আজ জাতীয় ঐক্যফন্টের বৈঠকে যেসব প্রশ্নের সম্মুখীন হবে বিএনপি এবং গনফোরাম

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এই প্রথম আজ আসম রবের উত্তরার বাসায়    আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসছেন ঐক্যফ্রন্ট নেতরা।৩০ শে ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর তারা নিথর এবং নিশ্চল হয়ে গিয়েছিলেন, যদিও নির্বাচনের আগে তারা বলেছিলেন নির্বাচনে কারচুপি হলে তারা কঠিন আন্দলনের কর্মসূচী দেবেন ।কিন্তু নির্বাচনের পর দেখা গেলো গতানুগতিক কিছু কথাবার্তা ছাড়া আর কিছু করলেন না । সারাদেশে ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীরা অপেক্ষা করেছিলেন  এতবড় অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কর্মসূচী আসবে ।ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা মাহমুদুর রহমান মান্না আন্দোলনের কর্মসূচী দেয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন , একটি সূত্র থেকে জানা যায় বিএনপি এতে রাজী হয়নি, তারা বলেছে তাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা রয়েছে আন্দোলনের কর্মসূচী দিয়ে তারা আর ঝামেলায় পড়তে চায় না । কাদের সিদ্দিকি , আসম রব ও আন্দোলনের পক্ষে ছিলেন , কিন্তু ডক্টর কামাল হোসেনের কোন অবস্থান তিনি পরিষ্কার করেন নি ।

বিএনপি এবং গণফোরাম তারা ঘোষণা দিল যে তারা এই প্রহসনের নির্বাচন মানেন না , তাই তাদের নির্বাচিত সদস্যরা সংসদে যাবে না । কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই দেখা গেলো প্রথমে গণফোরাম থেকে যারা নির্বাচিত হয়েছিলো তারা পরে বিএনপির সদস্যরা সংসদে যোগ দিলো ।এতে অনেকে হতবাক হলেও বিএনপির মহাসচিব বললেন তাদের নির্বাচিত সদস্যদের সংসদে যোগ না দেয়ার সিধান্ত ছিল ভুল । এতে বিএনপি সহ ঐক্যফ্রন্টের নেতা কর্মী সমর্থকরা আরও হতবাক হোল । মিডিয়ার মাধ্যমে জানা গেলো বিএনপির নীতিনির্ধারকরাও জানতেন না এই সিধান্তের কথা , সিধান্ত এসেছে লন্ডন থেকে ।ঐক্যফ্রন্টে পাশ কাটিয়ে বিএনপি কিভাবে এই সিধান্ত নিল  তা আজ প্রশ্ন উঠবে ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে , এই প্রশ্নের উত্তর মীর্জা ফখরুল কি দেন তা জানার আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে । দ্বিতীয় হচ্ছে ডক্টর কামাল হোসেনের ভুমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে আজ, ঐক্যফ্রন্টের নেতা হিসেবে তাকেও নিয়েও প্রশ্ন আছে অনেক ।নির্বাচনের পরের পরিস্থিতিতে করনীয় সম্পর্কে তিনি কেন কোন দিক নির্দেশনা আগে ঠিক করলেন না বা পার্লামেন্টে    যোগ দেয়ার বিষয়ে তাদের দুইজন কেন তার নির্দেশ উপেক্ষা করার পর একজনকে দলে রাখলেন অপরজনকে বহিস্কার করলেন । কেনই বা তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন নির্বাচনের ফলাফল তিনি মানেন না , পরে কেনই বা তিনি মেনে নিলেন । এছাড়া গত পাঁচ মাসে কেন তিনি ঐক্যফ্রন্টকে নিষ্ক্রিয় করে রাখলেন । এই প্রশ্নের উত্তর তারা কিভাবে দেন তাও দেখার বিষয় । তৃতীয় হচ্ছে বিএনপির মহাসচিব বলেছেন তারা হরতাল অবরোধের মতো কর্মসূচীতে যাবেন না , তা হলে কি কর্মসূচী দেবেন আগামীতে যাতে    সরকারকে   টলানো যায় তাও তাদের আজ স্পষ্ট করতে হবে না হলে আজকের এই বৈঠক অর্থহীন আড্ডায় পরিনত হবে ।বিরোধী রাজনীতি আরও হতাশায় নিমাজ্জিত হবে ।

হাবিব বাবুল

প্রধান সম্পাদক, শুদ্ধস্বর ডটকম

 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.