দিনে ১০০টি উদ্ধার-অভিযান ! নজরে নেপালের প্রথম মহিলা কপ্টার ক্যাপ্টেন

কাঠমাণ্ডু: হড়পা বানে বিধ্বস্ত নেপালে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে উদ্ধারকাজ। এই আবহেই নজর কেড়েছেন ক্যাপ্টেন প্রিয়া অধিকারী। নেপালের প্রথম মহিলা কপ্টার ক্যাপ্টেন। বিপদের সময় অসাধারণ কৃতিত্বের নজির গড়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে এক সপ্তাহেরও কম সময়ে প্রায় ১০০টি উদ্ধার অভিযান চলেছে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘টানা উড়ানের জেরে আমরা সকলেই ক্লান্ত। তবে এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রশিক্ষণ আমাদের রয়েছে।’

বন্যাবিধ্বস্ত রাসুয়া জেলার তিমুরে প্রায় ২০টি হেলিকপ্টার লাগাতার উড়ছে। প্রিয়া জানান, উদ্ধার অভিযানের সময় পাইলটদের সঙ্গে রেডিয়োয় নিরন্তর যোগাযোগ রাখতে হচ্ছে। কখনও একই জায়গায় পাঁচ বা ছ’টি হেলিকপ্টার একসঙ্গে নামানো হচ্ছে। সেখান থেকেই উদ্ধার করা হচ্ছে বিপর্যস্ত মানুষদের। তবে ঝুঁকি শুরু হচ্ছে যাত্রীদের হেলিকপ্টারে তোলার আগেই। প্রিয়ার কথায়, ‘কিছু এলাকা এতটাই ঘন কাদায় ঢেকে গিয়েছে যে সেখানে নিরাপদে হেলিকপ্টার নামিয়ে ইঞ্জিন বন্ধ করা সম্ভব নয়। ফলে উদ্ধারকাজ চলাকালীন পাইলটদের হেলিকপ্টার চালু রেখেই অপেক্ষা করতে হচ্ছে।’ আকাশে উড়ে যাওয়ার সময় নীচের দৃশ্য দেখে বারবার আঁতকে উঠতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।  প্রিয়ার কথায়, ‘ওঁরা আমার আত্মীয় নন। তবু উদ্ধারের পর মনে হয় কতদিনের সম্পর্ক।’
নেপালের প্রথম মহিলা হেলিকপ্টার ক্যাপ্টেন হয়ে ওঠার পথ খুব একটা সহজ ছিল না প্রিয়ার। পরিবেশবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা করার পর কেবিন ক্রু হিসাবে কাজ শুরু করেন। পরে হেলিকপ্টার চালানোর প্রশিক্ষণ নিতে ফিলিপিন্সে যান। কিন্তু নেপালের মতো দেশে একজন মহিলাকে হেলিকপ্টার পাইলট হিসাবে মেনে নিতে চাননি অনেকেই। প্রিয়ার দাবি, অনেক বাধা পেরিয়ে এই জায়গায় এসেছেন। ২০১৭ সালে হেলিকপ্টার পাইলট হিসাবে কাজ শুরু করেন। পরে পার্বত্য অঞ্চলে উদ্ধারকারী উড়ানে বিশেষজ্ঞ হয়ে ওঠেন প্রিয়া। হিমালয়ে একাধিক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছেন তিনি। মাউন্ট এভারেস্ট থেকেও আহত পর্বতারোহীদের উদ্ধার করেছেন। প্রায় ৬,২০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালিয়েছেন তিনি।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.