২৫ শে মার্চ রাতের বেলায় ঢাকায় গনহত্যার কারনে ২৬ শে মার্চ ভোর বেলা থেকে কেরানীগঞ্জ আসা শুরু করে শহরের মানুষ , কারফিউর ফাঁকে অলিগলি পার হয়ে মানুষ বুড়িগঙ্গা পার হয়ে কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় নেয় । মানুষের এরকম জনস্রোত আমি আর কখনও দেখিনি , সকাল দশতার পরই খবর পেলাম বছিলা দিয়ে পার হয়ে আওয়ামীলীগ এবং ছাত্রলীগের অনেক নেতাই কলাতিয়ায় আওয়ামীলীগ নেতা বোরহান উদ্দিন গগনের বাড়ীতে আশ্রয় নিয়েছে । ভারতের আকাশবানী রেডিওতে প্রচার করা হচ্ছে শেখ মুজিবুর রহমান তাদের কাছে আছে , আমরা অনেকটা নিশ্চিত আকাশবাণী সত্যকথা বলছে , আবার শোনা গেলো বঙ্গবন্ধু কেরানীগঞ্জের এম পি এ হামিদুর রহমানের বাড়ীতে আশ্রয় নিয়েছে , চারিদিক থেকে বিভিন্ন খবর আসছে । দুপুরের দিকে নিশ্চিত হলাম বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হয়েছেন , একজন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা এ কথা বলছেন আওয়ামীলীগের একজন স্থানীয় নেতার কাছে । বেলা বাড়ার সাথে আথে পুরান ঢাকার বংশাল এলাকায় প্রতিরোধ শুরু হয়েছে নাদের নামে এক অবাঙালি এই প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন । নাদের পুরান ঢাকায় নাদিরা নামে পরিচিত ।কোন রাজনৈতিক দলের সাথে তার সম্পৃক্ততা আগে শুনিনি , নাদিরা কি কারনে প্রতিরোধ করেছিলো তার বিস্তারিত আজও জানা যায়নি । সারাদিন অনেক খবর পেলাম , সন্ধ্যায় পুরান ঢাকার নয়াবাজারে কাঠের মার্কেটে আগুন দেয় পাকবাহিনী , বুড়ীগঙ্গার তীরে দাঁড়িয়ে আমরা এই আগুণের দাবানল দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম , নয়াবাজার এলাকার সমসাবাদ এ আমার খালাদের বাড়ী , ওইদিন ঢাকার অনেকেই শহর ছেড়ে আসলেও আমার খালারা আসেনি , কারফিউর কারণে আমরা সেখানে যেয়ে কোন খবরও নিতে পারিনি । এদিকে শহর থেকে আগত আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রনেতারা মোস্তফা মহসিন মণ্টূ এবং গগনদের বাড়ীতে বসে পরবর্তী পরিকল্পনা করছে , অনেকেই ধারনা করছে পিলখানা থেকে পালিয়ে আসা ই পি আর বাহিনী এবং স্থানীয় যুবকদের নিয়ে ঢাকা আক্রমন করা হবে । এরকম সংবাদ তখন পথে ঘাটে । কিন্তু ২৬ শে মার্চ এরকম কিছু ঘটেনি । নেতারা আক্রমনের সিধান্ত নিলেও তা কার্যকারী করেন নি । গগনদের বাড়ীটা তখন হেডকোয়ার্টার , রাজ্জাক , তোফায়েল, শেখ মনি , সিরাজুল আলম খান, রব, শাহজাহান সিরাজ গগনদের পুকুর পাড়ে বসে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে ম্যারাথন আলোচনা করছেন । আমরা কয়েকজন ঘুরে ঘুরে দেখছি , শহর থেকে আসা মানুষদের , কবি , সাহিত্তিক, চিত্রজগতের মানুষ সহ শহরের এলিটরা তখন সবাই কেরানীগঞ্জে । পাকিস্তান আমলে সিনেমা দেখার বয়স হয়নি , তবুও পালিয়ে জীবন থেকে নেয়া ছবিটি দেখেছিলাম , গুলিস্থান সিনেমা হলে , আমার মামা চিত্রালি রাখতেন এটি একটি সিনেমা পত্রিকা , তখনকার সময়ে একমাত্র পত্রিকা , সেখানে পড়েছিলাম জলছবি নামে একটি সিনেমা হচ্ছে সেই ছবির নায়কের নাম ফারুখ , চীত্রালিতে তার ছবিও দেখেছিলাম , ২৬ শে মার্চ কেরানীগঞ্জের বরিসুর বাজারে তাকে সামনা সামনি দেখলাম । সুন্দর ফর্সা একজন যুবক দাঁড়িয়ে সিগারেট টানছে , সাথে আরও কয়েকজন । নায়ক আমার সামনে দাড়িয়ে আছে ।
পরবর্তী ঘটনা আগামী সংখ্যায় ।
হাবিব বাবুল , প্রধান সম্পাদক , শুদ্ধস্বর ডটকম

