দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। টানা ভারী বর্ষণ ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। সোমবার সকাল থেকে আখাউড়া স্থল বন্দরের চারিদিকে পানি ঢুকে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে আখাউড়া স্থল বন্দর।
এছাড়া উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ ইতিমধ্যে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে কৃষকের সবজি ক্ষেত, ফসলি জমি, পুকুরসহ এলাকার রাস্তাঘাট ও বাড়িঘর।
এদিকে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ২৫ সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় চরাঞ্চলসহ শহরের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পূর্ব পাশের হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তার ধারে পলিথিনসহ ঝুপড়ি তুলে আশ্রয় নিচ্ছে। অনেক পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় জীবনযাপন করছে।
বিশেষ করে চরাঞ্চলে উচু জায়গায় না থাকায় তারা আরও বেশে বিপাকে পড়েছে। কৃষক পরিবারগুলো গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছে। সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত কোন সহায়তা পৌঁছেনি পানিবন্দী মানুষের কাছে। ধান-পাটসহ শাক-সব্জজি ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। চারদিকে পানি থৈ থৈ করায় ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুল-কলেজে যাওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ছে। এছাড়াও ভাঙ্গনের কারণে অনেকে বসতভিটা-ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে।
অন্যদিকে ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে আসা ঢলে বগুড়ায় যমুনার পানি যতই বৃদ্ধি পাচ্ছে নদী সংলগ্ন সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলায় বন্যার মাত্রা ততই বাড়ছে।
সোমবার নতুন করে ১৬ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এনিয়ে তিন উপজেলায় ৯৮ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
এছাড়া দেশের অন্যান্য জেলাগুলোতেও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।
শুদ্ধস্বর/এন

