১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবর রহমান বাঙ্গালির মুক্তি সনদ ৬-দফা ঘোষণা করলে আওয়ামীলীগের একটি অংশ আব্দুস সালাম খানের নেতৃত্ব আলাদা হয়ে যায়। ফলে অনেক আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মী নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েন। এ-সময় আওয়ামীলীগের অফিস ছিলো ১৫ পুরানা পল্টন,ঢাকা ১০০০-এচালায় । একটি দুচালা টিনের ঘর। সম্ভবত আমেন বেগম তখন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক। এখন এখানে ১২তলা সুরম্য অট্টালিকা। আমরা ছাত্র লীগের কর্মীরা মেসবাহউদ্দিন আহমেদ, রেজাউল হক চৌধুরী মুসতাক, শেখ আতাউর রহমান, প্রায়ত শেখ মোহাম্মদ জাহিদ, প্রয়াত আজিজুল হক চৌধুরী কাউসার, দিলওয়ার এবং আমি ফজলুর রহমান ভুলু সেখান নিয়মিত যেতাম। একচালা এই অফিসে। হাতে গুনা-গুটি কয়েক আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মী ছাড়া আর কাউকে মোটেও দেখা যেত না। সিরাজুল আলম খানের নেতৃত্ব পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র লীগের একনিষ্ট কর্মীগণ আওয়ামীলীগের কর্মসূচিতে মাইকিং করা, হলোও পোস্টর লেখা ও লাগানো, দেওয়াল লিখন( চিকা মারা), সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পত্রিকা অফিসে পৌঁছে দেওয়া ইত্যাদি কাজ করতো। ছাত্র লীগের কর্মীরা গভীর রাতে দেওয়াল লিখন লিখছে। পুলিশ জিজ্ঞেস করছে এত রাত তোমরা কী করছ? আমরা সমস্বরে বললাম চিকা মারছি। সেই থেকে চিকা মারা শব্দ চালো হলো। ১৯৬৯ সালের ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আন্দোলনের মুখে ১৯৬৯-এর ২২ ফেব্রুয়ারি তথাকথিত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার হলে শেখ মুজিবর রহমানসহ নেতৃবিন্দ মুক্ত হন। ফলে অবস্থায় ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়। তখন ৫১/এ পুরানা পল্টনে একটি সম্পূর্ণ দুতলা বাড়ি ভাড়া নেওয়া হয় আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় অফিস হিসেবে। বর্তনানে বাড়িটি ৫১-৫১/এ দুইটি বাড়ি যুক্ত করে ১২তলার এক বিশাল সুরম্য অট্টালিকা । চলবে ।
লেখক ফজলুর রহমান ভুলু , মুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীনতা পূর্বকালীন ছাত্রলীগের নেতা, স্বাধীনতা পরবর্তী জাতীয় কৃষক লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ।

