাজিলিয়ান অংশের বনে প্রতিনিয়ত অগ্নিকান্ডের ঘটনাকে বিশ্ব সম্প্রদায় স্বাভাবিক অগ্নিকান্ড হিসেবে মনে করছেন না, বরং ব্রাজিলের অনাকাংখিত নীতির কারণেই বনাঞ্চলে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটছে বলে মনে করা হচ্ছে। তাই ব্রাজিলের ওপর চাপ বাড়ছে এসব ধ্বংসযজ্ঞ হতে বিরত থাকার জন্য।
ইচ্ছাকৃতভাবে আমাজনের জঙ্গলে আগুন লাগিয়ে দিয়ে বনাঞ্চল ধ্বংস করে দেওয়া এই ভূমন্ডলের মানব সম্প্রদায়কে ক্রমে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার শামিল বলে মনে করছেন পরিবেশ বিজ্ঞানীসহ বিশ্বনেতৃবৃন্দ। কারণ, রেইন ফরেস্ট হারানো মানে গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ হারানো। গ্রীষ্মমন্ডলীয় রেইন ফরেস্ট হলো জীববৈচিত্র্যের কেন্দ্র বিশ্বের প্রায় অর্ধেক প্রাণী ও গাছপালা ধারন করে এবং বিজ্ঞানীদের মতে, এসব উদ্ভিদের দুই-তৃতীয়াংশই বৃষ্টিপাতগুলো মাটি ক্ষয়, বন্যা এবং খরা থেকে রক্ষা করে, জল উৎপাদন করে, সঞ্চয় করে এবং ফিল্টার করে। এছাড়া, রেইন ফরেস্টে পাওয়া অনেকগুলো উদ্ভিদ সৌন্দর্যপণ্য এবং খাবারের সাথে ক্যান্সার বিরোধী ড্রাগসহ ঔষধ তৈরীতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আমাজন রেইন ফরেস্টের ৬০% শতাংশ বা তিন মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার পরিমাণ জঙ্গল পড়েছে ব্রাজিলের মধ্যে এবং ব্রাজিলের অংশেই সবচেয়ে বেশি পরিমাণে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে থাকে। যেমন ব্রাজিলের গবেষণা সংস্থার (আইএনপিই) পরিসংখ্যান মতে, ২০১৩ সালে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছিলো ২৫ হাজারের একটু বেশি; আর চলিত সনের ১লা জানুয়ারি থেকে ২১শে আগস্ট, এই প্রায় আট মাস সময়কালে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে প্রায় ৭৫ হাজার এর অধিক।
ব্রাজিলিয়ান আমাজনে কেন এতো অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটছে সেটি বড় একটা প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। ব্রাজিল সরকার অগ্নিকান্ডের ঘটনাকে স্বাভাবিক বলছে-কেননা, এ সময়টাতে বনাঞ্চলে অগ্নিকান্ড ঘটেই থাকে প্রাকৃতিক নিয়মে। কিন্তু পরিবেশ বিজ্ঞানীরা এমনকি, বিশ্ব নেতৃবৃন্দরা ব্রাজিলের এমন যুক্তি মানতে নারাজ। তাদের মতে, প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে এতো প্রচুর দাবানলের ঘটনা ঘটার কথা নয়। পরিবেশবাদী সংগঠন ও গবেষকরা বলছেন, এই অগ্নিকান্ডের পেছনে মানুষের হাত রয়েছে, এটা মনুষ্যসৃষ্ট দাবানল এবং এজন্য ব্রাজিলের বর্তমান প্রেসিডেন্টের উন্নয়ন পরিকল্পনাই দায়ী, প্রেসিডেন্টের সমর্থন থাকায়ই কৃষক, গবাদি পশুর পালক ও লগাররা এই বন উজাড় করে জমি ব্যবহারের জন্য অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে এবং এসব ঘটনা প্রেসিডেন্ট কর্তৃক প্রশংসিত হয়েছে বলেও পরিবেশবাদীরা বলছেন।
