আজ আওয়ামীলীগের সত্তরতম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী , আমাদের জন্মের আগে আওয়ামীলীগের জন্ম ।আওয়ামীলীগ নিয়ে আমার শৈশবের কিছু স্মৃতি আছে , আমি যখন স্কুলের ছাত্র ৬৮ সালের শেষের দিকে আওয়ামীলীগের সাথে আমার পরিচয় ঘটে আমার বড় মামার মাধ্যমে । তিনি বিএসসি পাশ করে ঢাকা সিটি ল কলেজে ভর্তি হওয়ার পর রাজনীতিতে সক্রিয় হন ।তিনি ঢাকা ল কলজের ছাত্র সংসদের সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন , জাতীয় পার্টির বর্তমান এমপি কাজী ফিরোজ তখন এই কলেজের ভিপি ।ছাত্র সংসদের অভিষেক অনুষ্ঠানে আমাকে নিয়ে গিয়েছিলেন ,সেখনে ছাত্র নেতাদের বক্তৃতা শুনে আমার মধ্যে রাজনীতি নিয়ে আগ্রহ সৃষ্টি হয় .৬৯ সালে গন আন্দোলনের সময় মাঝে মাঝে ই স্কুলে স্ট্রাইক হতো , এবং আইউব খানের বিরুদ্ধে মিছিল বের হতো , স্কুল থেকে আমি এইসব মিছিলে নিয়মিত অংশ নিতাম , স্ট্রাইক হলে অনেকে বাড়ি চলে যেতো ,কিন্তু আমি মিছিলে যেতাম ।আইউব খানের পতনের পর আমাদের থানায় আওয়ামীলীগের কমিটি হয় , এই কমিটিতে আমার বড় মামা থানা আওয়ামিলিগের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক হন । আওয়ামীলীগের সব মিটিং গুলো আমার মামার বাড়িতেই হতো , আমি নানার বাড়ীতেই বড় হয়েছি ।আমার মামা সেই সময় অনেকগুলো কাজ আমাকে দিতেন ,কোন নতুন পোস্টার লিফলেট এলে আমি গ্রামের অন্যান্য শাখা গুলোতে পোঁছে দিতাম ।ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সভা ডাকলে আমি একটি বড় খাতা নিয়ে সদস্যদের বাড়ীতে বাড়ীতে যেয়ে স্বাক্ষর নিয়ে আসতাম ।সেই খাতার পাতায় লেখা থাকতো অমুক দি অতটার সময় সাধারন সভা অনুষ্ঠিত হবে । এই লেখার নীচে সদস্যরা স্বাক্ষর দিতেন । এর মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ছবি সহ ছয় দফার দাবী গুলো লিখে একটি রঙ্গিন পোস্টার বের হয়েছিলো , সম্ভবত ৬৯ এর শেষের বা সত্তরের প্রথম দিকে ঠিক স্মরণ করতে পারছিনা । সেই পোষ্টার দেখে এবং পড়ে রাজনীতিটা ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করেছিলাম ।
অধ্যাপক হামিদুর রহমান তখন নিখিল পাকিস্তান আওয়ামীলীগের কোষাধক্ষ ছিলেন, বর্তমান মন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর বাবা । তিনি আমাদের থানা থেকে এম পি এ নির্বাচন করবেন , আমার মামার সাথে তার খুব ভালো সম্পর্ক ছিল ,প্রায়ই আমাদের বাড়ীতে আসতেন ।আমাকেও খুব স্নেহ করতেন ।বিভিন্ন এলকায় মীটিং গুলোতে আমার মামা আমকে সবসময় নিয়ে যেতেন । এলাকার আওয়ামীলীগ অফিসের যাবতীয় কাজকরমেয়ামি মামাকে সহযোগিতা করতাম , ফলে সেই বয়সেই আওয়ামীলীগের সাথে নিজকে যুক্ত করে ফেলি । আমার মনে আছে ঢাকা শহরে আওয়ামীলীগের জনসভা হলে আমাদের এলাকায় ও মাইকিং করা হতো । ১৯৭১ সালের ৭ ই মার্চের জনসভাতেও এলাকায় আমি মাইকিং করেছিলাম এবং সেইদিন রমনা রেসকোর্সে উপস্থিত থেকে ভাষণ শুনে ছিলাম । স্বাধীনতার আগে আওয়ামীলীগ ছিল আমার প্রানের সংগঠন , বঙ্গবন্ধুকে খুব কাছে থেকে প্রথম দেখেছিলাম ৭০ সালের বন্যার সময় , তিনি এসেছিলেন বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শন করতে । যেখানে উনার বসার ব্যবস্থা করা হয়েছিলো , পানি ভেঙ্গে পায়জামা ভিজিয়ে তিনি স্যান্ডেল হাতে নিয়ে সেখানে এসছিলেন । দু ঘণ্টার মতো ছিলেন , আমি তার কাছেই ছিলাম । এখন আফসোস হয় সেইসময় ক্যামেরা বা ছবি তোলার ভাবিনি , এটাই আমার সংক্ষিপ্ত পরিচয় পর্ব আওয়ামীলীগের সাথে ।
১৯৪৯ সালের ২৩ শে জুন কাজী হুমায়ুন বশীরের কে এম দাস লেনের বাসভবন রোজ গার্ডেনে আওয়ামী মুসলিম লীগের জন্ম হয় ।

গবেষক মহিউদ্দিন আহমেদের বই থকে জানা যায় এই রোজ গার্ডেনের সম্মেলনের মূল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন আতাউর রহমান খান ,অনেক আলোচনার পর আওয়ামী মুসলিম লীগ নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠনের প্রস্তাব গৃহীত হয় । জানা যায় আওয়ামীলীগ নামটি মাওলানা ভাসানির দেয়া । ২৩ তারিখে যে কমিটি হয় সেই কমিটির সভাপতি হয়ছিলেন মাওলানা হামিদ খান ভাসানি, সাধারন সম্পাদক শামসুল হক,শেখ মুজিবুর রহমান যুগ্ম সাধারন সম্পাদক, খোন্দকার মোশতাক ও এ কে এন রফিকুল ইসলাম সহ সম্পাদক ।
আমাদের মধ্যে আওয়ামীলীগের পরিচয় ঘটে ৬৮ তে বঙ্গবন্ধুর মাধ্যমেই , তখনও তিনি বঙ্গবন্ধু হন নি । তখন মাইকিং করার সময় তার নামের সাথে বলা হতো এশিয়ার লৌহ মানব বাংলার নয়নমণি বঙ্গ শার্দূল শেখ মুজিবুর রহমা্ আমিও মাইকিং করার সময় এই বিশেষণ ব্যবহার করতাম । এই হচ্ছে আওয়ামীলীগের সাথে আমার পরিচয়ের প্রথম পর্ব, যা খুব সংক্ষিপ্ত ভাবে উপস্থাপন করলাম ।
হাবিব বাবুল
প্রধান সম্পাদক , শুদ্ধস্বর ডট কম ।

