সমাজ জীবনে বিয়ের প্রথা মানেই দুই মানুষের আজীবনের অঙ্গীকার। কিন্তু পৃথিবীর আনাচে-কানাচে এমন কিছু প্রাচীন প্রথা ও অন্ধবিশ্বাস ছড়িয়ে রয়েছে, যা শুনলে চোখ কপালে উঠতে বাধ্য। ঠিক তেমনই এক গা শিউরে ওঠা এবং অদ্ভুত বিয়ের গল্প ফের ঝড় তুলেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যেখানে এক ৭৫ বছরের বৃদ্ধ বিয়ে করেছিলেন কোনও নারীকে নয়, একেবারে একটি পথচলতি কুকুরকে!
কিন্তু এই আজব বিয়ের পরিণতি যা হয়েছিল, তা কল্পকাহিনিকেও হার মানায়।
ঘটনাটি নেপালের এক প্রত্যন্ত অঞ্চলের। মূল চরিত্রের নাম ফুলরাম চৌধুরী। জীবনের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে যখন তাঁর বয়স ৭৫ বছর, ঠিক সেই সময়ে তাঁর মুখ থেকে নতুন করে দাঁত গজাতে শুরু করে। সাধারণত বার্ধক্যে নতুন দাঁত গজানোর বিষয়টি বিজ্ঞানসম্মতভাবে অসম্ভব বা অত্যন্ত বিরল ঠেকলেও, স্থানীয় থারু সম্প্রদায়ের প্রাচীন বিশ্বাস অনুযায়ী এই ঘটনাটিকে চরম অমঙ্গলজনক হিসেবে দেখা হয়। তাদের বদ্ধমূল ধারণা ছিল, বয়স্ক মানুষের নতুন দাঁত গজানো মানেই ভবিষ্যতে বড় কোনও বিপদ, বিপর্যয় বা মৃত্যু ঘনিয়ে আসা।
এই ‘অশুভ ছায়া’ থেকে বাঁচতেই গ্রামের মোড়ল ও পরিবারের লোকজনের পরামর্শে এক আজব পথ বেছে নেন ফুলরাম। কুসংস্কারের বশে একটি পথকুকুরকে পাকড়াও করা হয় এবং প্রচলিত প্রথা মেনে ঘটা করে সেই কুকুরটির সঙ্গেই নিজের ‘বিয়ে’ দেন ৭৫ বছরের বৃদ্ধ! প্রবীণ মানুষটির বিশ্বাস ছিল, এই প্রতীকী বিবাহের মাধ্যমে তাঁর জীবনের ওপর থেকে সমস্ত অভিশাপ ও শনির দশা কেটে যাবে।
কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস ছিল অন্য কিছু। যে বিয়েকে অশুভ শক্তি তাড়ানোর বর্ম বলে ভেবেছিলেন ফুলরাম চৌধুরী, সেই বিয়ের পরেই ঘটে যায় চরম বিপর্যয়।খবর, কুকুরকে বিয়ে করার ঠিক তিন দিন পরেই রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় ফুলরাম চৌধুরীর! যে কুকুরটি ছিল তাঁর তিনদিনের ‘ বউ’, সে একা পড়ে রইল, আর নিমেষের মধ্যে ধুলিসাৎ হয়ে গেল সমস্ত অন্ধবিশ্বাস। কুসংস্কারের হাত থেকে বাঁচতে গিয়েও শেষ রক্ষা হলো না। প্রথার বেড়াজালে ঘেরা এই ঘটনাটি পরবর্তীতে লোকমুখে এক রূপকথার মতো ছড়িয়ে পড়ে, যার মর্মান্তিক পরিণতি আজও মানুষকে অবাক করে।
আধুনিক যুগে দাঁড়িয়ে এই ঘটনাকে কোনো সাধারণ বা স্বাভাবিক বিয়ে হিসেবে দেখা যায় না। লোকসংস্কৃতির নামে সমাজে গেঁড়ে বসা অন্ধবিশ্বাস যে কতটা ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে, ফুলরাম চৌধুরীর এই ঘটনা তারই এক অন্যতম প্রমাণ। নতুন দাঁত গজানোর মতো একটি সাধারণ শারীরিক পরিবর্তনকে মৃত্যুর পরোয়ানা ভেবে একটি কুকুরকে জীবনসঙ্গী করার এই আজব ঘটনা আজও বিশ্বজুড়ে আলোচনার এক অদ্ভুত খোরাক।

