ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভেঙে ফেলা ও অপসারণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। একই সঙ্গে ভাস্কর্যটি বর্তমান স্থান থেকে অপসারণ না করার জন্য সরকার ও প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই ২০২৬) গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই স্বাধীনতাবিরোধী মৌলবাদী গোষ্ঠী ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থান দিয়ে ‘৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধকে প্রতিস্থাপনের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। মুক্তিযুদ্ধে পরাজয়ের গ্লানি ভুলতে না পেরে তারা পরিকল্পিতভাবে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক, ভাস্কর্য ও স্মৃতিচিহ্ন ধ্বংসের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার ঘটনাও সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী স্থানীয় রাজনৈতিক দল, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের আপত্তি ও প্রতিবাদ উপেক্ষা করে জেলা প্রশাসন জোরপূর্বক ভাস্কর্যটি বর্তমান স্থান থেকে অপসারণের উদ্যোগ নিয়েছে।
নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, এ বিষয়ে বাম, প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মতামতকে অগ্রাহ্য করে জেলা প্রশাসন একটি ‘পকেট কমিটি’ গঠন করেছে। তাদের দাবি, সরকারি দলের ছত্রছায়ায় থাকা কিছু বিলবোর্ড ও বিজ্ঞাপন ব্যবসায়ী এবং স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতপন্থি গোষ্ঠী ওই চত্বর দখলের উদ্দেশ্যে এ অপসারণ প্রক্রিয়াকে সমর্থন করছে।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য বর্তমান স্থানে বহাল রাখার দাবি জানান। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক, ভাস্কর্য ও স্মৃতিচিহ্ন ধ্বংসকারী স্বাধীনতাবিরোধী, মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনায় বিশ্বাসী সব ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ, সিপিবির সভাপতি কমরেড সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাধারণ সম্পাদক কমরেড আব্দুল্লাহ ক্বাফি রতন, বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক কমরেড ইকবাল কবির জাহিদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী)-এর সমন্বয়ক কমরেড মাসুদ রানা, বাসদ (মাহবুব)-এর সাধারণ সম্পাদক কমরেড হারুনার রশীদ ভূঁইয়া, সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি কমরেড আব্দুল আলী, জাতীয় গণফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক কমরেড রজত হুদা এবং সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি সৈয়দ হারুন অর রশীদ।

