বইয়ের পাতার সেই লিলিপুটদের খোঁজ মিলল ভারত সাগরের দ্বীপে!

গালিভার আর লিলিপুটের গল্প সত্যিই অনেক অদ্ভুদ এবং রহস্যময়ী? সেই যে, গালিভার নামের এক লোক একদিন গিয়ে পড়ল এক আজব দেশে– যেখানকার মানুষেরা একদমই ছোট্ট। লম্বায় মাত্র কয়েক ইঞ্চি! আজব সেই দেশে গালিভার আর লিলিপুটের মধ্যে ঘটেছিল মজার মজার সব ঘটনা। আর সেই গালিভার আর লিলিপুটদের গল্প নিয়ে একটা ছবিও বানানো হয়েছিল।

লিলিপুটরা দ্বীপে থাকতো বলে গল্পে উল্লেখ আছে, খুব সম্ভবত সে দ্বীপের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। ভারত সাগরে একটি অস্ট্রেলিয়ান ছোট মাছ ধরার নৌকা খুব সম্ভবত ঘটনাক্রমে বহু দিন ধরে আড়ালে থাকা এ দ্বীপের সন্ধান পেয়েছে। ছোট নৌকাটি রাতের বেলা সমুদ্রে ভেসে চলেছিল ও সকালে একটি বালুময় তীরে গিয়ে আটকে যায়।

নৌকাটিতে তিনজন জেলে ছিলেন। এরপর কি ঘটেছিল সেটা শুনে অবাকই হতে হয়। এই ক্ষুদ্র দ্বীপপুঞ্জ যেটার কথা এই তিনজন জেলে জানিয়েছেন, খুব সম্ভবত অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে ৩৬৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। কিন্তু এটা এতোটাই ছোট যে, তা হয়তো সবার চোখের আড়ালেই থেকে গিয়েছিল।

তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সেই দ্বীপের বাসিন্দারা ছোট ছোট মানুষ কিংবা মানুষের মতো ‘হিউমেনয়েড’ তাদের তিনজনকেই আক্রমণ শুরু করে। তাদের অস্ত্রগুলো ছিল মূলত এক ধরণের কালো পাউডার। সেই তিনজন জেলে কোনভাবে তাদের নৌকা নিয়ে ফিরে আসতে সক্ষম হন। তাদের দেহে অসংখ্য বুলেটের আঘাতে সৃষ্ট ক্ষতের মতো ক্ষত তৈরি হয়েছিল। এছাড়া তারা তীব্র আতঙ্কে মানসিকভাবে সমস্যাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল!

গল্পের লেখক জোনাথন সুইফট কিন্তু সব সময় দাবি করে এসেছিলেন যে, তার গল্পটি পুরোপুরি সত্য ও লিলিপুটদের অস্তিত্ব বাস্তবেই আছে।

তবে অধিকাংশ বিজ্ঞানীদের মতে, এ দাবিটি সঠিক নয়। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে তার এ গল্প একটি সুখপাঠ্য কাল্পনিক রচনা ছাড়া আর কিছু নয়। তবে বিংশ শতাব্দীর বেশ কয়েকজন নামজাদা গবেষক লিলিপুটদের দ্বীপের অবস্থান খুঁজে বের করতে চেষ্টা করেন যেমন ডক্টর ফ্রেডরিখ ব্রেকার ও লর্ড আর্থার ই কেস। তবে এদের সবাই ব্যর্থ হন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.