রাষ্ট্রপতি নির্বাচন : বিএনপির ভোটই যদি যথেষ্ট হয়, তাহলে এই নির্বাচন কেন ?

বাংলাদেশে আবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট হওয়ার কথা। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন জনগণের সরাসরি ভোটে নয়, জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে। সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদে স্পষ্ট বলা আছে—রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হবেন।

এবারের নির্বাচনকে ঘিরে তাই একটি মৌলিক প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসে: বিএনপি যদি জাতীয় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসন নিয়ে এককভাবে সরকার গঠন করে থাকে, তাহলে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীকে রাষ্ট্রপতি বানানোর জন্য আলাদা করে ভোটাভুটির প্রয়োজনটা কোথায়? আর যদি ভোট হয়ই, সেই ভোট কি সত্যিকার অর্থে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন, নাকি সংবিধান অনুসরণের আনুষ্ঠানিকতা?

২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ৩০০ সাধারণ আসনের মধ্যে ২০৯টি আসন পেয়েছে—অর্থাৎ এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার অনেক ওপরে। বিএনপি-সমর্থিত জোটের আসন আরও বেশি। ফলে সংসদে বিএনপির প্রার্থী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

কিন্তু এখানেই মূল বিষয়টি হলো—রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা, এই দুটি বিষয়কে এক করে দেখলে চলবে না।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে যে প্রশ্নটি উঠছে, সেটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রচলিত ব্যবস্থায় কোনো সংসদ সদস্য কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে পরে সেই দলের বিরুদ্ধে সংসদে ভোট দিলে তাঁর সংসদ সদস্যপদ হারানোর বিধান রয়েছে। ফলে সংসদীয় রাজনীতিতে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার স্বাধীনতা কার্যত সীমিত। ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই এই বিতর্ক রয়েছে—এটি দলীয় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করে, কিন্তু একই সঙ্গে সংসদ সদস্যের স্বাধীন মতপ্রকাশ ও সংসদীয় জবাবদিহির ক্ষেত্র সংকুচিত করে কি না।

তাহলে বিএনপির ২০৯ জন বা তারও বেশি সংসদ সদস্য যদি দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে না পারেন, তাহলে ভোটটি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় ? গণতন্ত্রের দৃষ্টিতে এর উত্তর খুব সহজ নয়।

কারণ নির্বাচন মানেই কেবল ব্যালট বাক্সে ভোট দেওয়া নয়। নির্বাচনের প্রকৃত অর্থ হলো বিকল্পের উপস্থিতি, প্রতিদ্বন্দ্বিতা, স্বাধীন সিদ্ধান্ত এবং ফলাফল পরিবর্তনের বাস্তব সম্ভাবনা। কোনো নির্বাচনে যদি ফলাফল আগে থেকেই রাজনৈতিক সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়, তখন সেই নির্বাচন সাংবিধানিক প্রক্রিয়া হতে পারে, কিন্তু সেটিকে অর্থবহ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা বলা কঠিন।

এখানে অবশ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটের প্রয়োজন নেই—এমন বলা সাংবিধানিকভাবে সঠিক নয়। সংবিধান নির্বাচন প্রক্রিয়া নির্ধারণ করেছে; সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই নির্বাচনী ব্যবস্থার রাজনৈতিক দর্শন কতটা গণতান্ত্রিক এবং বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ ?

আরও বড় প্রশ্ন হচ্ছে, রাষ্ট্রপতির পদটি আসলে কতটা ক্ষমতাবান ?

বাংলাদেশের সংবিধান সংসদীয় সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে। রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান হলেও নির্বাহী ক্ষমতার মূল কেন্দ্র প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা। রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেন, কিন্তু তাঁকে এমন একজন সংসদ সদস্যকেই নিয়োগ দিতে হয়, যিনি সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন লাভ করেন।

অর্থাৎ সংসদে যে দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা, কার্যত সেই দলের নেতাই সরকার পরিচালনা করেন। রাষ্ট্রপতির হাতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ক্ষমতা থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করেন।

এ কারণেই বিএনপির বহুদিনের একটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির দিকে এখন ফিরে তাকানো প্রয়োজন।

বিএনপি তাদের রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের ৩১ দফায় রাষ্ট্রের ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা সীমিত করা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় এককেন্দ্রিকতা কমানোর কথা বলেছে। দলটির সংস্কার ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল প্রধানমন্ত্রীকেন্দ্রিক ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীভবন ঠেকানো। ৩১ দফায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের সময়সীমা পরপর দুই মেয়াদে সীমাবদ্ধ করার প্রস্তাবও ছিল।

এখন বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই জনগণের প্রশ্ন—যে সংস্কারের কথা বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় বলা হয়েছিল, ক্ষমতায় এসে তার কতটা বাস্তবায়ন করা হবে?

