সিকদার গিয়াসউদ্দিন: “নৈতিকতা ও গণতন্ত্রহীন কোন সুবিধাবাদী রাজনৈতিক দলের উপর আস্থা রাখা যায়না, সে ভোল পাল্টানো বিএনপি হোক আর ভোট ডাকাতির আওয়ামী লীগ হোক!”-সৈকত রুশদী’র ফেসবুক থেকে।
অবস্থাদৃষ্টে সবকিছু মিলিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে অশনী সংকেতের কথা অনেকেই মনে করেন।অবশ্য সৃষ্টির শুরু থেকেই অনেকেই বলে আসছেন ‘ধ্বংস না হলে সৃষ্টি হয়না।’
অবস্থাদৃষ্টে বাংলাদেশের রাজনীতিতে মনে হয়-“Pro Independent Strong Oppositions Alliance”গড়ে উঠার একটা চমৎকার সম্ভাবনা খূবই সুক্ষ্নভাবে ত্বরান্বিত হতে পারে।পরিবারকেন্দ্রিক ও গনতন্ত্রবিহীন বড় দুই দলের আবর্তে কয়েকযুগের ব্যবধানে দলদাস,তোষামোদ আর চাটুকার জাতীয় হাইব্রীডদের পদভারে সারাদেশে সাধারণ মানুষ অনেকটা দিশেহারা।পথ প্রদর্শনের অভাবে রাজনৈতিক পুষ্টিহীনতার আকাল চুড়ান্ত পর্যায়ে আকাশ ছূঁয়ে গেছে।
কারণ পারিবারিক পরিচয়কে ভর করে বেড়ে উঠা বড় দুইদলের কয়েকযুগের ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতিতে শিক্ষক,সাংবাদিক,কথিত বুদ্বিজীবি নামধারীরাও পদকপ্রাপ্তিতা,তোষামোদীতা,চাটুকা
শুধু তাই নয়-এই সূযোগকে কাজে লাগিয়ে পিতৃপরিচয় বা পারিবারিক পরিচয়ের কিংবা পরিবারকেন্দ্রিক রাজনীতির বাইরে কয়েকজন বিশিষ্ট নেতাদের অতি সূকৌশলে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক চরিত্র হননের প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে।যা এখনো চলমান।এসব জাতীয় ব্যক্তিত্ব যথাক্রমে ড: কামাল হোসেন আমাদের প্রথম জাতীয় সংবিধান প্রনয়ন কমিটির প্রধান,আ স ম আবদুর রব আমাদের বাংলাদেশের মহান জাতীয় পতাকার প্রথম উত্তোলক,আবদুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম মহান মুক্তিযুদ্ধের অমিততেজী কাদেরিয়া বাহিনীর প্রধান-যাঁকে বাঘা সিদ্দিকী নামে একডাকে সবাই জানে।এঁদের নামে একসময় বিভিন্ন মিথ প্রচলিত ছিলো।স্বাধীনতার পরে আমাদের দেশে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক চরিত্র হননের শিকার মূলত:এঁরাই।এঁদের পিতৃ পরিচয় কোন জাতীয় নেতা বা জাতীয় ব্যক্তিত্বসম্পন্ন কারো সাথে যুক্ত নয়।মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্তের সন্তান।এঁরা আপন কর্ম ও আপন আলোয় উদ্ভাসিত।এঁদের ভূলত্রুটির বিষয়ে নানা আলোচনা সমালোচনা থাকতেই পারে।বঙ্গবন্ধু,সিরাজুল আলম খানকে নিয়েও নানা ধরনের কথা ও আলোচনা সমালোচনা আছে।তবে আমাদের মহান স্বাধীনতা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে এঁদের কর্মকান্ড এখনো জনমানষে দেদীপ্যমান।তৃনমূল থেকে উঠে এসে এঁদের মতো গণতান্ত্রিক আচরনের পরিপূর্ণ বিকাশ ছাড়া আপন কর্ম ও আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানদের জাতীয়ভাবে পরিচিতি কিংবা জাতীয়ভাবে রাজনীতিতে পরিচিতি পাওয়া এখন দুরুহ বলে অনেকে মনে করেন।
