বগুড়া ৬ আসনে উপনির্বাচনে বিএনপি নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহামুদুর রহমান মান্নাকে মনোনয়ন দিতে চায় কিন্তু সাথে একটি শর্ত দেয়া হয়েছে , সেটা হচ্ছে তাকে বিএনপিতে যোগ দিতে হবে । কিন্তু মান্না এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি বলেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের হয়ে তিনি লড়তে রাজী, বিএনপির হয়ে নয় । কেন মান্নাকে বিএনপি দলে চাচ্ছে তা নিয়ে ভাবনার শেষ নেই , কারন বিএনপিতে নেতার অভাব নেই তারপরও কেন মান্না কে দরকার সেটাও ভাবনার বিষয়, মাহামুদুর রহমান মান্নার ছাত্ররাজনীতির একটি গৌরবময় ইতিহাস আছে ১৯৭৩ সালে তিনি জাসদ ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক হয়েছিলেন , তার আগে তিনি চট্টগ্রাম ইউনিভারসিটির ছাত্র সংসদের সাধারন সম্পাদক ছিলেন । তিনি যে সম্মেলনে সাধারন সম্পাদক হয়েছিলেন আমি নিজে সেই সম্মেলনের কাউন্সিলর ছিলাম, উনাকে আমরা চিনতাম না , আফম মাহাবুবুল হক সভাপতি হবেন এটা নিশ্চিত ছিল, সাধারন সম্পাদক হিসাবে আমরা অন্যকাউকে ভেবেছিলাম , কিন্তু মাহামুদুর রহমান মান্নাকে সাধারন সম্পাদক করা হলে আমরা প্রথমে মনেপ্রানে মেনে নিতে পারিনি , টিএসসিতে কাউন্সিল অধিবেশন হয়েছিলো । প্যানেল ঘোষণার পর আমরা মৃদু প্রতিবাদও করেছিলাম । সম্মেলনের কয়েকদিন পর মান্নাভাইর সাথে আমাদের বলাকা ভবনে ছাত্রলীগ অফিসে কথা হয় , তার বিনয় সে সময় আমাদের মুগ্ধ করেছিলো, আমাদের কাছে তখন মনে হচ্ছিলো এরকম একজন নেতাকেই আমরা এতদিন খুঁজছিলাম । মান্না ভাই কয়েকদিনের মধ্যেই সবার মন জয় করে সেই সময় ছাত্রলীগের ভেতর সবচেয়ে পপুলার নেতায় পরিনত হয়েছিলেন । একথা গুলো লিখলাম এজন্য যে মান্না ভাইর মতো বিনয় বাংলাদেশের রাজনীতিদের মধ্যে খুব কমই আছে , মাহামুদুর রহমান্না দুবার ডাকসুর ভিপি হয়েছিলেন , সেই সময় তিনি সব ছাত্র সংগঠনের কাছেই গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিলেন, আমি তখন দেশের বাইরে বিএনপি তখন ক্ষমতায় যখন তিনি ডাকসুর ভিপি হলেন, সেই সময় আমি শুনেছি বাম ছাত্র সংগঠনের পাশাপাশি ছাত্রদলের কর্মীরাও উনাকে ভোট দিয়েছেন । সব দলের মধ্যেই তার ভক্ত ছিল যা এখনও আছে । আমি আরও শুনেছি ৯০ সালেও খলেদা জিয়া মান্না এবং আখতারকে বিএনপি তে যোগদিয়ে নির্বাচন করার অনুরোধ করেছিলেন , কিন্তু মান্না এবং আখতার সেই সময়ে খালেদার আহব্বানে সাড়া দেন নি । আখতাউজ্জামান আওয়ামীলীগে যোগদেন তার কিছুদিন পর মাহামুদুর রহমান মান্নাও আওয়ামীলীগে যোগদেন । এর আগে ডাকসুর সাবেক ভিপি আখতাউজ্জামান অনেকদিন লন্ডনে ছিলেন আমার সাথে মাঝে মাঝেই রাজনিতি নিয়ে কথা হতো । জনতামুক্তি পার্টি নামে একটি দলও গঠন করেছিলেন এই দুই নেতা । যাই হোক বিএনপি কেন তাকে দলে চাচ্ছে এই কারনে যে তাদের দলে অসংখ্য নেতা থাকলেও নাগরিক সমাজ সহ সবার কাছে গ্রহণ যোগ্য একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তাদের দরকার । মীর্জা ফখরুল ইসলামের বিকল্প একজন নেতা তারা সটানবাই রাখতে চায় । সে কারনেই হয়তো বিএনপি নেতা হিসেবে মান্নাকে চাচ্ছে । তিনি এখন বিএনপির কাছে পরীক্ষিত একজন নেতা যে খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে সবচেয়ে উচ্চকণ্ঠ । সারাদেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেও তি ই জনপ্রিয়, সোশ্যাল মিডিয়া এনং ইউটিউব দেখলেই বোঝা যায় । একারনেই বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে উনাকে দলে যোগ দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে ।কিন্তু মান্না এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে ধানের শীষ প্রতীক নিয়েই নির্বাচনে রাজী । সরকারী দল তাকে সেখানে জিততে দিনে কিনা এটা নিয়ে কিছুটা সংশয়েও আছে তিনি ।
হাবিব বাবুল
প্রধান সম্পাদক। শুদ্ধস্বর ডটকম