প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময়।

কারণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনার কথা বলা আর রাষ্ট্রপতিকে শুধু আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে রেখে দেওয়া—এই দুটি এক জিনিস নয়। যদি রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানো হয়, তাহলে রাষ্ট্রপতি কীভাবে নির্বাচিত হবেন, তাঁর রাজনৈতিক বৈধতা কোথা থেকে আসবে, তাঁর ক্ষমতার সীমা কী হবে এবং প্রধানমন্ত্রী ও সংসদের সঙ্গে তাঁর সাংবিধানিক সম্পর্ক কী হবে—এসব প্রশ্নের উত্তরও দিতে হবে।

ধরা যাক, রাষ্ট্রপতির হাতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হলো। বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান কিংবা জাতীয় নিরাপত্তার কিছু ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির স্বাধীন ভূমিকা তৈরি করা হলো। তখন প্রশ্ন আসবে—রাষ্ট্রপতি যদি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক দলেরই মনোনীত ব্যক্তি হন এবং সেই দলের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ সদস্যের ভোটে নির্বাচিত হন, তাহলে তিনি বাস্তবে প্রধানমন্ত্রীর ওপর কতটা সাংবিধানিক নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করতে পারবেন?

এখানেই ক্ষমতার ভারসাম্যের মূল সমস্যা।

শুধু রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ালেই ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হয় না। বরং রাষ্ট্রপতির নিয়োগপ্রক্রিয়াও এমন হতে হবে, যাতে তিনি সরকারের দলীয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে কিছুটা স্বাধীন সাংবিধানিক অবস্থান নিতে পারেন।

বিশ্বের বিভিন্ন সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপ্রধানের ভূমিকা বিভিন্ন রকম। কোথাও রাষ্ট্রপতি সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন, কোথাও সংসদ নির্বাচিত করে, কোথাও সংসদ ও আঞ্চলিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে নির্বাচিত হন। কিন্তু প্রত্যেক ব্যবস্থার পেছনে একটি রাজনৈতিক যুক্তি থাকে—রাষ্ট্রপ্রধানের বৈধতা এবং তাঁর সাংবিধানিক ভূমিকার মধ্যে সামঞ্জস্য।

বাংলাদেশে বর্তমান পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। ফলে সংসদে কোনো একটি দলের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কার্যত সেই দলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের প্রতিফলনে পরিণত হতে পারে।

এখানেই ৭০ অনুচ্ছেদের প্রশ্নটি আবার সামনে আসে।

সংসদ সদস্য যদি নিজের বিবেক অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে না পারেন, তাহলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কতটা স্বাধীন নির্বাচন বলা যায়? আবার ৭০ অনুচ্ছেদ পুরোপুরি তুলে দিলে কি সংসদীয় সরকারব্যবস্থা অস্থিতিশীল হয়ে যাবে? এই দুই প্রান্তের মধ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান প্রয়োজন।

সম্ভবত এ কারণেই সংবিধান সংস্কার নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনায় ৭০ অনুচ্ছেদ পরিবর্তনের প্রশ্নটি বারবার এসেছে। আন্তর্জাতিক রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের ২০২৫ সালের বাংলাদেশ নির্বাচনসংক্রান্ত মূল্যায়নেও ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে সংসদ সদস্যদের নির্দিষ্ট বিষয়ে স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরির প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

অর্থাৎ সমস্যাটি শুধু বিএনপির আজকের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে নয়; সমস্যাটি বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের কাঠামোগত দুর্বলতা নিয়ে।

আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ক্ষমতা পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু ক্ষমতার কাঠামো কতটা পরিবর্তিত হয়েছে—এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা ছিল শুধু একটি সরকারকে সরিয়ে আরেকটি সরকার প্রতিষ্ঠা করা নয়; বরং এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা তৈরি করা, যেখানে কোনো ব্যক্তি বা দলের হাতে রাষ্ট্রের সব ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হবে না। সংবিধান সংস্কার নিয়ে যে আলোচনা হয়েছে, তার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অতিরিক্ত ক্ষমতা কমানো।

