নির্বাচন কমিশনে কয়েক দফায় অভিযোগ করেও ফল না পেয়ে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার-হয়রানি বন্ধের দাবি নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর কাছে গেলেন বিএনপি নেতারা।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিএনপি প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার পরদিন বুধবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে গিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে এম নূরুল হুদার সঙ্গে দেখা করেন সেলিমা রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির কয়েকজন নেতা।
বৈঠক শেষে বিএনপির প্রতিনিধিদল বিকালে পুলিশ সদর দফতরে গিয়ে জাবেদ পাটোয়ারীর সঙ্গে বসেন। প্রায় আধা ঘণ্টার বৈঠকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও হয়রানি বন্ধের দাবি জানান তারা।
বৈঠক শেষে সেলিমা রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ গ্রেফতার করছে, হয়রানি করছে। সে জন্য নির্বাচনের প্রচার কাজ চালানো যাচ্ছে না।”
তিনি বলেন, “আমরা যেন নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে না পারি, যেন নির্বাচনে কোনো এজেন্ট রাখতে না পারি, আমাদের নেতাকর্মীরা যেন নির্বাচনের মাঠে থাকতে না পারে সে জন্য ইচ্ছা করে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হচ্ছে।”
পুলিশপ্রধানের সঙ্গে দেখা করার পর সেলিমা রহমান বলেন, তাদের অভিযোগগুলো পুলিশের মহাপরিদর্শকের কাছে তুলে ধরেছেন।
তিনি বলেন, “সকালে সিইসির কাছে গিয়েছিলাম, উনি বলেছেন তিনি বিব্রত। প্রশাসনসহ সব কিছু সিইসির আওতায় থাকবে। কিন্তু কার্যত দেখা যাচ্ছে, তিনি কিছু করতে পারছেন না। এ জন্য বলতে এসেছি, আমাদের সামনে মাত্র আর ১৮টা দিন আছে। এই ১৮ দিন যেন নির্বাচনী প্রচারণা শান্তিমতো করতে পারি।”
“আমাদের নেতাকর্মীদের মাঠে থাকতে দেওয়া হোক। আমরা যেন এজেন্ট দিয়ে একটা সুন্দর, ফেয়ার নির্বাচন করতে পারি- এটাই ছিল আমাদের বক্তব্য।”
‘কিছু কিছু ঘটনা ঘটেছে, তা আইজিপি স্বীকার করেছেন’ জানিয়ে সেলিমা রহমান বলেন, “বিএনপির দাবিগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, তিনিও এ রকম দুয়েকটা ঘটনা শুনেছেন। তিনি কথা দিয়েছেন যেন সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম চালাতে পারি, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন।”
বিএনপির প্রতিনিধিদলে সেলিমা রহমান ছাড়াও মেজর কামরুল ইসলাম ও সাবেক আইজি আব্দুল কাইয়ুম ছিলেন।