স্বাধীনতার পরে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে যুদ্ধফেরৎ অধিকাংশ তরুণ তুর্কীদের বিদ্রোহকে কেন্দ্র করে বিরোধী নেতা হিসাবে আ স ম আবদুর রবের উত্থান স্মরণীয় বটে!সেই সময়ে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে গিয়ে রাজনীতি করা কল্পনারও অতীত ছিলো।আ স ম রবকে কেন্দ্র করে গনতান্ত্রিক শক্তির উত্থান ও পরবর্তিতে রক্ষীবাহিনী আর গনবাহিনীর কর্মকান্ডে সর্বোপরি ডাকসূ’র নির্বাচনে ব্যালট ছিনতাইসহ নানাকারণে অবশেষে একদলীয় সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে গনতন্ত্রের বিকাশ রুদ্ধ হওয়ার বিষয়টি আলোচিত সমালোচিত।
অন্যদিকে বিশ্বাসঘাতক মোশতাকচক্র বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে অমানবিক ও বর্বর হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে ক্ষমতারোহন করলেও খালেদ মোশাররফের নাটকীয় মৃত্যু,কর্ণেল তাহেরের অবৈধ বিচারের প্রহসনের নাটকের যবনিকাপাতের পর বেনিফিশিয়ারী হিসাবে জিয়ার আগমন আরেক ইতিহাস।জিয়া ক্ষমতায় এসে “Money is no problem.I will make politics difficult”বলেছিলেন।অবশ্য দলবদলের মতো অনৈতিক কর্মকান্ডের ব্যবসা অত্যন্ত সুন্দরভাবে সমাপন সহ স্বাধীনতাবিরোধী চক্রকে রাজনীতিতে পুনর্বাসনের বিষয়টিও আরেক ইতিহাস।যা এখনো আলোচিত সমালোচিত।
জেনারেল জিয়াকে ক্ষমতায় পূনর্বাসনে এবং সেনাবাহিনীতে ডিসিপ্লিন ফিরিয়ে আনার নামে জেনারেল ওসমানীর সহায়তা প্রদানের কথা শুনা যায়।তবুও জেনারেল ওসমানীকে সামনে রেখে সম্মিলিত বিরোধীদল জিয়ার বিরুদ্ধে প্রেসিডন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে দাঁড় করিয়ে দেয় গনতান্ত্রিক আচরনের বিকাশের লক্ষ্যে।এরকম অসংখ্য ঘটনা।পরিশেষে সম্মিলিত ছাত্র আন্দোলনের উপর ভর করে রাজনৈতিক দলগুলো এক হয়ে স্বৈরাচার হটিয়ে ক্ষমতায় আসীন হয়।ক্ষমতায় আরোহন করেই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মূল উৎসকে হাইজ্যাক করে ও পাশ কাটিয়ে ডাকসূ আর স্কুল কলেজের নির্বাচন স্থগিত করে চরম স্বেচ্চাচারিতার মধ্য দিয়ে পারিবারিক পরিচয়ের ধ্বজ্জাধারী বড় দুই দলের শাসনামল এখন ইতিহাসের কাঠগড়ায়।গনতান্ত্রিক আচরনের বিকাশ রুদ্ধ।
এমতাবস্থায় বড় দল না হলেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মতো শক্তিশালী রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে গনতান্ত্রিক আচরনের বিকাশে বি এন পিকে বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ড:কামাল হোসেন,আ স ম আবদুর রব ও কাদের সিদ্দিকী’র মতো প্রো ইন্ডিপেন্ডেন্ট নেতারা অন্যান্য প্রো ইন্ডিপেন্ডেন্ট শক্তিকে একত্রিত করে এগিয়ে যাওয়া ছাড়া বর্তমান অবস্থায় অন্য কোন বিকল্প আছে কি? স্মরণ রাখতে হবে যে-উনারা সহ মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম,খালেকুজ্জামান ভাইরা সত্তরোর্ধ।উনারা পথ প্রদর্শন করতে পারবেন।যা কিছু করতে হবে তরুণ ও যুব শক্তিকে।বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধে অংশগ্রহন করেছিলো আর স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিলেন ত্রিশ বছরের নীচের তরুণ বা যুবশক্তি।এটিও স্মরণ রাখতে হবে।শক্ত বিরোধী দল গড়ে না উঠতে না দিলে আওয়ামী লীগের নিজ দলের অভ্যন্তরে প্রকাশ্যে বা লুকিয়ে থাকা দানবদের হাতেই ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়ার বিষয়টি অনেককে এখন প্রকাশ্যে বলতে দেখা যায়।আশাবাদের বিকল্প নেই।
সিকদার গিয়াসউদ্দিন
লাস ভেগাস,ইউ এস এ