‘এই অগ্নিকান্ডের সিংহভাগ হলো মানবসৃষ্ট’-এর স্বপক্ষে যুক্তি তুলে ধরে অলাভজনক সংস্থা আমাজন ওয়াচের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ক্রিশ্চান পোইরিয়ার বলেন, শুকনো মৌসুমেও কালিফোর্নিয়া বা অস্ট্রেলিয়ার শুকনো বুশল্যান্ডের মতো আমাজনে (একটি আর্দ্র বৃষ্টিপাতের স্থান) সহজেই আগুন ধরে না। কৃষক ও এর দোসররা জমি পরিষ্কার করতে দীর্ঘ সময় ধরে আগুন ব্যবহার করে আসছে, বলছেন মিঃ পোইরিয়ার এবং তিনি আরো যোগ করেন, সম্ভবত: আজ আমাজনে অসংখ্য অগ্নিকান্ডের পেছনে রয়েছে তাদের হাত।’
ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের (আইএনপিই) একজন প্রবীণ বিজ্ঞানী আলবার্তো সেওজার বলেছেন, আগুনের ৯৯% শতাংশই মানুষের উদ্দেশ্য থেকে বা উদ্দেশ্যমূলকভাবে বা দুর্ঘটনার ফলে ঘটে থাকে। জ্বালানী কাঠ সংগ্রহ, ছোট আকারের কৃষি ক্ষেত্র থেকে শুরু করে যান্ত্রিক ও আধুনিক কৃষি জমির প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য নতুন বন উজাড় পর্যন্তও হতে পারে বলে মনে করেন সেওজার। (সূত্র : সিএনএন)
অন্যদিকে, ব্রাজিলের পরিবেশ মন্ত্রী রিকার্ডো সেলিশ এক টুইটে দাবি করেন যে, দাবানল শুষ্ক আবহাওয়া, বায়ু ও তাপ দ্বারা সংঘটিত হয়। তবে সিএনএন আবহাওয়াবিদ হ্যালি ব্রিংক বলেছিলেন, ‘আগুন নিশ্চিতভাবেই মানুষ দ্বারা পরিচালিত’ এবং এ বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক কারণগুলোকে এ জন্য দায়ি করা যায় না।’
গবেষক পোইরিয়ার মনে করেন, পূর্ববর্তী বছরগুলোর তুলনায় এই বছর ধ্বংসটি ‘নজিরবিহীন’। অন্যদিকে, আই.এন.পি’র আর্থ সিস্টেম সায়েন্স সেন্টারের গবেষক লিংকন মুনিজ অ্যালভেস সিএনএনকে বলেছেন, মানব প্ররোচিত ঘটনা থামানো খুব কঠিন। তাঁর মতে,-‘যেহেতু আগুনের ব্যবহার কৃষিজমি, চারণ জমি পরিষ্কার করার জন্য গ্রীষ্মমন্ডলীয় কৃষির একটি ঐতিহ্যবাহী অংশ, সেহেতু, এটি বন্ধ করা খুব কঠিন।’
পরিবেশবাদীরা অগ্নিকান্ডের জন্য ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জায়ের বলসোনারো-কে এ কারণে দায়ি করেছেন যে, প্রেসিডেন্ট পদের প্রার্থী হয়ে প্রচারণাকালে তিনি আমাজনের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা অনে¦ষণ করে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। পরিবেশ সংস্থাগুলো এখন বলছে, প্রেসিডেন্ট হয়ে তিনি রেঞ্জার্স, কৃষক ও লগারদের দায় মুক্তি দিয়ে উৎসাহিত করছেন জমি পুনরুদ্ধারের জন্য। তাঁর থেকে উৎসাহ পেয়েই এরা বনে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে। বলসোনারোর নীতিমালায়-‘আগুনের সর্বাধিক লক্ষণ দৃশ্যমান এবং প্রেসিডেন্টের দায়িত্বহীনতার প্রতিফলন রয়েছে, বলেছেন ড. ক্লাইমা (জলবায়ু পর্যবেক্ষক)।
আমাজন মানব সম্প্রদায়ের ভবিষ্যতের জন্য অবিশ্বাস্যরূপে গুরুত্বপূর্ণ-বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি রোধ করার দক্ষতার জন্য। তাই যে বা যারাই আমাজন বন ধ্বংসের জন্য কাজ করছে বা ভূমিকা রাখছে, তাদের জঘন্য কর্মকান্ড রোধে বিশ্বসম্প্রদায়কে উদ্যোগী হতে হবে এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, নতুবা বিপদ পুরো গ্রহের জন্যই অপেক্ষা করছে।

