প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী দীনেশ ত্রিবেদী

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের ব্যাপারে ‘অত্যন্ত আশাবাদী’ ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। একই সঙ্গে, তিনি আশা প্রকাশ করেন—আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব এবং এটাই গণতন্ত্রের মূল সৌন্দর্য। আজ বুধবার জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের তিনি এই কথা বলেন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘গণতন্ত্রে আলোচনার কোনো শেষ নেই। আলোচনা শেষ হলে তা গণতন্ত্র না। এটি গঙ্গা বা পদ্মার মতো প্রবহমান একটি নদীর মতো।’ তিনি মনে করেন, ‘আলোচনার পথ খোলা রাখাই হলো গণতন্ত্রের মূল সৌন্দর্য।’

এ ছাড়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফর ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে তিনি ‘অত্যন্ত আশাবাদ’ ব্যক্ত করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ‘অত্যন্ত প্রজ্ঞাবান ও জনমুখী একজন নেতা’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং দুই দেশের মানুষের কল্যাণে ভালো কিছু হবে বলে বিশ্বাস প্রকাশ করেন।

স্পিকারের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব এবং ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব। তাঁর সঙ্গে খেলাধুলার অনেক কথা হলো। ভারতের প্রয়াত ফুটবলার চুন্নী গোস্বামী হতে শুরু করে অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশের সর্বশেষ টেস্ট সিরিজ নিয়েও কথাবার্তা হলো।

বাংলাদেশ ও ভারতের সংসদ সদস্যদের নিয়ে একটি ‘ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ’ বা মৈত্রী গ্রুপ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। দলমত-নির্বিশেষে দুই দেশের এমপিদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে এই দুই গণতান্ত্রিক দেশের সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার পক্ষ থেকে বাংলাদেশের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের প্রতি বিশেষ শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। একই সঙ্গে তিনি তাঁদের ভারতের সংসদ ভবন ও সেখানকার কার্যক্রম পরিদর্শনের জন্য আমন্ত্রণ জানান।

আলোচনায় ভারতীয় সংসদের আধুনিকায়ন ও ডিজিটালাইজেশনের প্রসঙ্গটি গুরুত্ব পায়। ভারতীয় রাষ্ট্রদূত জানান, ভারতীয় সংসদে এখন সব কার্যক্রম ডিজিটাল পদ্ধতিতে হচ্ছে, যার ফলে এমপিদের আর কাগুজে নথির ওপর নির্ভর করতে হয় না। জওহরলাল নেহরু থেকে শুরু করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যসহ পুরোনো সব আর্কাইভ ডিজিটাল লাইব্রেরিতে সহজলভ্য করা হয়েছে। বাংলাদেশের সংসদেও এই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান।

সংসদ ভবনের স্থাপত্যশৈলী এবং এর চারপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জলাধারের প্রশংসা করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘এটিকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই স্বপ্নের প্রতিফলন বলে মনে হবে যেখানে মন হবে ভয়হীন এবং উচ্চকিত।’ তিনি এই পরিবেশকে কাজের জন্য অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক বলে বর্ণনা করেন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.