খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা: কারবালায় ৪০ লাখ মানুষের ঢল

 

ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফে ঐতিহাসিক বিদায় অনুষ্ঠানের পর এবার কারবালায় লাখো মানুষের উপস্থিতিতে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হলো ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়তুল্লাহ আলি খামেনিকে।

 

বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে ইরাকে খামেনির শেষ বিদায়ী জানাজা ও শোকমিছিলে অংশ নিতে কারবালার রাস্তায় লাখ লাখ শোকাতুল মানুষের ঢল নামে। খবর ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির।

ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনী হাশদ আশ-শাবির প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কারবালায় শোক প্রকাশ করতে আসা মানুষের সংখ্যা ছিল ৪০ লাখেরও বেশি। আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হওয়ার অনেক আগে থেকেই শহরের প্রধান সড়কগুলোতে তিল ধারণের জায়গা ছিল না।

 

এর আগে বুধবার সকালে পবিত্র শহর নাজাফে প্রথম শিয়া ইমাম, ইমাম আলী (আ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণ ও আশেপাশের রাস্তায় প্রায় ৩৮ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে একটি অভূতপূর্ব জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপরই প্রয়াত নেতার মরদেহ কারবালায় নিয়ে আসা হয়।

 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের রাজধানী তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত হন খামেনি। তার সঙ্গে একই হামলায় নিহত পরিবারের সদস্যদের মরদেহবাহী কফিনও বুধবার বিকেলে বিখ্যাত ‘আরবাঈন সড়ক’ দিয়ে নাজাফ থেকে কারবালায় নিয়ে আসা হয়। রাতে স্মরণসভার অংশ হিসেবে খামেনির মরদেহ কারবালার ইমাম হোসেন (আ.) ও তার ভাই হযরত আব্বাস (আ.)-এর পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণে নেওয়া হয়।

নাজাফ ও কারবালার এই বিশাল সমাগমকে নির্বিঘ্ন করতে ইরাকি কর্তৃপক্ষ দেশটিতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিল। ইরাকের বিভিন্ন প্রান্ত এবং পাশ্ববর্তী দেশগুলো থেকে লাখ লাখ মানুষ রাতভর যাতায়াত করে এই শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

 

প্রেস টিভির তথ্যানুযায়ী, সপ্তম শতাব্দীতে কারবালার প্রান্তরে ইমাম হোসেনের শাহাদাত বরণ শিয়া মুসলিমদের সংস্কৃতির একটি মূল ভিত্তি। এই পবিত্র শহরগুলোতে শহীদ নেতার মরদেহের উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মাঝে গভীর আবেগ ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য তৈরি করেছে। ইরাকি কর্মকর্তা ও প্রতিরোধ আন্দোলনের নেতারা এই বিশাল জনসমাগমকে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ‘ঐক্য ও প্রতিরোধের বার্তা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

 

সাদ্দাম হোসেনের শাসনামলে ইরাক ও ইরানের মধ্যে তীব্র বৈরিতা থাকলেও, ২০০৩ সালের পর থেকে শিয়া-প্রধান এই দুই প্রতিবেশী দেশের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বন্ধন সুদৃঢ় হয়েছে, যার প্রতিফলন দেখা গেছে এই জানাজায়।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে খামেনির চূড়ান্ত বিদায় অনুষ্ঠান ও দাফন সম্পন্ন হবে। সেখানে অষ্টম শিয়া ইমাম, ইমাম রেজা (আ.)-এর পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণে তাকে সমাহিত করা হবে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.