তাই বিএনপির সামনে এখন একটি ঐতিহাসিক সুযোগ রয়েছে।

বিএনপি চাইলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেবল একটি সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে শেষ করতে পারে। আবার চাইলে এই নির্বাচনকে একটি বৃহত্তর সাংবিধানিক সংস্কারের সূচনাবিন্দুতে পরিণত করতে পারে।

প্রথম কাজ হতে পারে—রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিশ্চিত করার সাংবিধানিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা শুরু করা। দ্বিতীয়ত, ৭০ অনুচ্ছেদে এমন সংস্কার করা, যাতে সরকার গঠন ও সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থার মতো মৌলিক বিষয়ে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় থাকে, কিন্তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, বিচার বিভাগ বা মৌলিক নাগরিক অধিকারের মতো বিষয়ে সংসদ সদস্যরা বিবেক অনুযায়ী ভোট দিতে পারেন।

তৃতীয়ত, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানোর প্রশ্নে আবেগ নয়, সুস্পষ্ট সাংবিধানিক নকশা দরকার। রাষ্ট্রপতি যদি ক্ষমতাবান হন, তাহলে তাঁর জবাবদিহি কার কাছে থাকবে—এ প্রশ্নের উত্তরও সংবিধানে থাকতে হবে।

সবচেয়ে বড় কথা, ক্ষমতার ভারসাম্য মানে প্রধানমন্ত্রীকে দুর্বল করা নয়; রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করা। রাষ্ট্রপতিকে শক্তিশালী করা মানেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বৈত ক্ষমতার কেন্দ্র সৃষ্টি করাও নয়। বরং লক্ষ্য হওয়া উচিত—সংসদ, বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এমন ভারসাম্য সৃষ্টি করা, যাতে কোনো প্রতিষ্ঠান অন্য সব প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে।

বিএনপি এখন সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে তাদের কথার সঙ্গে কাজের পার্থক্য খুব সহজেই দৃশ্যমান হবে। বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় ক্ষমতার ভারসাম্যের দাবি করা সহজ; কিন্তু বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় গিয়ে নিজের ক্ষমতার ওপর সাংবিধানিক সীমা আরোপ করা—সেটিই প্রকৃত রাজনৈতিক সংস্কারের পরীক্ষা।

আজ বিএনপির ভোটই যদি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ফল নির্ধারণ করে দেয়, তাহলে প্রশ্নটি তাই শুধু ‘ভোটের দরকার কী’—এতটুকু নয়। আসল প্রশ্ন হলো, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের এই প্রক্রিয়া কি বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে আরও প্রতিনিধিত্বশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ করছে?

আরও বড় প্রশ্ন—বিএনপি কি সেই ৩১ দফার সংস্কার বাস্তবায়ন করবে, যার মাধ্যমে তারা একসময় বলেছিল রাষ্ট্রের ক্ষমতার ভারসাম্য ফিরিয়ে আনবে?

ইতিহাসে কোনো রাজনৈতিক দলের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয় ক্ষমতায় যাওয়ার আগে নয়, ক্ষমতায় যাওয়ার পরে। কারণ ক্ষমতার বাইরে থেকে ক্ষমতার সীমা দাবি করা রাজনৈতিক বক্তব্য; আর ক্ষমতায় গিয়ে নিজের ক্ষমতার সীমা নির্ধারণ করা রাজনৈতিক নৈতিকতা।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন তাই বাংলাদেশের জন্য কেবল একজন নতুন রাষ্ট্রপতি বেছে নেওয়ার ঘটনা নয়। এটি একই সঙ্গে পরীক্ষা করবে—২০২৪-পরবর্তী বাংলাদেশ কি পুরোনো ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতিতে ফিরে যাচ্ছে, নাকি সত্যিই একটি নতুন সাংবিধানিক ভারসাম্যের পথে হাঁটছে।

বিএনপি যদি সত্যিই ক্ষমতার ভারসাম্য চায়, তাহলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পরই তাকে ৭০ অনুচ্ছেদ, রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার সীমা এবং সংসদের স্বাধীনতা—এই চারটি বিষয় নিয়ে একটি স্বচ্ছ জাতীয় বিতর্কের উদ্যোগ নিতে হবে।

কারণ জনগণ শুধু নতুন মুখ চাননি; জনগণ চেয়েছেন নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা।

আর সেই নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থার সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা হবে—ক্ষমতায় থাকা দল নিজের ক্ষমতার কতটা সীমা নিজেই মেনে নিতে প্রস্তুত।

লেখক: হাবিব বাবুল
প্রধান সম্পাদক, শুদ্ধস্বর ডটকম

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.