একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে নানা আলোচনার মধ্যেই সমালোচনামূলক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সরকারের শরিক জাসদের একাংশ। দলটি বলেছে, প্রশাসনের এক শ্রেণির অতিউৎসাহী অংশ ভোটের আগের রাতেই ভুয়া ভোটের মাধ্যমে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখাসহ নানা অনিয়ম সংঘটিত করেছে। জাসদ মনে করছে অতিউৎসাহীরা এই কলঙ্কিত ঘটনার মাধ্যমে সরকারকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। এই কলঙ্কের দাগ মুছতে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে। নিজেদের মধ্যে মতভিন্নতার কারণে দুইভাগ হওয়া জাসদের একপক্ষের সভাপতি সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। অন্যপক্ষের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া। মহাজোটের হয়ে নির্বাচন করে জয়ী হয়েছে তিনজন।
তাদের মধ্যে সভাপতি ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শিরিন আকতার এক অংশের।
শরীফ নরুল আম্বিয়ার জাসদের হয়ে নির্বাচিত হয়েছে কার্যকরি সভাপতি মাইনুদ্দিন খান বাদল। মহাজোটের হয়ে নির্বাচন করলেও জোট শরিক জাতীয় পার্টি বিরোধী দলের আসনে বসেছে। জোটের অন্য শরিকদের অবস্থান কি তা নিয়ে নিজেরাই প্রশ্ন তুলছেন। সরকারের সঙ্গে নির্বাচন করে বিরোধীদলের অবস্থানে যাওয়ায় চাপা অসন্তোষও আছে। এই অবস্থার মধ্যেই নুরুল আম্বিয়ার জাসদ জাতীয় কমিটির বৈঠক করে নির্বাচন বিষয়ে দলীয় মূল্যায়ন প্রকাশ করে। রোববার গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত জানায় জাসদ।
কোনো অপ্রাপ্তি বা অসন্তোষ থেকে এমন প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে কি না জানতে চাইলে গতকাল শরীফ নুরুল আম্বিয়া মানবজমিনকে বলেন, এমন কোনো কারণ নেই। সম্পূর্ণ নির্মোহ জায়গা থেকে বাস্তবতার আলোকে প্রতিক্রিয়া দেয়া হয়েছে। যা সত্য তাই বলা হয়েছে। তিনি বলেন, অতিউৎসাহীরা রাতেই ভোট দিয়ে মহাজোটের বিজয়কে কলঙ্কিত করেছে। যে অবস্থা তৈরি হয়েছে তা প্রত্যাশিত না।
নির্বাচনের আগেই অনেকটা নিশ্চিত ছিল সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হবে। আমরা ১৪ দলের বৈঠকেও তা বলেছি। ১৬০ থেকে ১৬৫ আসনে জয়ী হওয়ার মতো অবস্থা ছিল। যদিও তখন একটি রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে ভিন্ন তথ্য দেয়া হয়। জয়ের বিষয়ে আমরা নিশ্চিত ছিলাম এ কারণে যে জোটের প্রতি মানুষের আস্থার সঙ্গে শেখ হাসিনার মতো একজন ক্যারিশমেটিক নেতৃত্ব আমাদের ছিলেন।
তিনি বলেন, বিষয়টি আমরা প্রকাশ করেছি দলের অবস্থান থেকে। আমাদের এটিই অবস্থান। অন্যরাও হয়তো নিজেদের মধ্যে নির্বাচনের বিষয়ে বলাবলি করেন। কিন্তু প্রকাশ্যে বলছেন না। বাস্তবতা হলো মানুষকে বিচ্ছিন্ন রেখে বড় কিছু করা যায় না। যাবেও না। এটা আমাদের স্বীকার করতে হবে। সার্বিক পরিস্থিতিতে একটা শূন্যতা তৈরি হয়েছে। একটা বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়েছে। এই শূন্যতা পূরণ করতে হবে। এই বিচ্ছিন্নতা দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে। ওই নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা একটা রাজনৈতিক সমস্যায় পড়েছি। এটি স্বীকার করে তা নিরসনের উদ্যোগ নিতে হবে। বিষয়টি ১৪ দলের বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি আলোচনা হতে পারে। কথা প্রসঙ্গে আসতে পারে। আমাদের বক্তব্যের বিষয়ে তারা ব্যাখ্যা চাইতে পারে। তখন আমরা বলব। আর আমরা যেহেতু উন্মুক্ত বিবৃতি দিয়েছি এখন বিষয়টি আওয়ামী লীগ গুরুত্ব দিয়ে দেখতে পারে। দলের একজন সংসদ সদস্য আছেন। তিনি বিষয়টি সংসদে তুলবেন কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, তুলতেও পারেন। তবে, বাইরে যেভাবে বলা যায় সংসদে হয়তো সেভাবে বলতে পারবেন না।
গত ১ ও ২রা ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (বাংলাদেশ জাসদ) জাতীয় কমিটির সাধারণ সভার পর গৃহীত সিদ্ধান্ত বিবৃতি আকারে গণমাধ্যমে পাঠানো হয় রোববার। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সভার মূল্যায়ন তুলে ধরে বলা হয়, ‘দেশের সকল রাজনৈতিক দল ও জনগণ উদ্দীপনা ও আশা নিয়ে অংশগ্রহণ করলেও নির্বাচনের পরে বিষণ্নতায় আক্রান্ত হয়েছে গোটা জাতি। এর মূল কারণ হচ্ছে প্রশাসনের এক শ্রেণির অতিউৎসাহী অংশ ভোটের পূর্ব রাত্রেই ভুয়া ভোটের মাধ্যমে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখাসহ নানা অনিয়ম সংঘটিত করেছে।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটের জয় এই নির্বাচনে ‘নিশ্চিত’ ছিল দাবি করে বাংলাদেশ জাসদ বলেছে, ‘জনগণের ভোটের মাধ্যমে ১৪ দল তথা মহাজোটের নিশ্চিত বিজয় জেনেও যে মহল বিশেষ এ অপকর্ম সংঘটিত করেছে, গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থেই তাদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। কেননা এ কলঙ্কিত ঘটনার মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছে। এ কলঙ্কেতর দাগ মুছতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে হবে। তোপখানা রোডে বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে শরীফ নুরুল আম্বিয়ার সভাপতিত্বে সভায় দলের কার্যকরী সভাপতি মইনউদ্দীন খান বাদল, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন প্রমুখ নেতারা বক্তব্য রাখেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আসন্ন উপজেলা নির্বাচনসহ সব ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাসদ। এ দাবিতে দলের পক্ষ থেকে কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে। সুত্র মানবজমিন

