ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নির্মাণাধীন ভাস্কর্য জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভাঙার চেষ্টার প্রতিবাদে দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা নিম্নোক্ত বিবৃতি প্রদান করেছেন।
“ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন সংযোগ সড়কের বেদিতে ঝিনাইদহের কৃতি সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের একটি ভাস্কর্য নির্মাণের কাজ অসম্পূর্ণ অবস্থায় ছিল। হঠাৎ করে একটি খোঁড়া অজুহাত দেখিয়ে কারও সঙ্গে কোনো আলোচনা না করে ভাস্কর্যটি ভাঙার কাজ শুরু করে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন, যা জনমনে গভীর ক্ষোভের সঞ্চার করেছে।
গত ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর স্বাধীনতাবিরোধী একটি গোষ্ঠী নির্মাণাধীন এই ভাস্কর্যটিতে ভাঙচুর চালিয়েছিল। সেই ভাস্কর্য সংস্কার না করে স্বাধীনতা যুদ্ধের সূর্যসন্তানদের অন্যতম বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য নিয়ে এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন ও চরম আপত্তিকর কর্মকাণ্ডের আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনা কমানোর জন্য এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের এই মনগড়া যুক্তিতে ঝিনাইদহের নাগরিক সমাজ, বিশেষ করে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করে এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানকে অসম্মান করার সামিল বলে আমরা মনে করি।
আমরা এ ঘটনার তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে যথাযোগ্য মর্যাদায় ভাস্কর্যটি যথাস্থানে পুনঃস্থাপনের জোর দাবি জানাচ্ছি। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্য ভাঙচুরের যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো সংস্কার ও পুনঃস্থাপনেরও জোরালো দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে এ ধরনের ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।”
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী বিশিষ্ট নাগরিকরা হলেন: আনু মোহাম্মদ, সুলতানা কামাল, খুশী কবির, শিরীন পারভিন হক, আবু সাঈদ খান, ড. ইফতেখারুজ্জামান, অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না, ড. শহিদুল আলম, শামসুল হুদা, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, অ্যাডভোকেট তবারক হোসেন, রেহেনুমা আহমেদ, মো. নুর খান, ড. সুমাইয়া খায়ের, ড. সামিনা লুৎফা, ড. জোবাইদা নাসরীন, রোবায়েত ফেরদৌস, গীতি আরা নাসরিন, ড. মির্জা তাসলিমা সুলতানা, তাসনিম সিরাজ মাহবুব, ড. নোভা আহমেদ, পাভেল পার্থ, ড. ঈশিতা দস্তিদার, রোজিনা বেগম, কাজল দেবনাথ, মনিন্দ্র কুমার নাথ, সালেহ আহমেদ, পারভেজ হাসেম, সাদাব নুর, জাকির হোসেন, অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান, সাঈদ আহমেদ, শাহেদ কায়েস, মিঠুন রাফসান, দীপায়ন খীসা, মুক্তাশ্রী চাকমা, মেইনথিন প্রমীলা, ড. হানা শামস আহমেদ এবং সায়দিয়া গুলরুখ।

