ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৫, সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার

ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপের কাছে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে আঘাত হানা ভূমিকম্পে বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। উদ্ধারকাজ চলায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৫টা ৫৮ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের এন্দে শহর থেকে প্রায় ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-উত্তরপশ্চিমে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার। ভূমিকম্পের পর আধা ঘণ্টার মধ্যে তিনটি শক্তিশালী পরবর্তী কম্পন অনুভূত হয়। এগুলোর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৯, ৫ দশমিক ৬ ও ৬ দশমিক ১।
পূর্ব নুসা তেংগারা পুলিশের প্রধান রুদি দারমোকো জানিয়েছেন, সিক্কা রিজেন্সিতে দুজন এবং মাংগারাই রিজেন্সিতে তিনজন মারা গেছেন। প্রাদেশিক গভর্নর ইমানুয়েল মেলকিয়াদেস লাকা লেনা বলেন, নিহত ব্যক্তিরা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ভবন ধসে পড়ার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে মারা যান।
ভূমিকম্পে বিভিন্ন শহর ও গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে উদ্ধার ও ত্রাণকাজও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের ভিডিওতে ভূমিকম্পে ভবন ও বাড়িঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে। বিশেষ করে মাউমেরে এলাকার আশপাশে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ভূমিকম্পের পর ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা (বিএমকেজি) ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করে। বাসিন্দাদের সৈকত ও নদীর তীর থেকে দূরে সরে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিতে বলা হয়।
পরে সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের সমুদ্রতীর ও ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
ইউএসজিএসের হিসাবে, ফ্লোরেস দ্বীপে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ খুব শক্তিশালী ভূকম্পন অনুভব করে থাকতে পারেন। আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় আরও কয়েক মিলিয়ন মানুষ মাঝারি থেকে শক্তিশালী কম্পনের মুখে পড়েছেন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ভূমিকম্পের পর আরও কম্পন হতে পারে কি না, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। উদ্ধারকারী দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। তবে দুর্গম এলাকা ও যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে।
ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত হয়।
ফ্লোরেস দ্বীপের এই অঞ্চল আগেও ভয়াবহ ভূমিকম্পের কবলে পড়েছে। ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে একই উপকূলীয় এলাকায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর সুনামি আঘাত হানে। ওই ঘটনায় ২ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন।
এবারের ভূমিকম্পের পর ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র এখনো পাওয়া যায়নি। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধারকাজ এগিয়ে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত সংখ্যা স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.