২০০২ সালের জানুয়ারিতে অন্যপ্রকাশের মাজহারুল ইসলাম আমাকে নিয়ে গিয়েছিলেন হুমায়ূন আহমেদের বাসা দক্ষিনা হাওয়াতে ।

সন্ধ্যায় তার কাকরাইল অফিস থেকে তার গাড়িতে করে দক্ষিণা হাওয়াতে যাই । ধানমণ্ডিতে পাশাপাশি থাকেন লেখক এবং প্রকাশক । হুমায়ূন আহমেদের ফ্ল্যাটে পোঁছে দেখালাম তিনি মেঝেতে বিছানায় বসে আছেন ।আমাদের চা নাস্তা দিয়ে আপ্যায়ন করলেন । অনেক গল্প হোল । এত বড় একজন লেখকের বাসায় সন্ধ্যায় আড্ডা দিচ্ছি , আমার ভেতর অন্যরকম একটা অনুভুতি সৃষ্টি হয়েছিলো ।

হুমায়ূন আহমেদের সাথে আমার জার্মানিতেই পরিচয় হয়েছিলো । তিনি এখানে এসেছিলেন একটি বই মেলায় ।যে কয়দিন জার্মানিতে ছিলেন তার সাথে সবসময়ই ছিলাম , আমাদের বাসায়ও তিনি এসেছেন । হুমায়ূন আহমেদের লেখার সাথে আমি সে সময় খুব একটা পরিচিত ছিলাম না ,

কিন্তু সেই সময় তার নাটকের ভক্ত ছিলাম । অবশ্য সে সময় জার্মানিতে বাংলা বই সংগ্রহ করাও ছিল কঠিন । হুমায়ূন আহমেদের সাথে দক্ষিণা হাওয়াতে রাত পর্যন্ত ছিলাম । পরদিন সকালে আবার মাজহারুল ইসলাম আবার আমাকে ফোন করে বললেন এফডিসিতে চন্দ্রকথা ছবির প্রিমিয়ার শো হবে ।আমাকে সকাল দশটার মধ্যে এফডিসিতে আসতে বললেন । আমি এফডিসিতে গেলাম , আমি এর আগে কখনও কোন ছবির প্রিমিয়ার শো দেখিনি । আমার মধ্যে অন্যরকম একটা অনুভুতির সৃষ্টি হোল । ছবির নায়িকা মেহের আফরোজ শাওন , নায়ক আসাদুজ্জামান নূর সহ অন্যান্য

কলাকুশলীদের উপস্থিতিতে পরিচালক হুমায়ুন আহমেদের সাথে বসে ছবিটি দেখবো , যে ছবিটি এখনও সাধারন দর্শকরা দেখেনি । সকালেই মাজহার ভাইর দেয়া সময়েই পৌঁছলাম এফডিসি স্টুডিওতে । মাজহার ভাই আগেই এফডিসি র গেটে আমাদের কথা বলে রেখেছিলেন তাই প্রবেশ করতে কোন অসুবিধা হয়নি । এফডিসিতে যেয়েই দেখলাম হুমায়ুন ভাই, মাজহার ভাই সহ কয়েকজন পৌঁছে গেছেন ,মেহের আফরোজ শাওন এবং তার মা বাবা ও আছে সেখানে ,তারা মাজহার ভাইর স্ত্রী এবং আরও কয়েকজন মহিলার সাথে গল্প করছেন । হুমায়ূন আহমেদকে ঘিরেও বাইরে আড্ডা হচ্ছে । অভিনেতা মাহফুজ , জাহিদ সহ অনেকেই আছেন । মাজহার ভাই আমাকে এদের সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন । তাদের সাথেও গল্পগুজবে মেতে উঠলাম । মাফফুজকে বললাম আমার খলাতো ভাই লিটনের কথা , লিটন সে সময় অভিনয় করতো, মাফফুজ আমাকে বললেন লিটন ভাইর সাথে আমিও অভিনয় করেছি । কিচ্ছুক্ষণ পর চন্দ্রকথার প্রিমিয়ার শো শুরু হবে । আমরা স্টুডিওর ভেতরে গেলাম শরতাঞ্জি বিছানো মেজেতে বসে সবাই শো দেখবে ।হুমায়ূন আহমেদও শরতাঞ্জিতে বসলেন আমরাও তার সাথে বসে পড়লাম । আসাদুজ্জামান নূর আসার কথা থাকলেও আসেন নি , আমি মনে মনে তার জন্য অপেক্ষা করছিলাম , সে আমার খুব প্রিয় একজন অভিনেতা ।আমার সাথে তার কিছুটা পরিচয়ও ছিল , জার্মানিতে আমাদের বাসায় এসেছিলেন একবার । হুমায়ুন আহমেদের নাটক বহুব্রীহি দেখে আমি তার ভক্তে পরিনত হয়েছিলাম , পরবর্তীতে তার অভিনীত নাটক কোথাও কেউ নেই , অয়োময়, নক্ষত্রের রাত আমার খুব ভালো লেগেছিল ।নাটক গুলোর ভিডিও ক্যাসেট আমার কাছে ছিল আমি মাঝেই মাঝেই দেখতাম । নূর ভাই অনেকটা কাজে ব্যস্ততার জন্য এফডিসিতে সেদিন আসতে পারেন নি ।

চন্দ্রকথার প্রিমিয়ার শো চলছে , আমরা সবাই মনোযোগ দিয়ে দেখছি ।শাওন , নূর ভাই সহ অন্যান্য সবার অসাধারন অভিনয় দেখে খুব ভালো লাগলো । শোর শেষে এফডিসিতেই মধ্যাহ্ন ভোজের আয়োজন করেছিলেন মাজহার ভাই । আমাকেও হুমায়ুন আহমেদের প্রিয় খাবার ভাত ভর্তা ছিল অন্যতম আকর্ষণ ।সবাই মিলে পিনিকের মতো করে অসাধারন স্বাদের মধ্যাহ্ন ভোজ আমরা উপভোগ করলাম ।
পরদিন আবার মাজহার ভাই ফোন করে জানালেন হুমায়ুন ভাই আমাকে আমার স্ত্রী সহ নুহাশ পল্লীতে যেতে বলেছেন , সেখানে আমাদের একরাত থাকতেও বলেছেন । তিনি আমাদের জন্য বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে চান । কিন্তু আমার যাওয়া হয়নি নুহাশ পল্লীতে যেদিন তিনি যেতে বলেছিলেন সেদিন আমার ভাগ্নের বিয়ে ছিল , সেকারনে আমার আর যাওয়া হয়নি । একটা আফসোস থেকেই গেলো ।
হাবিব বাবুল
প্রধান সম্পাদক, শুদ্ধস্বর ডটকম

